মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)

মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ) বইটিতে তাবলীগ জামাতের দ্বিতীয় আমীর হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহঃ)-এর ২৩৫টি বাণী (মালফুজাত) সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি বাণীর সাথে মূল উৎসগ্রন্থের নাম ও পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়া আছে। পড়ার সুবিধার জন্য বাণীগুলো ১২টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।

সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা। বইটির স্ক্যান কপি archive.org-এ পাওয়া যাবে।

সূচিপত্র

পর্ব ১: বাণী ১–২০

পর্ব ২: বাণী ২১–৪০

পর্ব ৩: বাণী ৪১–৬০

পর্ব ৪: বাণী ৬১–৮০

পর্ব ৫: বাণী ৮১–১০০

পর্ব ৬: বাণী ১০১–১২০

পর্ব ৭: বাণী ১২১–১৪০

পর্ব ৮: বাণী ১৪১–১৬০

পর্ব ৯: বাণী ১৬১–১৮০

পর্ব ১০: বাণী ১৮১–২০০

পর্ব ১১: বাণী ২০১–২২০

পর্ব ১২: বাণী ২২১–২৩৫


অভিমত

মলফুজাত সম্পর্কে ফাজায়েলে আ’মালের লেখক ও তাবলীগের আজীবন মুরব্বী শেখুল হাদীস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া সাহেব (র)-এর অভিমত

তিনি বলেন, তাবলীগের কাজ করনেওয়ালা বন্ধুদেরকে অপরিহার্যভাবে মিনতি জানাচ্ছি যে, হজরত মাওঃ ইলিয়াস (র) এবং হজরত মাওঃ ইউসুফ (র)-এর মলফুজাত ও বাণীসমূহ এবং উভয়ের জীবনী ও চিঠিপত্রসমূহ খুব গুরুত্বের সাথে সব সময় পড়ার জন্য হাতের কাছে রাখবেন। কেননা, এগুলো কাজ করনেওয়ালাদের জন্য বহু মূল্যবান মনিমুক্তা স্বরূপ। এই সমস্তের মধ্যে যেসব নিয়ম-কানুন রয়েছে, তার পাবন্দি করা কাজের উন্নতি সাধন ও বরকতের কারণ।

(জামাতে তাবলীগ পর এ’তেরাজাতকে জাওয়াবাত- পৃঃ ১২৫)

দেওবন্দের প্রধান মুফতি হজরত মাওঃ মুফতি মাহমুদ হাসান সাহেবের অভিমত

আল্লাহর নামে শুরু করছি। পর সমাচার, আল্লাহ তায়ালা যে সমস্ত মুখলেস বান্দাদের ফয়েজকে অনেক দিন পর্যন্ত বাকী রাখতে চান, তাঁদের নেক কাজগুলোকে জীবিত রাখেন। চাই বই আকারে হোক, চাই অন্য কোনভাবে। হজরত মাওঃ ইউসুফ সাহেব (র) ও এমনই একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব। আল্লাহপাক উত্তম বিনিময় দান করুক মুফতি রওশন সাহেবকে, তিনি হজরতজীর মলফুজাতের একটি ভাণ্ডার একত্রিত করে দিয়েছেন, যা ইনশাল্লাহ অনেক উপকারী হবে।

দেওবন্দ, ১৭/০৮/১৪১৫ হিঃ — ইতি, মাহমুদ

সংকলকের ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর।

আল্লাহ ওয়ালাদের কথাবার্তা, তাঁদের বাণীসমূহ এবং তাঁদের বচনসমূহ বর্তমান বিশ্বেও মরা অন্তরকে জীবিত করার প্রভাব রাখে। তাঁদের বাণী পড়ে এবং শুনে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (স)-এর মহব্বতে উন্নতি সাধিত হয়। সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর ভালবাসা অন্তরে সৃষ্টি হয়। নেক আমলের জয্বা জাগ্রত হয়ে আখেরাতের একীন তাজা হয়। দুনিয়ার মহব্বত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। আল্লাহর জিকির এবং সুন্নতের পাবন্দির উৎসাহ উদ্দীপনা জাগ্রত হয়। আখেরাতের চিন্তা অন্য সব চিন্তার ওপর বিজয়ী হয়। এ সমস্ত বুজর্গদের বাণী দ্বারা না শুধু কোরান হাদীসের আজমত অন্তরে শেকড় গাড়ে; বরং কোরান-হাদীসের অনেক রহস্য উদঘাটিত হয়। তাবলীগী কষ্ট-মেহনতের উপকারিতা সামনে আসে। আল্লাহর কলেমা এবং দ্বীনকে উঁচু করার অন্তরে এক আকাঙ্খা সৃষ্টি হয়।

বুজর্গদের বাণী ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে বুজর্গদের কলবের অবস্থা এবং আভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম দৃষ্টিসমূহ এবং দ্বীন ইসলামের উন্নতি সাধনের জন্য কোরবানী ও জযবার পরিমাণ আমাদের সামনে এসে আমলের দাওয়াত দেয়। এই সমস্ত বুজর্গদের মধ্যেই হজরতজী মাওঃ ইউসুফ সাহেব (রহঃ)ও একজন, যিনি তাঁর আব্বাজান হজরত মাওঃ ইলিয়াস (রহঃ)-এর ইন্তেকালের পর ঐ সময়ের বড়দের পরামর্শক্রমে এই দাওয়াত-ওয়ালা বড় কাজের জিম্মাদারী আঞ্জাম দিয়ে আল্লাহর দ্বীনের পয়গাম অনেক মানুষের কাছে পৌঁছিয়েছিলেন। আর আল্লাহর লক্ষ লক্ষ বান্দাদেরকে তাঁর রাস্তায় লাগিয়েছিলেন। হজরত মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর শিক্ষাকে প্রচার-প্রসার করার মধ্যে কোন রকম ত্রুটি করেননি। ধনী, গরীব, আলেম ও সাধারণ লোকদেরকে এবং ঐ সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে নিজের মধ্যকার দরদ ও ফিকির এবং ঈমানী শক্তির প্রভাব দ্বারা প্রভাবান্বিত করেছেন এবং আপন বাবার নকসে কদমের ওপর চলে উম্মতে মুসলেমাহ’র ভেতর এসলাহী চেষ্টা তদবীরের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মশগুল ছিলেন।

তাঁর তাবলীগী জামানা শুধু একুশ বছর। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এত বড় কামিয়াবী অর্জন করেছেন। যে দাওয়াত ওয়ালা কাজকে একটা আন্তর্জাতিক কাজ বানিয়ে হার তবকা এবং বিভিন্ন মানসিকতার লোককে খুব বেশী প্রভাবান্বিত করেছেন।

এক বুজর্গের বক্তব্য এই যে, “তাঁর দৃষ্টান্ত কাছের ও দূরের শতাব্দী গুলোতে পাওয়া যাওয়া বিরল।”

এই সমস্ত বুজর্গদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর তাঁদের বাণী ও চিঠিপত্র আমাদের জন্য নিয়মাবলী ও সহী পথ প্রদর্শনের কাজ দেয়। হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ)-এর বাণী ও পত্রাবলী তো বহু বছর আগেই বই আকারে ছাপা হয়ে গেছে, যদ্দ্বারা দাওয়াতের কাজ করনেওয়ালা বন্ধুদের অনেক উপকার হয়েছে এবং হচ্ছে। কিছু দিন থেকে এই অধমের অন্তরে এই খেয়াল ঘোরাফেরা করছে যে, হজরতজী মাওঃ ইউসুফ সাহেব (রহঃ)-এর বাণী ও পত্রাবলী সাধারণ পাঠকের সামনে যদি আসত, তাহলে অনেক উপকার সাধিত হত, কিন্তু লেখালেখির জন্য কলম ধরার ব্যাপারে অধমের নিজের এলেম ও আমলের কমতি এবং অন্যান্য বাধা-বিপত্তির কারণে অত্যন্ত সন্দেহ ছিল। এই অবস্থায় আমার ওস্তাদ ও দ্বীনি হিতাকাঙ্ক্ষী হজরত মাওঃ আবদুস সালামের সাথে পরামর্শ করায় তিনি আমাকে হিম্মত দিয়ে লিখতে সাহস যোগালেন। হজরতজী মাওঃ ইউসুফ সাহেব (রহঃ)-এর বাণীসমূহ বেশ কিছু কিতাবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো ছিল, যদ্দ্বারা উপকৃত না হওয়া তো অসম্ভব ছিল না, কিন্তু কঠিন অবশ্যই ছিল। এই কঠিনকে সহজ করার জন্য আল্লাহর তৌফিককে সাথে নিয়ে এই লাইনের যত কিতাব সহজভাবে যোগাড় করা সম্ভব হয়েছে, যোগাড় করে “হজরতজী মাওঃ ইউসুফ সাহেব (রহঃ)-এর বাণী (প্রথম খণ্ড)” নামে প্রকাশ করা হল। এই লাইনের আরও কিতাব সংগ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ২য় আরেকটি খণ্ড প্রকাশের ইচ্ছা আছে। যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে না। এ হিসাবে যাঁদের শুকরিয়া আদায় করতে হয়, তাঁরা হলেন, আমার ওস্তাদ হজরত মাওঃ রাফআত সাহেব, হজরত মাওঃ মুফতি একরামুদ্দীন সাহেব, হজরত মাওঃ ইউনুস পালনপুরী সাহেব, মাওঃ আবদুস সালাম সাহেব, জনাব মাষ্টার নজীর আহমদ সাহেব ও মাষ্টার মাসউদ আলী সাহেব। আল্লাহ পাক এদের সবাইকে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন। আল্লাহ পাকের লাখ লাখ শোকর আদায় করছি যে, তিনি তাঁর একজন দুর্বল বান্দাকে তার এলেম ও আমলের কমতি সত্ত্বেও হজরতজীর বাণীকে একত্রিত করার তৌফিক দান করেছেন। সম্মানিত পাঠকদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, যদি কোথাও কোন ত্রুটি ধরা পড়ে, মেহেরবানী করে জানিয়ে দিলে পরবর্তী সংস্করণে তা শুদ্ধ করে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক এই কিতাবকে কবুল করুক এবং আম খাস সকলের জন্য উপকারী বানিয়ে দিক এবং আমার নাজাতের উসিলা হোক। যারা এই কিতাব থেকে উপকৃত হবেন তাদের কাছে আবেদন, তারা যেন আমার খাতেমা বিলখায়ের ও গোনাহ মাফির দোয়া করেন।

ভারত, ১০/০৪/১৪১৫ হিঃ — বিনীত, মোহাম্মদ রওশন শাহ কাসেমী

অনুবাদকের কথা

বিশ্ব-বরেণ্য মনীষীদের বাণী ও পত্রাবলীর সম্ভার পৃথিবীর সব জাতি ও সব সাহিত্যেই সবিশেষ গুরুত্ব রাখে। তাই দেখা যায়, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মনীষীদের বাণী তাঁদের নিজ নিজ দেশ ও তাঁদের জাতিকে সব সময় উপকৃত করেছে। মুসলিম মনীষীদের বাণীতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এমন মনীষী খুব কমই আছেন, যাঁর বাণী প্রকাশিত হয়ে গণ মানুষের উপকার সাধিত হয়নি। তবে তার সম্ভার আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষাতেই বেশী। বাংলায় রূপান্তর খুব কম দেখা যায়। হজরতজী মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহঃ) ভাষার দিক থেকে উর্দুভাষী হলেও দাওয়াত ও তাবলীগের মত মুসলমানদের একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত একমাত্র আন্তর্জাতিক সংগঠনের কর্ণধার হওয়ার সুবাদে তাঁর স্বীকৃতি শুধু আন্তর্জাতিকভাবে আছে তাই নয়, বরং তাঁর বাণীর মধ্যেও রয়েছে আন্তর্জাতিক কর্তব্যবোধ ও দৃঢ় প্রত্যয়। এক একটি বাণীতে মহাশক্তি রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস হওয়ায় বহু দিন থেকে তাঁর বাণীকে বাংলা ভাষা-ভাষীদের কাছে তুলে ধরার এক স্বপ্ন দেখতে থাকি। এ স্বপ্নই আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। অনুবাদকের সার্বিক অযোগ্যতা সত্ত্বেও তাঁর এই মোবারক বাণী বাংলা ভাষীদের জন্য উজ্জীবনী শক্তি হিসাবে কাজ করবে বলে অধমের বিশ্বাস। আল্লাহ আমাদের সকলের জন্যই এই উদ্যোগকে মোবারক করুক। আমীন।

— ইসহাক ওবায়দী