اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَ نَسْتَغْفِرُهُ وَ نَعُوْذُ بِهِ مِنْ شُرُوْرِ اَنْفُسِنَا وَ مِنْ سَيِّئَاتِ اَعْمَالِنَا ، مَنْ يَهْدِ هِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَاَشْهَدُ أَنْ لَّا اِلٰهَ الَّا اللهُ وَاَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَ رَسُوْلُهُ فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ وَاتَّقُوْا اللهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللهُ وَاللهُ بِكُلِّ شَيْئٍ عَلِيْمٌ وَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ
আল্লাহ তা’আলা মানুষের খাইসিয়তের (স্বভাব) মধ্যে রেখেছেন যে, সে তা’লিম গ্রহন করতে পারে। আর আল্লাহ তা’আলা আম্বিয়া আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালামকে পাঠিয়েছেন মু’আল্লিম হিসেবে। কিন্তু ইলম বা তা’লিম ইত্যাদি সম্বন্ধে আমাদের প্রচলিত যে ধারনা, সেটা মোটেই ঐ ইলম নয় যেটা দিয়ে আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন। আমরা যেটাকে ইলম বলি যেমনঃ জানা, জ্ঞান ইত্যাদি এগুলো সবই হচ্ছে কথা। আর যে ইলম দিয়ে আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন ঐটা কথা নয়। বরং তার বিপরীত বলা যায়।
একজন কিতাব পড়ে, বয়ান শুনে, ওয়াজ শুনে, মাদ্রাসায় গিয়ে বিনয় শিখলো অর্থাৎ বিনয় সম্বন্ধে কুরআন শরীফের আয়াত, বিনয়ের ব্যাপারে কি কি আয়াত আছে, বিনয়ের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কি কথা বলেছেন, হাদীস শরীফে কি কি আছে। যে আয়াতগুলো আছে সেই আয়াতগুলোর তফসীর কি, হাদীস যেগুলো আছে সেগুলোর ব্যাখ্যা কি এগুলো, বিনয়ের সম্বন্ধে খুব শিখলো। শেষ ফল কী হল? অহংকারী হয়ে গেল। যেহেতু ‘আমি বিনয় সম্বন্ধে এত কিছু জানি’ তো সেই জ্ঞান তাকে অহংকারী বানালো। যে জিনিস দেওয়ার ইচ্ছা তার একেবারেই বিপরীত। কারণ যতবেশি সে এই কথাগুলো শিখবে, ততবেশি তার মধ্যে ঐ অহংকার জাগবে বিনয় সম্বন্ধে আয়াত, তাফসীর, হাদীস ইত্যাদি।
তো প্রচলিত পদ্ধতি হল কাউকে যদি বলা হয়, কোন উস্তাদকে যদি বলা হয় যে তাকে বিনয় শিখাও; তো তাকে সেই কথাগুলো শিখাবে। কুরআন শরীফের আয়াত, হাদীস ইত্যাদি। আর যতবেশি এগুলো শিখবে, ততবেশি সে অহংকারী হবে।
নবুয়্যতী তরিকা এটা না। নবুয়্যতী তরিকায় ইলম বা শিক্ষা কথার মাধ্যমে হয় না, ঐটা হয় হালাতের মাধ্যমে, অবস্থার মাধ্যমে। নবুয়্যতী তরিকায় কিভাবে শিখবে? কারও গোলাম হয়ে গেল- আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তা’লিম দিয়ে থাকেন।
সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু; উনি ছিলেন উনার অঞ্চলের প্রধানের ছেলে। দিহকান বলে। পুরোহিতও আর প্রশাসনিকভাবেও একটা অঞ্চলের প্রধান। তো বড় পরিবারের ছেলে। একেবারে রাজার পরিবার নয়, কিন্তু একটা আঞ্চলিক প্রধানের ছেলে। তারপর আল্লাহ তা’আলা উনাকে হেদায়েতের তলব দিলেন। তো হেদায়েতের জন্য উনি বের হলেন। তখনকার ধর্ম ওখানে প্রচলিত ছিল খ্রিস্টান ধর্ম। উনি বললেন আমি এই ধর্ম আরো ভাল করে শিখতে চাই। তো লোকেরা প্রথমেই বলল যে তোমাকে এই ধর্ম শিখতে হলে দামেস্কে যেতে হবে। ঐ নবুয়্যতী যমানা কাছে থাকার কারণে শিখার অর্থ বা পদ্ধতি নবুয়্যতী পদ্ধতির কাছে। একথা বলেননি যে শিখতে চাও তো মাদ্রাসায় ভর্তি হও, বই কিনো, লিখাপড়া শিখো তা নয়। বরং তোমাকে অমুক উস্তাদের কাছে গিয়ে থাকতে হবে।
তো পাঠাল দামেস্কে। তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে দামেস্কে চলে গেলেন দ্বীন শিখবার জন্যে। কিভাবে শিখা? সোহবত। সঙ্গে থাকা। ক্লাস-টালাস কিছু নাই। শুধু উনার সঙ্গে থাকো আর খেদমত করো। তো যার সঙ্গে উনাকে রাখা হল; কাছে থাকার কারণে বুঝতে পারলেন যে লোকটা (পুরোহিত) আসলে অসৎ। গরীব দুঃখীর কথা বলে, দান খয়রাত করার কথা বলে লোকের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়, কিন্তু করে না; নিজে রেখে দেয়। উনি যেহেতু খাদিম, তাই বুঝতে পারছেন।
তো প্রথমে বিরাট একটা পরীক্ষার মধ্যে পড়লেন যে, এর সোহবতে থাকছেন দ্বীন শিখবার জন্যে আর লোকটা অসৎ। ওর কাছ থেকে কী দ্বীন শিখবেন? তো মহা একটা মনের কষ্টের মধ্যে থাকলেন। যেতেও পারছেন না, আর এই চোরের সাথে থেকে লাভটাই বা কি? তো প্রথম তা’লিম এই দ্বীনের মধ্যে সবর শিখানো। মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খিজির আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন, খিজির আলাইহি বললেন,
إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا
‘তুমি তো আমার সাথে সবর করতে পারবে না’।
মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবর করার শর্ত মানলেন, ‘আমি সবর করবো’। যদিও শেষ পর্যন্ত সবর করতে পারেননি।
তো প্রথম তা’লিম হচ্ছে সবরের। সবর কথা দিয়ে শিখানো হল না। কিভাবে শিখানো হল? যে পীরের কাছে উনি থাকছেন দ্বীন শিখবার জন্যে আর কিছুদিন থাকার পরে বুঝতে পারছেন যে পীর তো ঠগ। তো এই পীরকে পীর হিসেবে রাখতেও হচ্ছে আবার ঠগ- এই কথা অস্বীকারও করতে পারছেন না। তো কী কঠিন বিপরীত অবস্থার ভিতর থাকতে হচ্ছে! তো আল্লাহ তা’আলা উনাকে সবর শিখাচ্ছেন। কিন্তু এই সবর শিখাচ্ছেন সবরের বয়ান দিয়ে নয়, এক ভন্ডের মুরীদ বানিয়ে। টাকা-পয়সা লোকের কাছ থেকে নেয় দান খয়রাতের কথা বলে আর নিজে জমা করে। আর একদিন দুইদিন নয়। অনেক বছর এর কাছে থাকলেন। তারপর সে মরল। মরার পরে দ্বিতীয়জন যখন এল, এই দ্বিতীয়জন ভাল মানুষ ছিল। আল্লাহর ওয়াদা আছে-
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
‘কষ্টের পরে আরাম আছে’
কিন্তু এই কথা আমি বলে ফেললাম, একটা আয়াত, এক মিনিটও লাগল না। কতক্ষন লাগলো? এক মিনিট লাগলো? এক মিনিটের চেয়ে কম। তোমরাও শিখে ফেললে। আমিও শিখালাম, তোমরাও শিখলে। এক মিনিটও লাগলো না। কিন্তু সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই কথা শিখতে লেগেছে বহু বছর। বহু বছর এক ভন্ডের অধীনে থাকলেন, তারপর সেই ভন্ড মরে যাওয়ার পরে একজন সৎ লোক পেলেন। তো প্রথমে যে কষ্ট- এটা বাহ্যিক কষ্ট নয়, রুহানী কষ্ট। একজন অসৎ লোক; তাকে সম্মান শ্রদ্ধা করতে হচ্ছে, তার অনুসরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু মনে মনে জানেন যে লোকটা অসৎ। তো বড় কঠিন একটা রুহানী চাপের মধ্যে। ছেড়ে দিতে পারছেন না। তারপর ভাল লোক পেলেন। এটাও শিখলেন যে কষ্টের পর আল্লাহ তা’আলা ভাল দেন। কিন্তু কথা দিয়ে নয় হালাত দিয়ে, অবস্থা দিয়ে।
বহু বছর থাকলেন। বহু বছর থাকার পরে তার মারা যাওয়ার যখন সময় হল, তখন জিজ্ঞেস করলেন যে তোমার পরে আমি কোথায় যাবো? উনার শিখার এখনো শেষ হয়নি। আর শিখা কোন ডিগ্রী নেওয়াও নয়, পরীক্ষাও নয়, কলমও নয়, কোন কথাও নয়। চুপচাপ ইনার সঙ্গে থাকা- এটাই শিখলেন। উনি ঐ পুরোহিত বললেন যে, তুমি যাকে চাও, যার কাছে তুমি ইলম পাবে, সেই লোক এই দামেস্ক শহরে নাই। তোমাকে যেতে হবে আরেক শহরে, নাসিবিন। ওখানে অমুকের কাছে।
আভাস ইঙ্গিত দিয়ে পাঠালেন আর ওখানে গিয়ে উনাকে পেলেন। তার কাছে থাকলেন অনেক বছর। থেকে কী করছেন? কোন রুটিন, সকাল বেলায় ক্লাস, বিকাল বেলায় ব্যায়াম? থাকছেন, ব্যাস। এটাও বিরাট এক সবরের শিক্ষা। কি শিখছি জানিনা।
তো সাহাবারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শিখেছেন। আবুবকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু তেইশ বছর ছিলেন। তেইশ বছর তা’লিম পাবার পরে আবুবকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে যে ‘আপনি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে থাকলেন, তো কী শিখেছেন?’ সম্ভবত উনি কসম খেয়ে বলতেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি কিচ্ছু শিখিনি, কিচ্ছু শিখতে পারিনি’। হাদীস শিখেছেন? তাফসীর? ফিক্বাহ? ফতোয়া? কী শিখেছেন? কিচ্ছু না। জিন্দেগী বরবাদ হয়েছে! আর কসম করে বলতেন, পুরা বিশ্বাস নিয়ে। এর মোকাবিলায় আমরা যে জিনিস শিখি, তো শিখলাম কিছুদিন। তারপর কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করে যে ‘কি মিয়া, কী শিখেছ?’ উত্তর হবে, ‘কোথায় পড়েছি, একটু খোঁজ নিয়েছিলে? প্রশ্ন করার আগে একটু প্রস্তুত হয়ে আসতে হয়। কার সাথে কি কথা বলছো টের পাও না’? কিন্তু আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু নিশ্চয় কসম খেয়ে বলতেন ‘কিচ্ছু শিখিনি’। পুরা ইয়াক্বিন নিয়ে, আর এটাই উনার শিক্ষা।
রশীদ আহমাদ গাংগুহী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার এক মজলিসে একবার বললেন যে, আল্লাহর কসম, আমি একেবারে নালায়েক। মানে আমার কাছে কেউ মুরীদ থেকে বা আমার কাছে থেকে তার কোন ফায়দা নাই, যেহেতু আমি নালায়েক। বলছেন আল্লাহর কসম খেয়ে। উনি উঠে যাওয়ার পরে উপস্থিত আলিম যারা ছিলেন, তারা একটা তর্কের মধ্যে পড়ে গেলেন যে, বিনয় ঠিক আছে যে ‘আমি অযোগ্য’। কিন্তু আল্লাহর কসম খেয়ে মিথ্যা কথা বলা- ঐটা মাসআলার দিক দিয়ে ঠিক কিনা? এমনিই বলতেন যে আমি অযোগ্য- তাহলে ঠিক আছে, ঐটুকু বিনয় ঠিক আছে। কিন্তু আল্লাহর কসম খেয়েছেন, আর আমরা জানি যে উনি অযোগ্য না। তো আল্লাহর কসম খেয়ে একটা মিথ্যা কথা বললেন- এটা কি ঠিক হল? এই মহা সমস্যার মধ্যে ওখানে উপস্থিত আলিমরা পড়েছেন। একজন আলিম এর সমাধান দিলেন যে, বিলকুল ঠিক আছে। উনি আল্লাহর কসম খেয়েছেন পুরা ইয়াক্বিনের সাথে, বানিয়ে নয়। সেই জন্য উনার কসম খাওয়া ঠিক আছে।
তো আসল ইলম ঐটাই- যে ইলমের কোন নামই নাই। আর যে ইলম হাসিল করছে সে জানেও না। আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুও সবর শিখেছেন, বিনয় শিখেছেন। তো সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু বহু বছর উনার কাছে থাকলেন। অনেক বছর থাকার পরেও, আর এটাও সবরেরই একটা অংশ, তালিম যে আমি কি শিখছি তা জানি না, কি পাচ্ছি বুঝিনা, বেকার।
মাওলানা এনামুল হাসান রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্ভবত মাওলানা ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহির হায়াতে থাকতেই হঠাৎ করে একবার কি মাথার মধ্যে এসেছে, গাট্টি নিয়ে রওনা হয়েছেন যে বাড়ি চলে যাবেন। কেন? আমার এখানে থেকে কী লাভ? না নিজের না পরের। এখানে আছি, কারও কোন কাজে লাগিনা। উনি কোন কাজে লাগতেনও না। একেবারেই কোন কাজের না। আর কথাও বলেন না। হযরতজী হওয়ার পরে বাধ্য হয়ে কিছু বয়ান, দু’আ করতে হত। তাও কয়েকটা মুখস্ত শিখেছেন। আমি শুনেছি, উনি নাকি ছয় নম্বর শিখেছেন হযরতজী হওয়ার পরে। এর আগে নাকি ছয় নম্বরও জানতেন না! তো এখানে আছি, কোন কাজে লাগিনা, আর বেকার এখানে থেকে কী লাভ? রওনা হয়েগেছেন। কারও কোন কাজে লাগলে না হয় থাকতাম!
তো এইটাও দ্বীনের বড় একটা তা’লিম যে, নিজেকে বেকার মনে করা। কোন কাজের না। মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির সম্বন্ধে বড় এক ওলীআল্লাহ বলেছিলেন যে, “এই লোক আল্লাহওয়ালা”। কেউ জিজ্ঞেস করল, কেমন করে বুঝলেন? উনি বললেন, “আমি চিন্তা করে দেখলাম দ্বীনের যে কাজ আছে, এই কাজ ছাড়া দুনিয়ার আর কোন কাজে একে লাগবে না”। কোন একটা কাজ নেই যে কাজ তার দায়িত্বে দেওয়া হয়- সে ঠিকমত করতে পারবে। ছোট থাকতে উনার ভাই মাওলানা ইয়াহইয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির দোকানে কাজ করতেন। বইয়ের দোকান ছিল। তো দোকানে বই বাধা, প্যাক করা ইত্যাদির কাজ করতেন। তো বইয়ের দোকানের ম্যানেজার একজন ছিলেন। উনিই ম্যানেজার, উনিই একাউন্ট্যান্ট, উনিই কর্মচারী সবই। আর সাথে মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন। একবার মাওলানা ইয়াহইয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে এসে ঐ ম্যানেজার একটু আপত্তি, অভিযোগের সুরে বললেন যে, ‘ও তো কোন কাজের না’। কোন একটা কাজ করেও না, করতে পারেও না। এই অভিযোগ করাতে মাওলানা ইয়াহইয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার উপর খুব নারাজ হয়েছেন । আর উনাকে হাদীস শুনিয়েছিলেন-
هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلا بِضُعَفَائِكُمْ؟
‘তোমরা কি তোমাদের দুর্বলদের কারণেই রিযিক পাওনা?’
মাওলানা ইয়াহইয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাখতেন ঠিকই, কিন্তু এইজন্য রাখতেন যে, এই বেকার লোকের দ্বারা হয়তো রিযিক আসবে। তো জাহেরীভাবে কোন কাজেরও না।
তো সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থাকলেন। শিখছেন, কী শিখছেন জানেন না। এমনিই আছেন। উনার মারা যাওয়ার সময় আবার ঐ কথা যে, ‘তোমার পরে কোথায় যাবো?’ তখন বললেন যে, আমুরিয়ায় যেতে হবে। অমুকের কাছে। তো গেলেন। গিয়ে তার কাছে বহুবছর থাকলেন। উনারও মারা যাওয়ার যখন সময় হল, আবার সেই একই পুরোনো প্রশ্ন যে, এর পরে আমি কোথায় যাবো? তখন বললেন যে এখন আখেরী জমানার নবী আসবার সময় এসে গেছে, তুমি সেই নবীর সন্ধানে বের হও। কিছু আভাস ইঙ্গিত দিলেন; উটের দেশ হবে, খেজুরের দেশে হিজরত করে চলে যাবেন, সদকা খাবেন না, হাদিয়া খাবেন আর পিঠে নবুয়্যতের একটা বিশেষ চিহ্ন আছে। উনার মনে হল যে মক্কার দিকে হতে পারে। মক্কার লোক ব্যবসার জন্যে শাম দেশে যেত। ব্যবসায়ী কাফেলাকে পেলেন, উনার কাছে টাকাপয়সা অল্প-স্বল্প যা ছিল সেগুলো তাদেরকে দিলেন আর দিয়ে বললেন যে তোমরা আমাকে তোমাদের সাথে মক্কায় নিয়ে যাও। তারা উনাকে সাথে নিল, টাকাও নিল, আর আর কিছুদূর গিয়ে তাঁকে গোলাম হিসেবে বিক্রিও করে দিল। আরও লাভ! টাকা যেগুলো পেয়েছিল সেগুলো তো পেয়েছিলই, উনাকে বিক্রি করে আরও কিছু পয়সা পেল। এখন উনি হয়ে গেলেন গোলাম।
তো কোথায় মক্কা যাবেন আর নবীকে খুঁজবেন, আর হয়ে গেলেন গোলাম! আর গোলাম তো যাবজ্জীবনের চেয়েও কঠিন। যাবজ্জীবন তো সতের বছর, ত্রিশ বছর হয় আর এরপরে বের হয়ে যায়। গোলাম তো কোনদিন বের হতে পারে না। তো গোলাম হয়ে গেলেন। বহু বছর গোলাম হিসেবে থাকলেন। উনার মালিক ছিলো ইহুদী, সেই মালিকের আত্মীয় ছিল মদীনার বনু কুরায়যায়। তারা তাদের আত্মীয়র কাছে উনাকে বিক্রি করে দিল। বনু কুরায়যা ওয়ালারা তাদের নতুন গোলাম কিনেছে আর কিনে নিয়ে এল মদীনায়। এনে খেজুরের বাগানের কাজে লাগালো। তো উনি যেটা চাচ্ছিলেন যে রাসূল সাল্লাল্লাাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাওয়া; ভুল পথে রওয়ানা হয়েছিলেন মক্কায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদীনার দিকে চলে এসেছেন, আল্লাহ তা’আলা উনাকে পথ ঠিক করে দিয়ে আর গোলাম বানিয়ে মালিকদের দ্বারা মদীনায় আনালেন। নিজের খরচে আসতে হত, গোলাম হিসেবে ফ্রি আসলেন। যারা আনলো তাদের খরচ। কিন্তু গোলাম হয়ে এলেন। তো তাদের কাছে গোলাম হয়ে থাকলেন অনেক দিন। এই গোলামী থাকার ভিতর দিয়ে আল্লাহ তা’আলা উনাকে সবরও শিখাচ্ছেন, বিনয়ও শিখাচ্ছেন। বিনয় শিখাবার নবুয়্যতী তা’লিম ঐ বিনয়ের হাদীস আর আয়াত নয়। বিনয় শিখাবার নবুয়্যতী তা’লিম হচ্ছে গোলাম বানিয়ে দেওয়া। গোলাম হিসেবে যখন সে বহুবছর থাকবে, সে নিজেও বুঝবে ‘আমি গোলাম’; তো অহংকার এমনিই চলে যাবে। গোলাম, ওর আবার অহংকার কিসের! ও তো গোলাম! তো আল্লাহ তা’আলা বিনয় শিখাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু কথা দিয়ে নয়, গোলাম বানিয়ে।
জুনায়েদ বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহির এক মুরীদ ছিলেন। তো সেই মুরীদ কোন কাজে বের হয়েছেন বা বোধহয় হজ্জ্বে যাচ্ছিলেন। পথে কোন এক জায়গায় এক ধনী লোকের কাপড়ের ব্যবসা ছিল, কাপড় বানাবার। তো তখনকার কাপড় তো হাত দিয়ে বানাতে হত, কারখানা তো আর নয়। অনেক শ্রমিক আছে, আর শ্রমিকরা গোলামই থাকে। উনার একজন শ্রমিক যার নাম খায়ের, ঐ খায়ের পালিয়ে গেছে। এই ঘটনার কয়েকটা ভার্সন আছে। ঐ সময়ে বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মুরিদ ঐ পথ দিয়ে অতিক্রম করছেন। কোন এক জায়গায় বিশ্রামে বসেছেন। সেই কারখানার মালিক ঐদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পালিয়ে যাওয়া শ্রমিক গোলাম খায়ের আর ইনার (জুনায়েদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির মুরিদ) চেহারা প্রায় একই ধরনের। একে পেয়েই বলেছে, ‘এই ব্যাটা, এখানে কোথা থেকে এলে’! তারপর তাকে ধরেছে, পালিয়ে যাওয়ার কারণে মেরেছে আর নিয়ে গিয়ে কাজে লাগিয়েছে। এভাবে ছিলেন দশ বছর। উনি দশ বছর সুতার কাজ করেছেন। তো উনার নামই হয়ে গেছে খায়ের। আর সুতার কাজ করতেন। নাসিজ মানে সুতার কাজ যে করে। বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মুরিদ ছিলেন। উনার উপাধী ছিল খায়রুন নাসিজ।
তো আল্লাহ তা’আলা উনাকে বিনয় শিখাচ্ছেন। কিন্তু বিনয় শিখাচ্ছেন বিনয়ের কথা দিয়ে নয়, বিনয় শিখাচ্ছেন গোলাম বানিয়ে। এবং একদিন দুই দিন নয়, এক চিল্লাও নয় যে শেষ। দশ বছর! দশ বছর ঐ খাটুনী খাটলেন, কিন্তু ভিতরে একটা তা’লিম হচ্ছে। তো নবুয়্যতী তা’লিম হালাত দিয়ে।
মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাামকে আল্লাহ তা’আলা পরীক্ষায় আনলেন। পরীক্ষা হয় হালাত দিয়ে, কথা দিয়ে নয়। অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়ে। দুনিয়ার শিক্ষা যেগুলো হয় এগুলো কথা; বাস্তবে কোন কাজেই লাগে না। এক জায়গায় ট্রেনিং নিয়েছে, ‘ফার্স্ট এইড’ ট্রেনিং। হঠাৎ করে কেউ যদি পড়ে যায়, আগুন লেগে যায়, ইলেক্ট্রিক শক লেগে যায় তাহলে কি করতে হবে ইত্যাদির উপর ৩ মাসের একটা কোর্স। কেউ অজ্ঞান হয়ে গেল; তাকে গিয়ে কিভাবে কৃত্রিমভাবে রেসপিরেশন দিতে হয়, কিভাবে যত্ন করতে হয়, এগুলোর উপর ফুল কোর্স একটা ট্রেনিং হয়েছে তিন মাসের। এখন ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। সবাই রেডি। প্রথম প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেছে আর ক্লাসে ঢুকেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তো ট্রেনিং প্রাপ্ত ছাত্র যারা, এরা সবাই ফুল ট্রেনিং পেয়েছে, এবার সার্টিফিকেট পাবে; কেউ তার জায়গা থেকে নড়েনি। টাইট বসে আছে। আর কিচ্ছু করেনি। এতদিন ধরে যে শিখলো কি কি করতে হয়, ফার্স্ট এইড কিভাবে দিতে হয়- এগুলোর কিছুই করেনি। সবাই চুপচাপ বসে আছে। তারপর ঐ প্রফেসর উঠল। আসলে সে অজ্ঞান হয়নি, সে দেখতে চেয়েছিল যে আসলে এরা কি করে। তো ভান করে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। তারপর যখন কেউ কিছু করলো না তখন নিজেই উঠলো আর উঠে জিজ্ঞেস করলো, ‘এতদিন তোমাদের যে ট্রেনিং দিলাম অজ্ঞান হলে কী করতে হয়, তো তোমরা কী করলে?’ ওরা সবাই বলল যে ‘স্যার, আমরা তো ভেবেছি আপনি ঠিকই অজ্ঞান হয়ে গেছেন!’ যদি জানতাম যে আপনি ভান করছেন ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবে, তাহলে তো আমরা সবকিছু করতাম! কিন্তু রিয়াল কেইস ভাবার কারণে কিছুই করিনি। তো ওরা যে শিক্ষাটা পেয়েছে, সেই শিক্ষার বুনিয়াদই হল যে, ঐটা রিয়াল নয়। রিয়াল হলে কাজে লাগবে না। নাটক হলে কাজে লাগবে।
গোটা দুনিয়ার তা’লিম এরকমই। আর দ্বীনের তা’লিম তার ঠিক বিপরীত, আসল জিনিস। তো মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা’আলা শিখালেন, ‘পানিকেও ভয় করবে না, ফেরাউনকেও ভয় করবে না’। কিভাবে শিখালেন? প্রথমেই উনাকে বাক্সের ভিতর পানিতে ছাড়া হল। তারপর গিয়ে পড়লেন ফেরাউনের হাতে। এরপরে আরও লম্বা। কিছুকেই ভয় করবে না, জাহেরী কোন সুরতকে না। সাপকে লাঠি বানিয়ে দেখালেন; ভয় করবে না। লাঠিকে সাপ বানালেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এইসব কিছুর পরে এখন ফাইনাল পরীক্ষা। ফাইনাল পরীক্ষা কেমন? সামনে সমুদ্র আর পিছনে ফেরাউনের বাহিনী।
তো ফাইনাল পরীক্ষা হলে দুনিয়ার নিয়ম হল যে প্রশ্ন দেওয়া হল, এখন উত্তর লিখ। আর এখানে ফাইনাল পরীক্ষা ময়দানে নিয়ে। সামনে সমুদ্র আর পিছনে ফেরাউন। এখন দেখি কী কর? তো মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ভয় পেলেন না। ব্যাস, এটাই পাশ। হালাতের উপর। তো আসল তা’লিমও হবে হালাত দিয়ে, আর পরীক্ষাও হবে হালাত দিয়ে। আর দুনিয়ায় শিক্ষাও কথা, পরীক্ষাও কথা। এই কথার শিক্ষা কোন কাজে লাগে না।
الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ
আখিরাতে মুখের উপর আল্লাহ তা’আলা তালা লাগিয়ে দিবেন। কথা শেষ। কোন কথা চলবে না। হাত-পা দিয়ে কথা বলাবেন। আর হাত-পা দিয়ে কথা কী? এগুলো আমাল। ঐ আমাল ওয়ালারা প্রকাশ করবে আর মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। তো সারাজীবন মুখ দিয়ে যা কিছু শিখেছে সব বেকার! এখন মুখ বন্ধ, আ’মাল, হাত-পা দিয়ে যা শিখেছে ঐটা চলবে।
আল্লাহ তা’আলা বড় মেহেরবাণী করে আমাদের দ্বীন দিয়েছেন। আল্লাহর পথে বের হয়ে দ্বীন শিখি, কিন্তু কথা দিয়ে নয়। এতদিন কথা দিয়ে জিহাদ শিখেছে খুব। কথা সব জিহাদের হয়েছে প্রচুর। শানদার জিহাদের বয়ান। আমতলায় বক্তৃতা হচ্ছে, ‘জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাবো’। আর যেমনি দেখেছে পুলিশের গাড়ি, ঐ বাক্য শেষও করতে পারেনি, দিয়েছে দৌড়! তো না শেষ রক্তবিন্দু আর না প্রথম রক্তবিন্দু।
দ্বীনের তালিম ঐরকম নয়। দ্বীনের তা’লিম হালাত দিয়ে। মক্কাতে যারা প্রথম তা’লিম পেয়েছেন, হালাতের ভিতর দিয়ে গেছেন, পরবর্তীরা তাঁদের নাগাল আর পায়নি। খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছুই করেন নি; যদিও প্রচুর করেছেন কিন্তু আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর তুলনায় কিছুই করেননি। এই তুলনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই করেছেন।
مَهْلا يَا خَالِدُ دَعْ عَنْكَ أَصْحَابِي ؛ فَوَاللَّهِ ، لَوْ كَانَ لَكَ أُحُدٌ ذَهَبًا ثُمَّ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا أَدْرَكْتَ غَدْوَةَ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِي وَلا رَوْحَتَهُ
‘সাবধানে খালিদ! ওহুদের মত সোনাও যদি তুমি খরচ করে ফেল, তাহলেও ওদের এক সকাল অথবা এক বিকালের নাগাল পাবে না’।
তাঁরা প্রথম দিকে করেছেন, তাঁরা যে হালাতের ভিতর দিয়ে গেছেন! তবলীগে যারা প্রথম যামানায় সময় লাগিয়েছেন মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির যমানায়, তাঁদের তিন দিন পরবর্তীকালের তিন বছরেরও সমান নয়। উনারা হালাতের ভিতর দিয়ে গেছেন। দিল্লীতে কোন মসজিদেই ঢুকতে দিত না। ‘এইসব গ্রামের লোক’! আর তারা উঠা জানতোও না। প্রথম বড় সমস্যা ছিল শহরে গিয়ে বাথরুমে পেশাব পায়খানা করা। বাথরুম কোথায়, এটা তো একটা ঘর! এটাতো এমন এক কাজ যেটা বাইরে করতে হয়, সবসময় বাইরেই গেছি। ঘরের ভিতরে করে কিভাবে, গোটা ঘর নষ্ট হয়ে যাবে না!
বড় পেরেশান ছিলেন। তারপর তারা শোত খোলা জায়গায়। মসজিদের ভিতর ঘুমাতে পারতো না ভয়ে, যদি ছাদ পড়ে যায়! তো নিজেরও ভয় প্লাস দিল্লীর ভদ্রলোকরা এদেরকে মসজিদে ঢুকতে দিত না, চাল-চলন, পোশাক সবকিছু মিলিয়ে। তার উপর বিদ’আতীদের উৎপাত। তো ঐভাবে তাঁদের তা’লিম। যার ফলে কিছুদিন সময় লাগানোর দ্বারাই যে রুহানী তরবীয়্যত হয়েছে, ঐটাই আসল তরবীয়্যত। আল্লাহ তা’আলা মেহেরবাণী করে আমাদের দ্বীন দিয়েছেন, আল্লাহ যদি কারও জন্য কবুল করেন, তো তার জন্য উপযুক্ত আসবাব নাযিল করেন। কেউ তরবীয়্যত চায়, তো তরবিয়্যতের জন্য যদি এসব হালাতের দরকার হয় যে তোমাকে মসজিদ থেকে বের করা হবে, তো আল্লাহ তা’আলা সেই হালাত পয়দা করে দিবেন। কোথা থেকে আসবে মানুষ সেটা জানে না।
উমর রাদিয়াল্লাাহু আনহু দু’আ করলেন যে, ‘হে আল্লাহ, আমাকে মদীনাতে শাহাদাত দাও’। লোকে বলল যে শাহাদাত চাইতে হলে তোমাকে যেখানে শাহাদাত পাওয়া যায় ঐখানে যেতে হবে। মদীনায় কেমন করে পাবে? নিরাপদ জায়গা। কিন্তু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুরো ইয়াক্বিন ছিল যে আল্লাহ পারেন। তো দু’আ করলেন; আমাকে শাহাদাত দাও আর মদীনাতেই দাও। কারণ মদীনার বাইরে যাওয়া উনার জন্য মুশকিল। আর লোকে বলে এখানে তো নিরাপদ। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা উনাকে মদীনাতেই শাহাদাত দিলেন আর এমন সময়, এমন জায়গায় দিলেন; যে এর চেয়ে বেশি নিরাপদ জায়গা আর হতে পারে না। মসজিদের ভিতরে ইমামতের সময়। যেখানে বিরাট জামাত উনার পিছনে নামায পড়ছে, ঐসময় শহীদ হয়েছেন। নামাযের ভিতর এসে মেরেছে। তো মদীনাতে, মসজিদে নববীতে, মিম্বরে আর বিশাল জামাআতের সামনে, আল্লাহ তা’আলা তার কুদরত দেখালেন। আল্লাহ যদি চান তো এই জায়গায়, এইভাবে উনাকে শহীদ বানাতে পারেন। এর চেয়ে বেশি নিরাপদ জায়গা চিন্তাই করা যায় না।
তো বান্দা যখন হেদায়েত চায়, আল্লাহ যদি তাকে হেদায়েত দিতে চান তো সেক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য উপযুক্ত আসবাব নাযিল করেন। আল্লাহ তা’আলার একটা নাম ‘মুসাব্বিবুল আসবাব’, উপকরণ সৃষ্টিকারী। কোথা থেকে কোন উপকরণ পয়দা হয়ে যাবে মানুষ তা চিন্তাও করতে পারবে না। তো এই জমানায় তবলীগের লোক তবলীগওয়ালা হওয়ার কারণে মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছে। তবলীগওয়ালা যদি না হত, তাহলে মসজিদে থাকতে দিত। কিন্তু তবলীগওয়ালা; অতএব মসজিদে থাকতে পারবে না। আর তবলীগওয়ালারাই বের করে দিচ্ছে। এটা কোনভাবেই মাথায় ঢুকত না। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এটা করছেন। তো আল্লাহ তা’আলা যদি কাউকে দিতে চান তো দিবেন।
ঐ আগের অবস্থা আল্লাহ তা’আলা যদি সৃষ্টি করে দেন, তো আগের হালাতে যারা সময় লাগিয়েছেন, তাঁরা যে ফায়দা পেয়েছেন, পরের জমানা হওয়া সত্বেও ঐ ধরনের হালাত হওয়ার কারণে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকেও ইনশাআল্লাহ ঐ তরক্কী দান করবেন। সে যে জমানায়’ই হোক। কারণ তরক্কি তো হা’লাতের ভিতর দিয়ে। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকুর আদায় করা। কঠিন জিনিস, জাহেরীভাবে কিছু কঠিন, কিন্তু ভিতরে আল্লাহ তা’আলার বড় নিয়ামত। যাকে নির্বাচন করা হয়, তাকে তার জন্য প্রস্তুত করে নেওয়া হয়। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা’আলা নির্বাচন করেছেন
وَٱصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِى
‘আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য পছন্দ করেছি’
এর পরবর্তী কথা কী?
وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا
‘তোমাকে পরীক্ষার মত পরীক্ষা করেছি’
বিভিন্নভাবে আল্লাহ তা’আলা উনাকে বাজিয়ে দেখেছেন। যখন নির্বাচন করা হয়েছে, এই নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত বানানো হয়েছে।
إن الله إذا أحب الله عبداً ابتلاه، فإن صبر اجتباه، فإن رضي اصطفاه
আল্লাহ তা’আলা যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন। যদি সে সবর করে, তাহলে তাকে ‘ইজতিবা’ করেন। নির্বাচিত হয়ে যায়। আর যদি ঐটার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যায়; যেটা সবরের উপরের ধাপ। সবর হল কষ্ট হচ্ছে, সবর করলাম। আর ‘রাদি’ হল যে কষ্টই হচ্ছে না, ভালই লাগছে। তো যদি রাদি হয়, ‘রিদা’- সবরের উপরের দরজা, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাকে ‘মুস্তফা’ বানান।
আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ছেলের ক্বাতিল উনার সামনে। আর উনার হাতে সব ক্ষমতা। ছেলের ক্বাতিল বর্ণনাও দিল যে, এই তীর আমিই বানিয়েছি, আমিই ধার দিয়েছি, আমি পালক লাগিয়েছি আর এই তীর আমিই নিক্ষেপ করেছি। আর ঐ তীরে উনার ছেলে মারা গিয়েছে। আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এই কথা বলতে পারতেন যে এইসব কাজ তুমি করেছ জাহেলীয়্যাতে, মুসলমান হওয়ার আগে, আর এখন তো মুসলমান হয়ে গেছ। অতএব আর কোন প্রতিশোধ নিব না, আর আমি তোমাকে মাফও করলাম আর আমি সবর করবো। এই কথা বলতে পারতেন। যদি এই কথা বলতেনও- এই কথা খারাপ কথা নাকি? ভাল কথা ‘আমি সবর করলাম, তোমাকে মাফ করলাম’। কিন্তু আবুকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু সবরও করেননি, তাকে মাফও করেননি, উনি শুকুর করলেন। বড় ভাল করেছো। যদি কেউ ভাল কাজ করে তাহলে কেউ বলবে নাকি যে তোমাকে মাফ করলাম, শুকুর করবে। তো উনার ছেলের হত্যাকারীর সামনে আবুবকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু সবরও করলেন না, তাকে মাফও করলেন না, বরং আল্লাহর কাছে শুকুর আদায় করলেন। সবর নয়, রাদা; তার উপরের জিনিস। সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া।
তো আল্লাহ তা’আলা আমাদের দ্বীন দিয়েছেন।
আল্লাহ যদি মেহেরবাণী করে আমার তরবিয়্যতের জন্য কিছু কষ্টের মধ্যে ফেলেন, তাহলে কমপক্ষে নিম্নমানের দরজা হল সবর করা আর আল্লাহর কাছ থেকে আশা করা।
আর উন্নতমানের দরজা হল এর উপর সন্তুষ্ট হওয়া। আল্লাহর কাছে শুকুর আদায় করা অল্প মেহনতের মধ্যে ইনশা’আল্লাহ অনেক তরক্কি দান করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক নসীব করুন।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَ اَتُوْبُ اِلَيْكَ
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَ سَلَامٌ عَلٰى الْمُرْسَلِيْنَ وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ


২৯ Comments
**mindvault**
mindvault is a premium cognitive support formula created for adults 45+. It’s thoughtfully designed to help maintain clear thinking
**breathe**
breathe is a plant-powered tincture crafted to promote lung performance and enhance your breathing quality.
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.
Heard some good things about linkw88bogatafern. Just had a look now, seems reliable. Worth a try if you are a w88 fan definitely! 😉
Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me? https://accounts.binance.info/en-ZA/register?ref=B4EPR6J0
I don’t think the title of your article matches the content lol. Just kidding, mainly because I had some doubts after reading the article.
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.
Das Hotel-Casino „Paris Las Vegas“ liegt direkt im Zentrum des Las Vegas Strip und bietet Ihnen eine exzellente Lage
zur Erkundung der Traummetropole. Paris Las Vegas bietet nicht nur
Architektur und Gastronomie, sondern auch eine Vielzahl kultureller Veranstaltungen im Laufe des Jahres.
Ein Spaziergang durch das Resort fühlt sich an wie ein Bummel durch die Straßen von Paris und bietet ein wirklich immersives kulturelles Erlebnis, das die Besucher in eine andere Welt versetzt.
Das Le Village Buffet ist ein attraktives und ungewöhnliches Buffet mit der Atmosphäre eines französischen Dorfes.
Sie bietet mehr als genug Liegemöglichkeiten. Die Gästezimmer des Paris Hotel & Casino Las Vegas haben einen ausgesprochen schicken europäischen Look.
Es ist sozusagen eine Mini-Variante der französischen Metropole Paris.
Das Hotel verfügt über ein Casino mit Spielautomaten, Spieltischen und Einrichtungen für Keno.
Das Paris Las Vegas Resort & Casino verfügt über insgesamt 2916 Zimmer
und Suiten, verteilt auf 33 Etagen. Die Außenanlagen umfassen eine weitläufige Poolanlage, die zum
Schwimmen einlädt, sowie Gärten, die sorgfältig
gepflegt sind und eine entspannende Atmosphäre schaffen.
Ein markanter Eiffelturm-Nachbau bietet exklusive Ausblicke auf Las Vegas.
Kulturbegeisterte können im nahen Neon Museum in die leuchtende Vergangenheit von Las Vegas eintauchen, während das Red Rock Canyon National Conservation Area eine
ruhige Naturkulisse bietet. Die Unterkunft erhebt eine
strenge obligatorische Resortgebühr, die in ganz Vegas
üblich ist und WLAN-Zugang beinhaltet.
References:
https://online-spielhallen.de/locowin-casino-mobile-app-dein-mobiles-spielvergnugen-im-detail/
As many players discover, participating in this
platform can be both entertaining and profitable, especially when taking advantage of the ongoing deals.
Overall, Fair Go Casino stands out for its broad game library, rewarding promotions, and serious commitment to security.
An FAQ section on the site also covers fundamental topics like account creation,
verification, and deposit troubleshooting. The cashier section helps members keep track of their deposits and withdrawals, with minimal delays and
simple instructions. Additionally, the website’s
interface lets users track bets and outcomes in real
time, reinforcing trust through transparency.
Fair Go US-friendly online casino site delivers an ace gaming experience for fans of real money jackpot play.
If you love Aussie straight talking, real money gambling with top slot machines action,
superb on-the-go mobile casino games for iOS and Android devices casino app, or great no download play, then, your search
is over. The gaming selection includes internationally recognized
pokies and casino games that consistently rank among player favorites.
Don’t forget to enter a welcome bonus code if you want extra
cash to play with. It’s a one-time step and helps keep your
account safe. Whether you’re making a deposit,
claiming a bonus, or cashing out your winnings, it’s all in your
local currency. The entire site is designed with Australian players in mind, from the layout to
the lingo. Just make sure you’ve verified your ID before cashing out — standard stuff at most online casinos.
References:
https://blackcoin.co/expert-guide-to-online-gambling/
Speaking of games, they come in all shapes and sizes, pleasing even the pickiest gamblers.
They are available wherever you are, so you can enjoy games without leaving the
comfort of your home or on the move. By grabbing a welcome bonus,
you can get free money and free spins, so you’ll have more opportunities to win.
These offers match your first deposit — sometimes 100%, 200%, or even 300% — and often include free spins on popular pokies
or online slots Australia fans love. Roulette remains a classic at every casino online Australia players visit.
Craps looks complex but offers some of the best odds at any Australian online casino.
Blackjack blends skill and strategy better than any other online casino game in Australia.
References:
https://blackcoin.co/discover-avantgarde-casino/
Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!
casino mit paypal einzahlung
References:
generaljob.gr
casinos online paypal
References:
tripleoggames.com
online casino real money paypal
References:
https://aidesadomicile.ca
online casino paypal einzahlung
References:
we-cores.com
Yo, anyone tried 7ffbet? The site design is slick, I’ll give them that. I’m still testing the waters but so far seems legit and the bonuses seem alright. What’s your experience?
Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.
I don’t think the title of your article matches the content lol. Just kidding, mainly because I had some doubts after reading the article.
Tmtplaynet is my go-to for a quick game sesh. Always something new to try. The site’s easy to navigate which makes it a breeze. Get your game on at tmtplaynet.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me. https://accounts.binance.info/it/register-person?ref=P9L9FQKY
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks! https://accounts.binance.com/da-DK/register-person?ref=V3MG69RO
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.