|

মালফুজাতে হযরতজী – পর্ব ৩: বাণী ৪১–৬০

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ) বইয়ের ৪১ থেকে ৬০ নম্বর বাণী এই পর্বে দেওয়া হলো। সম্পূর্ণ সূচি ও বইয়ের ভূমিকা দেখুন।

সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা।

এই পর্বে যা আছে


৪১. দাওয়াতী মেহনতের উদ্দেশ্য

হজরতজী বলেন— তাবলীগের উদ্দেশ্য কোন বিশেষ বস্তুর প্রচার নয়; বরং তার দ্বারা আমাদের প্রতিটি ঐ জিনিসকে জীবন্ত করা উদ্দেশ্য, যাকে হুজুর (স) মুসলমানদের কামিয়াবীর জন্য নিয়ে এসেছেন। আর তা ধীরে ধীরে আমরা মুসলমানদের যোগ্যতা অনুযায়ী আমলের ওপর প্রয়োগ করতে থাকি। এই সবের ভিত্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘর-বাড়ী ছাড়ার অভ্যাসকে সাধারণে পরিণত করা। এই ঘর-বাড়ী ছাড়ার অভ্যাস যতোটা সাধারণ হবে, আল্লাহ তায়ালার রহমতের বৃষ্টিও সাধারণভাবে নাজিল হওয়া আরম্ভ হয়ে যাবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৭৪৭)

৪২. মেহনত পরিমাণ হেদায়েত ছড়াবে

হজরতজী বলেন— মেহনতের উচ্চতা যতোটা উঁচু হবে, অতোটুকুই আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েতের ভাগ-বাটওয়ারা সাধারণ হতে থাকবে। ঐ মেহনত যখন খতম হয়ে যায়, তখন হেদায়েত মুসলমানদের মধ্য থেকে বের হয়ে যাওয়া শুরু হয়ে যায়। প্রথমে হেদায়েত লেন-দেন ও সামাজিক আদান প্রদান থেকে বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ লেন-দেনের মধ্যে দ্বীনের যে হুকুম-আহকাম আছে, তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে লেন-দেন চালাতে থাকে, তারপর ফরজসমূহ বেরিয়ে যায়, অতঃপর বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজ প্রবেশ করতে থাকে। এমন কি মুসলমান দ্বীন থেকে বের হতে থাকে। পক্ষান্তরে যখন এই দ্বীনের মেহনত করা হয়, তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হেদায়েতের আগমন শুরু হয়। তারপর মেহনত যতোটা উন্নতি করতে থাকবে, হেদায়েত ছড়াতে থাকবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৭৪৪)

৪৩. হুজুর (স)-এর নিকটবর্তি কে হবে?

হজরতজী বলেন— যখন এই সমস্ত কোরবানী (ত্যাগ তিতিক্ষা) পূর্ণতা লাভ করবে, তখন তোমাদের দ্বারা ঐ সব জাতিসমূহ হেদায়েত পাবে, যারা আকাশে উড়তে ছিলো এবং আমাদের মতো গরীবদের প্রতি তাকিয়েও দেখতোনা, এবং ঐ সমস্ত মুসলমান, যারা জীবনের কোন ক্ষেত্রেই ইসলামের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলোনা, তারা নিজেদের সমস্ত কাজ ইসলামের হুকুম মোতাবেক বানাবে। এবং তোমাদের কোরবানীর বিনিময় হুজুর (স) হাওজে কাওসারের ওপর দাঁড়িয়ে দেওয়াবেন। যেখানে হুজুর (স) আনসার সাহাবীদের সাথে মিলিত হওয়ার এবং তাঁদের কোরবানীর বিনিময় দেওয়ানোর ওয়াদা করেছেন। এই সব বিনিময় এই শর্তে হতে হবে যে, এটা সিদ্ধান্ত করে নাও যে, আল্লাহ তায়ালা যা কিছু এইসব মেহনতের পর দেবেন, তা অর্জন করে অন্যদেরকে দেবে এবং নিজে নেবেনা। এমনটি করার মধ্যে হুজুর (স)-এর ঝলক বা দ্যুতি পাওয়া যাবে। কেননা, তিনি ত্যাগের সময় সাহাবায়ে কেরামের সাথে ছিলেন, আর যখন নেয়ামতসমূহ পাওয়ার সময় এসেছে, তখন হুজুর (স) এন্তেকাল করে গেলেন। এবং শুধু আখেরাতের প্রতি নজর রাখবে। এই শর্ত পূরণকারীরাই আখেরাতে হুজুরে আকরাম (স)-এর অতিনিকটে হবেন ইনশায়াল্লাহ।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৭৪৬)

৪৪. তিন দিন লাগানো দ্বারা ত্রিশ দিনের সাওয়াব হবে

হজরতজী বলেন— নিজের শহর অথবা মহল্লার কাছে গ্রামের মধ্যে কাজের পরিবেশ হওয়া চাই। এর জন্য প্রতিটি মসজিদ থেকে তিনদিনের জন্য জামাতসমূহ পাঁচ মাইলের মধ্যে যাওয়া চাই। প্রতিটি ব্যক্তিকে মাসে তিন দিন পাবন্দির সাথে লাগানো চাই। “الحسنة بعشر أمثالها” “অর্থাৎ একটি নেক আমল তার দশের সমান” হিসাবে তিনদিনের ওপর ত্রিশ দিনের সাওয়াব পাওয়ার হুকুম দেয়া যাবে। পুরো বৎসর প্রতিটি মাসে তিনদিন লাগাতে থাকবে, তাহলে পুরো বছর আল্লাহর রাস্তায় লাগানো হয়েছে বলে ধরা হবে। এতে দেশের অভ্যন্তরের চাহিদা পূরণ হতে থাকবে এবং নিজের অভ্যাস বাকী থাকবে ও জারী থাকবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৭৭২)

৪৫. ভিন্ন ধর্মীরা ইসলামের মধ্যে কখন প্রবেশ করবে?

হজরতজী বলেন— দাওয়াতের নকসার সাথে ভিন্নধর্মীরা ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করবে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১৫২)

৪৬. ধর্মকে মানুষ সমষ্টির কাছ থেকে গ্রহণ করে

হজরতজী বলেন— দাওয়াতের পরিপূর্ণ নকসা এই যে, দাওয়াত দেয়া এবং সে মোতাবেক জীবনকে গড়া। দাওয়াতের নকল ও হরকত ব্যক্তিগত ছিলোনা, সমষ্টিগত ছিলো। আর মানুষ যে ধর্ম কবুল করে, কোন ব্যক্তি থেকে করেনা; বরং সমষ্টি থেকে কবুল করে। সমষ্টির ধর্মকে এমন বানানেওয়ালা হলো আমলী জীবন। ব্যক্তিতো ঐ অমুসলিমদের সেখানেও রিয়াজত-মোজাহাদা করনেওয়ালা পাওয়া যায়। যদি আমাদের কথায় প্রভাবিত হয়ে সেখানে যায় এবং নিজেদের সমষ্টির সাথে কথা বলে, তখন তারা বলবে যে, যদি মুসলমানদের সেখানে এমন ব্যক্তি থেকে থাকে, তবে তো আমাদের এখানেও এমন ব্যক্তি আছে। তারাও নিজেদের ব্যক্তিদের ইতিহাস বের করে দেবে চাই তা সত্য হোক বা না হোক।

দাওয়াত যে চলবে, তা কোন এক ব্যক্তির দেয়ার দ্বারা চলবেনা। বরং সমষ্টিগত জীবন ব্যবস্থার মাধ্যমে চলতে হবে। তার মধ্যে খানা-পিনা, অভ্যাসসমূহ, চিন্তা ও ফিকিরসমূহ ক্ষমতাবান ও গরবিদের সাথের অবস্থা দেখবে, নিজের সাহায্য (অন্যরা যে করছে) তা স্বয়ং নিজে দেখবে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১৫৩)

৪৭. মহল্লা হজরত নেজামুদ্দীনে পরামর্শের জন্য ডাকার কারণ

হজরতজী বলেন— প্রথম থেকে যেহেতু মহল্লা নেজামুদ্দীন থেকে কাজ হয়ে আসছে, এজন্যে তাদের সাথে পরামর্শ করার জন্য তাদের ডাকা হয়। এই কাজ যারা প্রথম দিকে করেছেন কিছু এখানে, কিছু ওখানে এবং মক্কা শরীফে আছেন। এখন তাই তাঁরা একত্রিত হয়ে পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করেন এই কাজের নিয়ম-কানুনের ওপর জমিয়ে রাখার জন্য। কেননা, তাঁরা একাজ করনেওয়ালা, তাই তাঁদেরকে পরামর্শের জন্য ডাকা হয়।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১৫৫)

৪৮. খারাপ স্বভাব থেকে বাঁচার উপায়

হজরতজী বলেন— গরীব এবং নিরীহদের সমাজে কাজ করা অনেক খারাপ স্বভাব থেকে বেঁচে থাকার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১২০)

৪৯. আলেমদের তাবলীগে কম শরীক হওয়ার কারণ

হজরতজী বলেন— কাজের গুরুত্ব যাদের মনে এসে যায় এবং কাজের অবস্থা ও রকম যাদের মনে এসে যায়, তারা এই কাজে শরীক হয়ে যায়। এর মধ্যে আলেম সমাজও আছেন জনসাধারণও আছেন। যেহেতু আলেম সমাজের জিম্মায় দ্বীনের অন্যান্য কাজও ন্যস্ত আছে, তাই তাঁরা এ কাজে কম শরীক হতে পারেন। আপনারা যাদেরকে পাঠাতে চাইবেন, আমরা তাঁদের শেখানো বোঝানোর ব্যাপারে আপনাদের সাহায্য করবো।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ১৫৫)

৫০. এ কাজ যাঁরা করবেন, তাঁদের একীন কেমন হওয়া উচিত?

হজরতজী বলেন— কাজ এটা যে, কাজ করনেওয়ালাদের ঐ সত্তার ওপর একীন কায়েম হয়ে যাওয়া চাই, যাঁর করার দ্বারা কাজ হবে। অর্থাৎ আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর সত্তার ওপর, এবং তাঁর অবস্থান কাজ করনেওয়ালাদের ওপর এতোটা প্রকাশিত হয় যে, নিজের সত্তা এবং অন্য কারো সত্তা পৃথক বোঝা না যায়। দ্বিতীয় একীন এই হবে যে, যখন আমি ভেতর বাইরের দিক থেকে হুজুর (স)-এর তরীকার ওপর এসে যাবো, তখন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত দুনিয়া ও আখেরাতে ভালো অবস্থার সৃষ্টি করবেন।

(তাযকেরায়ে হজরতজী- পৃঃ ৪৯)

৫১. এই কাজ রেওয়াজী পদ্ধতির বিপরীত

হজরতজী বলেন— আসলে এই কাজ প্রচলিত ব্যবস্থার একদম উল্টো হওয়ার কারণে কঠিন মনে হয়। কিন্তু অল্প মেহনত-মোজাহাদা করার পর তার সমস্ত নিয়ম-কানুন মানার দ্বারা খুবই সহজ; বরং প্রচলিত পথে করার দ্বারা অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়ে যায়। যদিও প্রকাশ্যে প্রচলিত ব্যবস্থায় সহজ বলে মনে হয়। এজন্য সমষ্টিগতভাবে এ কথার ওপর পুরো চেষ্টা করা উচিত যে, কাজ যেনো নবীওয়ালী পদ্ধতি থেকে হঠতে না পারে, এবং নিজের সরলতার সাথে দিনের বেলায় মেহনত এবং রাতের বেলায় দোয়ার পরিমাণ যেনো বাড়তে থাকে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-১০৮)

৫২. এজতেমাগুলো কিভাবে করা হবে?

হজরতজী বলেন— এই কাজের মধ্যে এজতেমাসমূহ না কাজের ভিত্তি, না কাজের উদ্দেশ্য; বরং আপন পদ্ধতিতে না হওয়ার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই মাসিক এজ্তেমা মোটেও করবেনা। প্রত্যেক জায়গায় মকামী এজ্তেমাসমূহ প্রতি সপ্তায় নিজস্ব নিয়ম-নীতিতে অর্থাৎ পুরো শব বেদারীর সাথে এবং সময় চাওয়ার মাধ্যমে করা চাই।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১০৮)

৫৩. তাবলীগের উদ্দেশ্য কি?

হজরতজী বলেন— তাবলীগের উদ্দেশ্য তো কষ্টের অভ্যাস করতে করতে একটা জীবন পদ্ধতি শেখা, যার মধ্যে প্রতিটি আমল করার সময় তার হুকুমের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি তাওয়াজ্জুহ সৃষ্টি হয়ে হজরত মোহাম্মদ (স) ওয়ালা জীবনপদ্ধতির সাথে কষ্ট ও চমক-দমকওয়ালা ছুরতে মৃত্যুর পরের মুক্তি ও

সফলতা অর্জনের জন্য এই কাজকে করা চাই।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ৫৯)

৫৪. সামান্য বস্তু কোরবান করার দ্বারা যবরদস্ত ভালোর আশা

হজরতজী বলেন— জান-মালের সামান্য পুঁজি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার দ্বারা শুধু মেহনত-মোজাহাদাকারীদের জন্যই নয়; বরং সাধারণ মানুষের জন্যেও হেদায়েতের দুয়ার খুলে যাওয়ার পুরো আশা আছে।

৫৫. তাবলীগের রাস্তায় বনী ইসরাঈলের নবীদের মতো দোয়া কবুল হয়

হজরতজী বলেন— এই রাস্তায় মেহনতকারীদের দোয়া বনী ইসরাঈলের আম্বিয়া (আ)-দের দোয়ার মতো কবুল হয়। অর্থাৎ যেভাবে তাঁদের দোয়ার ফলে আল্লাহ জাল্লা জালালুহু বাহ্যিক অবস্থার খেলাপ নিজের কুদরতকে ব্যবহার করে তাঁদেরকে কামিয়াব করেছেন এবং বাতেলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন, এভাবে এই মেহনতকারীদের দোয়ার ওপরও আল্লাহ পাক জাহেরী অবস্থার বিপরীত নিজের কুদরতকে প্রকাশ করবেন। আর যদি জগৎভিত্তিক মেহনত করা হয়, তাহলে সমস্ত দুনিয়াবাসীর অন্তরে তাদের মেহনতের প্রভাবে পরিবর্তন এনে দেবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী- পৃঃ ২৯৮)

৫৬. আসল কাজের আকৃতি

হজরতজী বলেন— এই কাজকে আ’ম করার জন্য প্রচলিত পদ্ধতি, পত্রিকা, এশতেহার বা প্রেস মিডিয়া ইত্যাদি এবং প্রচলিত শব্দ থেকেও পুরোপুরি বেঁচে থাকা জরুরী। এ কাজ সম্পূর্ণভাবে অপ্রচলিত। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রচলনের সাহায্য হবে, এই কাজের নয়। আসল কাজের আকৃতি দাওয়াত, গাশ্ত্, তালীম, তাশকীল ইত্যাদি।

(তাবলীগি তাহরীক- পৃঃ ৪৩)

৫৭. দাওয়াতের কাজের প্রাথমিক নেসাব

হজরতজী বলেন— তাবলীগের মধ্যে অল্প সামান্য তরবিয়ত নিজের মেহনতের করতে হবে। মসজিদের মধ্যে কলেমা নামাজের পরিবেশ বানানোর মেহনত, একবার হিম্মত করে তিন চিল্লা দিয়ে দাও, বার্ষিক চিল্লা দিতে থাক, প্রতি মাসে তিন দিনের জন্য বের হতে থাক, সাপ্তাহিক দুই গাশ্ত্ করতে থাক, নিজের মসজিদে তালীম, তস্বী এবং নফলের আর ঈমানের দাওয়াতের এক পরিবেশ বানিয়ে নাও। ব্যস, এতোটুকু যদি করে ফেলতে পারে সমস্ত মুসলমান মিলে, তাহলে হুজুর (স)-এর যমানার দ্বীন জিন্দা হয়ে যাবে।

(হজরতজী কি এয়াদগার তাকরীরেঁ- পৃঃ ১৭)

৫৮. ব্যক্তি তো শেষ হবার জন্যই হয়

হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ)-এর এন্তেকালের পর হজরতজী মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহঃ) লোকসমাগমকে উদ্দেশ্য করে বলেন— কাজ করা চাই, ব্যক্তি তো শেষ হবার জন্যই হয়, কিন্তু তাঁর কাজ বাকী আছে, আমাকে আপনাকে তাই করতে হবে।

(তাবলীগ কা মাকামী কাম- পৃঃ ৩১)

৫৯. তাবলীগি চেষ্টা মেহনতের উদ্দেশ্য

হজরতজী বলেন— আমাদের এই তাবলীগি কাজের উদ্দেশ্য এই যে, মুসলমানরা আল্লাহর হুকুম-আহকামের পাবন্দিওয়ালা জীবন অতিবাহিত করতে যেনো শুরু করে। ছ’ নম্বরের পাবন্দি এবং অভ্যাসের মাধ্যমে তাদের মধ্যে এই অবস্থা আসতে পারে। কিন্তু এই নম্বরসমূহের শব্দ দ্বারা যে মতলব সাধারণ মানুষ বুঝে, তা থেকে এই উদ্দেশ্য পুরো হতে পারেনা। বরং তার যে অর্থ আমরা বুঝি এবং বলি, সেমতে করা এবং লাগার দ্বারা ইনশায়াল্লাহ ঐ অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যাবে, আর তা হচ্ছে, শারীরিক কষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও এবং নফসের খাহেশের খেলাপ হওয়া সত্ত্বেও মানুষ আল্লাহর হুকুমের ওপর চলতে থাকবে।

(তাযকেরায়ে হজরতজী- পৃঃ ১৭২)

৬০. তাবলীগি কাজ দ্বারা দ্বীনি পরিবেশ বনবে

হজরতজী বলেন— এই কাজের দ্বারা পরিবেশ বনবে, আর কারো অন্তরে দরদ সৃষ্টি হবে এবং চিন্তা-ফিকির শুরু হবে যে, এই উম্মত কিভাবে ইহুদ-নাসারাদের হাত থেকে ছুটবে, এবং তার দরদভরা কাঁন্না-কাটির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের পুনরায় চমকিবার ছুরত সৃষ্টি হবে। যেমন তাতারীদের সময়ে বাইশ লক্ষ্য মুসলমানের মধ্যে সতের লক্ষ মুসলমানকে শহীদ করা হয়েছিলো। আবার হজরত শেখ শাহাবুদ্দীন সোহ্রাওয়ার্দী (রহঃ)-এর চিন্তা-ফিকিরের দ্বারা দরজা খুলেছে। আকবরের দ্বীনে এলাহীর ওপর হজরত

মুজাদ্দেদে আল্ফ সানী (রহঃ)-এর হাতে দরজা খুলেছে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী- পৃঃ ৬৩২)


← আগের পর্ব (বাণী ২১–৪০)  |  সূচিপত্র  |  পরের পর্ব (বাণী ৬১–৮০) →

মূল বই: মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)। সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা। বইটির স্ক্যান কপি archive.org-এ পাওয়া যাবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *