Author: saiful.yellow@gmail.com
১৯৯৫ এর শীতের সময় ফজরের নামাজের পরে আমাদের মসজিদের মাশওয়ারা তে প্রফেসর সানাউল্লাহ সাহেবের সাথে সাদা জুব্বা, ফুল সোয়েটার ও মাথায় সাদা আমামা পরিহিত এক বুজুর্গকে দেখলাম। মাশওয়ারা শেষে সবার সাথে মুসাফা করলেন কিন্তু উনার পরিচয় জানতে পারলাম না। সেদিন দ্বিতীয় গাশ্ত ছিল একটা আবাদির ছোট্ট মসজিদে, দেখলাম উনিও এসেছেন। সেখানে প্রথম পরিচয় হলো আমি বাঙালি শুনে খুব খুশি হলেন ও আমার সাথে কিছু আলাপ পরিচয় করলেন। বাদ-মাগরীব উনি উর্দুতে বয়ান করলেন, শুরুতে মনে হলো উনি তাবলীগের সাথী নন কারণ আমাদের বয়ান সাধারণত যে ভাবে শুরু হয় তার থেকে একেবারে ভিন্ন রকম ছিল। কতগুলো মনে না থাকলেও খুব ভালো লাগছিলো…
একজনের অসুখ আর কিছুদিন পরপর সে তার নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থার দিকে তাকায়। শক্তি বাড়ছে কিনা, ঘুম ঠিকমত হচ্ছে কিনা, খাওয়ার রুচী হচ্ছে কিনা, শরীর ভাল লাগে কিনা। ব্যাবসায়ী ব্যাবসা করে, (কিন্তু) ব্যাবসা করার জন্য ব্যাবসা করেনা। ব্যাবসা করে লাভের জন্য। অন্য লোক তার দিকে তাকায়। তাকায় মানে কি? যে পাঁচ বছর ব্যাবসা করার পর তার জামাকাপড়ের অবস্থা কেমন। কিন্তু যদি দেখে যে আগের মত এখনো ছেড়া গেঞ্জী, তাহলে বুঝা যায় ব্যাবসা ঠিকমত হচ্ছে না। তো আমলের জন্য আমরা কি দেখবো? যেখান থেকে বুঝবো যে তার আমল হচ্ছে কিনা। রোগীকে কেউ জিজ্ঞাসা করল যে ‘আপনার চিকিৎসার খবর কি?’ সে বলল যে…
يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاء (3-74) “আল্লাহর রহমত দিয়ে যাকে চান তাকে নির্বাচন করেন,” يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاء وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ* اللَّهُ (42-13) “যাকে চান তাকে নিজের জন্যে নির্বাচন করে নেন, আর যে প্রত্যাবর্তন করে তাকে পথ দেখান।” প্রথমত ঈমান পাওয়াই একটা নির্বাচন, নামাজ-রোযা করতে পারা এগুলো নির্বাচন। দাওয়াত এর কাজে শরীক হতে পারা একটা নির্বাচন, এগুলো আল্লাহ্ তায়ালার এহসান। এই সব কিছুর পরে যে কোন জমানায় দ্বীনের কাজের হেফাজতের জন্যে কাউকে নেওয়া, এটা আল্লাহ্ তায়ালার তরফ থেকে একটা বহুত বড়, খুবই বিশিষ্ট ধরনের নির্বাচন। আল্লাহ্ তায়ালা বিভিন্ন জমানায় বড় সংকটের সময় তাঁর খাস বান্দাদেরকে দ্বীনের হেফাজতের জন্যে নির্বাচন করেছেন।…
দ্বীনের লক্ষ্যই এটা যে, একজন মানুষের নিজ চেতনা এত উন্নত হয়ে যায়, স্বতস্ফুর্তভাবে যে কাজ করবে (স্বতস্ফুর্তভাবে), কোন দলিল প্রমাণ দেখে নয়, কোন যুক্তি দিয়ে নয়, স্বতস্ফুর্তভাবে যে কাজ করবে, ঐটাই যেন আল্লাহর পছন্দের সাথে মিলে যায়। তার অন্তর আল্লাহর নিয়মের সাথে মিলে যায়। صِبْغَةَ اللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً ۖ وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ আমরা আল্লাহর রং গ্রহন করেছি। আল্লাহর রং আর আল্লাহর চেয়ে ভাল কে রাঙ্গায়? আমরা তারই ইবাদত করি। (সুরা বাকারাঃ ১৩৮) তো আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে নিজের অন্তরের রং আল্লাহর সাথে মিলেয়ে নেওয়া। তো যে কথা সে তার নিজ অন্তর থেকে বলবে ঐটা যেন, এভাবে বলা…
‘রুহ আফজা’ পাকিস্তান ভারতে খুব পরিচিত শরবত, অনেকেই পছন্দ করেন। অনেকেদিন থেকেই তার সুনাম আছে। রুহ আফজার বোতলের ভিতরে যদি মদ ঢেলে দেয় আর লেবেল থাকল রুহ আফজারই, তো লেবেল থাকার কারণে ভিতরে যে জিনিস আছে তার উপর কোন আছর পড়বে না। আর ঐ মদ যদি কেউ খায়, রুহ আফজা লেবেল থাকার কারণে যে মাতাল হবে না, তাও নয়। ঠিকই মাতাল হবে যেরকম মদ খেলে মাতাল হয়। তো দুনিয়ার নানা ধরনের জিনিসে যেরকম প্রতারনা থাকে; ধরা যাক কোন একটা জিনিস বাজারে খুব চলছে, কোন ব্র্যান্ড, তখন তার নকল বের করতে আরম্ভ করে। আল-আমিন বিস্কুট যখন বাজারে খুব চলল তো আরো…
আবু তালহা (রা) রসূল করীম (স) এর মজলিসে তাশরিফ আনলেন। রসূল (স) ঐ মজলিসের মধ্যে কুরআন শরীফের এই আয়াত পড়লেন- لَن تَنَالُواْ الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنفِقُواْ مِن شَيْءٍ “তোমরা যা ভালবাস, তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না”-সুরা আল-ইমরানঃ ৯২ আবু তালহা (রা) জিজ্ঞেস করলেন- “ইয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা কি আমাদের কাছে আমাদের প্রিয় জিনিস চান?” রসূল (স) বললেন-“হ্যাঁ”। আবু তালহা (রা) বললেন- “আমার কাছে আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা হল “বাইরুহা”। এটা একটা বাগান, যেখানে ঝরনাও আছে, খুব ভালো পানি। রসূল করীম (স) ঐ বাগানে যান, ঐ পানি পান করেন, ঐখানে…
গত রমযানের আগের রমযানে আমার এক ভাগ্নে ইন্তিকাল করেছে। তার আগে ও অসুস্থ ছিল। হসপিটালে, অবস্থা খুব খারাপ, অবনতি হচ্ছে। ঐ সময় ওর অবস্থা যখন খুব খারাপ, ওর বোন স্বপ্নে তার মাকে বলছে, যিনি আগে ইন্তিকাল করেছেন মানে আমার বোন। আর স্বপ্নের মধ্যে ওর বোন বলল যে, অবস্থা খুব খারাপ, অসুস্থ ইত্যাদি। ওর মা একথা শুনে মোটামাটি কোন গুরুত্বই দিল না, স্বপ্নের ভিতরে। এটাই হওয়ার কথা। দুনিয়াতে যেসব জিনিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন জাহেরী জগতে, গায়েবী জগতে ঐটার কোন গুরুত্বই নাই। আর গায়েবের জগতে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, জাহেরী জগতে কোন গুরুত্বই নাই। দুনিয়ার জগতে কারো বাদশা হওয়া বহুত বড় ব্যাপার, আর ফকির…
وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ যারা রবের ডাকে সাড়া দিল, নামায কায়েম করল, মাশওয়ারার মাধ্যমে কাজ সমাধা করল আর আল্লাহ তাআলা যা দিয়েছেন তা থেকে দান করল। [সুরা আস শুরা আয়াত ৩৮] আল্লাহতাআলা মাশওয়ারাকে নামায এবং যাকাতের মাঝখানে বলেছেন আর ঈমানের সাথে জড়িত করেছেন। তো মাশওয়ারা ঐসব আমলের মধ্যে যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ডাকে যে সাড়া দিল তা প্রমাণিত হয়। এর দ্বারা আমলের গুরুত্ব বুঝায়। এটা কত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যে আল্লাহতাআলা ঈমানের সাথে জড়িত করেছেন। যদিও এই কথা বলা হয়নি, যে মাশওয়ারা করেনা সে মু’মিন নয়, কিন্তু ঈমানের সাথে জড়িত করার মাধ্যমে ঐ ধরনের একটা…
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَ نَسْتَغْفِرُهُ وَ نَعُوْذُ بِهِ مِنْ شُرُوْرِ اَنْفُسِنَا وَ مِنْ سَيِّئَاتِ اَعْمَالِنَا ، مَنْ يَهْدِ هِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَاَشْهَدُ أَنْ لَّا اِلٰهَ الَّا اللهُ وَاَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَ رَسُوْلُهُ فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ وَاتَّقُوْا اللهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللهُ وَاللهُ بِكُلِّ شَيْئٍ عَلِيْمٌ وَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ اِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ আল্লাহ তা’আলা মানুষের খাইসিয়তের (স্বভাব) মধ্যে রেখেছেন যে, সে তা’লিম গ্রহন করতে পারে। আর আল্লাহ তা’আলা আম্বিয়া আলাইহিস…
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَ نَسْتَغْفِرُهُ وَ نَعُوْذُ بِهِ مِنْ شُرُوْرِ اَنْفُسِنَا وَ مِنْ سَيِّئَاتِ اَعْمَالِنَا ، مَنْ يَهْدِ هِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَن يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَاَشْهَدُ أَنْ لَّا اِلٰهَ الَّا اللهُ وَاَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَ رَسُوْلُهُ فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّه حَيَاةً طَيِّبًا وَ لَنَجْزِيَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَ حْسَنِ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ وَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يٰا اَيُّهَا النَّاسُ قُوْلُوْا لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ تُفْلِحُوْنَ أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ رُبَّ…
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَ نَسْتَغْفِرُهُ وَ نَعُوْذُ بِهِ مِنْ شُرُوْرِ اَنْفُسِنَا وَ مِنْ سَيِّئَاتِ اَعْمَالِنَا ، مَنْ يَهْدِ هِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَن يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَاَشْهَدُ أَنْ لَّا اِلٰهَ الَّا اللهُ وَاَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَ رَسُوْلُهُ فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّه حَيَاةً طَيِّبًا وَ لَنَجْزِيَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَ حْسَنِ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ وَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يٰا اَيُّهَا النَّاسُ قُوْلُوْا لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ تُفْلِحُوْنَ أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ আল্লাহ…
জুমার আগে জামাত জিয়া হল এর মসজিদে উঠে। জুমার নামাযের পর থেকেই আত্র হল ছাড়াও অন্যান্য হলের ছাত্র ভাইদের আনাগোনা শুরু হয়। আছরের আগ পর্যন্ত ছাত্রদের বিভিন্ন প্রশ্নবাণ থাকলেও আচরণে উগ্রতা ছিল না। একপর্যায়ে তারা জিজ্ঞাসা করে, ★ আপনারা কাদের সাথে জুড়বেন? উত্তরে জামাতের সাথীরা জানিয়ে দেয় যে, এতয়াদীদের সাথে জুড়ার কোন প্রশ্নই নেই। আমরা ওলামায়ে কেরামের সাথে আছি। ★ আপনারা থাকলে আমাদের উপর চাপ আসবে! জামাতের সাথি জিজ্ঞাসা করে, কারা চাপ দিবে? উত্তরে ছাত্র ভাই জানায় যে, যেসব শিক্ষক ওলামা হযরতদের সাথে আছেন, তিনি। আছরের নামাযের ঠিল আগ মুহুর্তে আসাদ সহ বেশকিছু সাথীরা এসে জামাতের জিম্মাদার ভাইকে জানিয়ে দেয়…

