Author: saiful.yellow@gmail.com
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে মেনশন করে তার ব্যাপারে Twitter-এ প্রশংসাসূচক টুইট করেছেন ‘এতাআতি’ সাথীদের অন্যতম প্রধান মুরুব্বী ওয়াসিফুল ইসলাম (http://bit.ly/2mu9Tej)। অথচ, তার মতাদর্শী সাথীরা উল্টো যাদেরকে নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করে তাঁদেরকেই ‘পাকিস্তানপন্থী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। [বিঃদ্রঃ ফেইসবুকের মতই টুইটারে কাউকে মেনশন করা হলে মেনশনকৃত ব্যক্তির নিকট নোটিফিকেশন পাঠিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।]
নিযামুদ্দিন বাংলেওয়ালী মসজিদে একদিন হযরত মাওলানা উমর পালনপুরী সাহেব রহ. বয়ান করছিলেন। বয়ানের মধ্যে উনি এই কথা বললেন যে, ‘ফাতাহ মক্কার পরে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিলেন কয়েকজনের ব্যাপারে যে, তাদেরকে যদি পাও তাহলে তাদের ক্বতল কর। আর তাদের মধ্যে ওয়াহশি রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন। যেহেতু হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্বাতিল ছিলেন, সেজন্য রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে ক্বতলের হুকুম দিয়েছেন’। এই জাতীয় একটা ঘটনা উনি বললেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা ওয়াহশি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হেদায়েত দিয়েছেন। হযরত মাওলানা পালনপুরী সাহেব রহ.-এর এই বয়ানের পরেই হযরত মুশফিক আহমাদ রহ. উনার কাছে গেলেন আর গিয়ে বললেন- ‘‘ওয়াহশি রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম আনার যে ঘটনা হায়াতুস…
গত সেপ্টেম্বরে (২০১৯) দিল্লীর নিযামুদ্দিন বাংলেওয়ালী মসজিদে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের কথিত ‘এতাআতি’ সাথীদের জোড় থেকে তাদেরকে এই তাকাজা দেয়া হয় যে, তারা যেন সমস্ত জেলা/থানা/হালকা/ইউনিয়ন/মসজিদগুলোতে তাদের ‘একক জিম্মাদার’ বা ‘একক আমীর’ নির্ধারন করে নেয়। তবে, কথিত ‘এতাআতি’ সাথীদের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তাদের জিম্মাদার/নেতৃস্থানীয় সাথীদের মাঝে অনাস্থাপূর্ণ হালতের কারণে তাদের দিল্লীর ঐ জোড় শেষে প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও তারা সেই তাকাজার ব্যাপারে কোন সুরাহায় পৌঁছতে পারেনি। এক পর্যায়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে (কাকরাইল থেকে) প্রায় ৩ মাস পর গত ১৫ই নভেম্বর (২০১৯) ‘এতাআতি’ সাথীদের মাঝে লিখিতভাবে এলান করে দেয়া হয় যে, তারা যদি তাদের জিম্মাদার…
হযরত আয়েশা রাদি. বলেন, একবার একব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন তিনি বলেন, ‘তাকে আসার অনুমতি দাও। লোকটি বংশের নিকৃষ্ট লোক।’ ওই লোকটি ছিল মন্দ প্রকৃতির বিশৃঙ্খলা পরায়ণ। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, মন্দ প্রকৃতির লোকদের গীবত করা এ উদ্দেশ্যে জায়েয যে, সমাজের সবাইকে যেন তার অনিষ্টতা সম্পর্কে সতর্ক করা যায়। কেউ যেন তার মাধ্যমে প্রতারিত না হয়। কাজেই আপনি যদি এমন কাউকে দেখতে পান, যার মাঝে অকল্যাণ ও মন্দত্ব আছে; অথচ লোকটি তার বয়ান ও বক্তৃতার যাদু দিয়ে লোকজনকে মন্ত্রমুগ্ধ করছে। মানুষ তার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় গ্রহণ করছে। মানুষ তাকে ভালো লোক…
প্রশ্ন কাকরাইল এর একজন তাবলিগী মুরব্বি, তিনি তার বয়ানে একটি দলিল দিয়েছিলেন যে আলেমরা কেন ১ সাল লাগাবে এই ব্যাপারে,তিনি বলেছিলেন যে, হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর (রা) কে রাসুলুল্লাহ সাঃ মদিনায় পাঠিয়েছিলেন মদিনার লোকদের কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি তথায় ১ বছর শিক্ষা দিয়ে এসেছিলেন।এই জন্য আলেমেরা ও এক সাল লাগাবে।পরবর্তীতে ওনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে রাসুল সাঃ সাহাবি কে মুয়াল্লিম হিসাবে পাঠিয়েছিলেন তাহলে এটা মুবাল্লিগের দলিল হল কিভাবে?এই ব্যাপারে আপনার অভিব্যক্তি কি? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم আলেমদের তাবলীগের কাজে এক সাল সময় দেয়ার বিষয়ে উপরোক্ত দাবী এবং দলীল সঠিক নয়। বরং এটা এক ধরণের বিকৃতি। এভাবে দলীল দেয়া…
তাবলীগওয়ালাদের কথা ‘কিছু থেকে কিছু হয় না সবই আল্লাহ থেকে হয়’ বলা কি বাহ্যিক উপকরণকে অস্বিকার করা?
প্রশ্ন আমরা তাবলীগওয়ালারা বয়ানে অনেক সময় বলি “গাছ থেকে ফল হয়না”,”মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়না”,”গাভি দুধ দেয় না সব কিছু আল্লাহ থেকে হয়” এ ধরনের কথার দ্বারা উপকরণকে অস্বীকার করা হয় না? সব কিছু আল্লাহ থেকেই হয় তবে আল্লাহ তো তাঁর সৃষ্টিতে একটা নেজাম ঠিক করে দিয়েছেন যাতে স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকেই ফল দেন,মেঘ থেকেই বৃষ্টি দেন,গাভি থেকেই দুধ দেন। তাই এ ধরনের কথা বলা কি ঠিক? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم ‘সব কিছু আল্লাহ তাআলা থেকেই হয়’ কথার অর্থ হলো: আল্লাহর ক্ষমতাবলেই হয়। বাহ্যিক উপকরণগুলোতে কোন কিছু জন্ম দেবার ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাই প্রদান করেছেন। আবার আল্লাহ তাআলা চাইলেই সেই ক্ষমতা নিয়ে…
আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছেন। আমাদের হুকুম করেছেন, আমরা যেন জীবনের সর্ব অঙ্গনে এই দ্বীনের বিধি-বিধান পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ করি। সেইসঙ্গে সমাজের সর্বস্তরে এই দ্বীনের শিক্ষা ও নির্দেশনাসমূহ ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করার প্রচেষ্টায় নিজেদের নিয়োজিত করি। মূলত দাওয়াত-ওয়াজ, তাবলীগ-তালীম, তারগীব-তারহীব, আমর বিল মারূফ-নাহী আনিল মুনকার, জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ, তাযকিয়া ও সুলূক, অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য সাংগঠনিক তৎপরতা এবং এধরনের আরো যত বৈধ পন্থা আছে সবগুলো দ্বীনের খেদমত ও নুসরতের এক একটি শাখা। প্রতিটি শাখার সাথে ছোট ছোট অনেক প্রশাখা রয়েছে। স্বয়ং দাওয়াত ইলাল্লাহ-এরই বিভিন্ন শাখা ও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। বিভিন্ন পন্থায় দাওয়াত ইলাল্লাহ-এর মেহনত হয়েছে, হচ্ছে। তেমনই একটি গুরুত্বপর্ণ, উপকারী ও…
চারদিকে অনাচার-অবিচার দেখতে দেখতে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। মানুষের মনুষ্যত্ব আজ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে! নিয়ম-নীতির তোয়াক্কাহীন শাসনযন্ত্রের কবলে পড়ে মানুষের প্রাণ নাকাল। এ বন্দীশালা থেকে কি মুক্তির উপায় নেই! এমন একটি দেশ যদি হত, যেখানে ভয়হীন, বাধাবিপত্তিহীন পরম নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করা যেত! এমন একটি পৃথিবী যদি গড়া যেত, যেখানে দুঃখ নেই, জুলুম নেই, যেখানে আছে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার; আছে অধিকার ও মানবতা, মৈত্রী ও ভালবাসা…। এমন দেশ কিন্তু পৃথিবীতে ছিল। এমন পৃথিবী কিন্তু দুনিয়াবাসী দেখেছিল। সে দেশের এবং সেই পৃথিবীর শাসক যারা ছিলেন, তাঁদের কাছেই শিখতে হবে সুখী দেশ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ার সবক। অবিশ্বাসীরা তাতে যতই অবাক হোক কিংবা আপত্তি তুলুক। সভ্যতার দাবিদারদের ‘সুসভ্য’ চেহারাখানা তো কয়েক শতাব্দী ধরে…
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ، وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُونَ، وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ، الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ، وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ، إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ উপরে সূরা শূআরার কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে ইসলামের প্রথম দিকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মক্কায়। ইসলামের দাওয়াত শুরু করেছেন। এসময় আল্লাহ পাকের ইরশাদ, আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন। আর আপনি বিনয়ী হোন আপনার অনুসারী মুমিনদের সাথে। আর তারা যদি আপনার অবাধ্য হয়, তাহলে বলে দিন, তোমাদের কাজ কর্মের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আর আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী করুণাময় (আল্লাহ)র উপর, যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি দাঁড়ান এবং…
ঈমানের প্রয়োজন সবার ও সবসময়ের। এছাড়া নাজাতের কোনো পথ নেই এবং পার্থিব শান্তি নিরাপত্তা ও কল্যাণের কোনো উপায় নেই। যুগে যুগে মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম অংশ নবী-রাসূলগণ আল্লাহর আদেশে মানব জাতিকে ঈমানের দিকে ডেকেছেন এবং তাঁদের ওয়ারিছ উত্তরসূরীগণও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। সবশেষে আখেরী নবী হয়রত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে ঈমানের দিকে ডেকেছেন এবং ঈমানের সকল বিষয় স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে, শিখিয়ে, প্রতিষ্ঠিত করে দুনিয়ার জীবন থেকে বিদায় নিয়েছেন। সুতরাং মানবের ইসলাহ ও সংশোধনের এই পথই নির্ভুল পথ। ঈমান এক বৃক্ষ, যার শিকড় মাটির অতি গভীরে আর শাখা-প্রশাখা আকাশের উচ্চতায়। ঈমান-বৃক্ষের শিকড় হচ্ছে তাওহীদ ও রিসালাতের বিশ্বাস ও সাক্ষ্য, যা ছাড়া…
পয়লা ডিসেম্বর এক বেদনার নাম। এদিন টঙ্গীর ময়দানে একশ্রেণির বিপথগামী লোকের হাতে মারাত্মকভাবে হতাহত হয়েছিলেন শতশত আলিম-তালিবে ইলম ও সাধারণ তাবলীগী ভাই। কী ছিল তাঁদের অপরাধ? তারা দিল্লীর মাওলানা সা‘দ সাহেবের মারাত্মক ভ্রান্তিসমূহ মেনে নিতে পারেননি। তারা চেয়েছিলেন, তিনি সংশোধিত হোন, দ্বীনী মেহনতে নতুন নতুন বিদআতের ধারা প্রবর্তন থেকে নিবৃত্ত হোন। দ্বীনের একটি মেহনতকে সঠিক পন্থায় চলমান রাখার এই কল্যাণকামিতাপূর্ণ প্রয়াসকে যে উগ্র শ্রেণিটি দ্বীনী সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করতে পারেনি; বরং মাওলানা সা‘দ সাহেবের সকল বিভ্রান্তিসহ তার ইতাআতকে গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে তারাই সেদিন ধর্ম ও মানবতার সকল সীমানা লঙ্ঘন করে সংঘটিত করল এমন এক তা-ব, যা এই দ্বীনী…
الحمد لله وكفى وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد : দাওয়াত ও তাবলীগ দ্বীনের এক বহুত বড় কাজ। এই কাজ যেন সুচারুরূপে শরঈ তরিকায় সম্পন্ন হতে পারে, তজ্জন্য কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা গ্রহণ জরুরি। কাজের সাথে জড়িতদের মানসিকতা গঠনও একান্ত প্রয়োজন। এ সম্পর্কে আজকের অবসরে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা। ১. উমুমি ময়দানে শরীয়তের মূল তাকাজা তিনটি- দাওয়াত-তাবলীগ, তালীম-তাযকিয়া, জিহাদ-সিয়াসত। তিনটিই আল্লাহর রাস্তা। হাদীসে এসেছে- مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ العِلْمِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ حَتّى يَرْجِعَ. যে ইলম অর্জনে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৪৭ অন্য হাদীসে এসেছে- مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ العُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبِيلِ…

