মালফুযাত – প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ) – পর্ব ১৯: ৩৬১–৩৮০
প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর বয়ান, পরামর্শ, আমল ও দাওয়াতি জীবনের মালফুযাত, ৩৬১ থেকে ৩৮০ নম্বর। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
এই পর্বে যা আছে
- ৩৬১. স্যার বলেন, নামাজ, জিকির, সদকা, হজ, তাবলিগ বা দ্বীনের…
- ৩৬২. রাজশাহীর স্থানীয় শূরার একজন সাথী, মারকাজ ও রাজশাহীর স্থানীয়…
- ৩৬৩. স্যার বলতেন, দাওয়াত এবং আদেশ এক বিষয় নয়। আদেশ…
- ৩৬৪. স্যার বোঝাতেন, দ্বীনের মেহনতের অনেক সূক্ষ্ম বিষয় শুধু আলোচনা…
- ৩৬৫. স্যার বলতেন, মানুষ যখন বড়দের কাছে সম্মান, মহব্বত ও…
- ৩৬৬. চিল্লার জন্য ভারত সফরের উদ্দেশ্যে কাকরাইলে মাশওয়ারার পর বুয়েটের…
- ৩৬৭. একবার এক ব্যক্তি কোনো এক প্রসঙ্গে স্যারের সঙ্গে কথা…
- ৩৬৮. স্যার এক বয়ানে বলেন, আল্লাহওয়ালা মানুষদের অনেকেই দেখতে খুব…
- ৩৬৯. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭০. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭১. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭২. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৩. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৪. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৫. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৬. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৭. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৮. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৭৯. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
- ৩৮০. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
৩৬১. স্যার বলেন, নামাজ, জিকির, সদকা, হজ, তাবলিগ বা দ্বীনের…
স্যার বলেন, নামাজ, জিকির, সদকা, হজ, তাবলিগ বা দ্বীনের যেকোনো মেহনতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নফসকে দমন করা এবং দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করা। কিন্তু যদি ইখলাস নষ্ট হয়ে যায়, নিয়ত বা লক্ষ্য ঠিক না থাকে, সেই আমলের মধ্যে রিয়া, আত্মপ্রশংসা, পদমর্যাদার আকাঙ্ক্ষা, মানুষের প্রশংসা পাওয়ার বাসনা বা দুনিয়াবি স্বার্থ প্রবেশ করে, অর্থ ও সম্পদ বাড়ানোর জজবা বাড়তে থাকে, তাহলে সেই নেক আমলই পরীক্ষার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নফস দাবানোর এই আমলের দ্বারা যখন নফস খুশি হতে থাকে, তখন এই নেক আমলগুলোই মানুষের আত্মিক ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, জাহান্নামের যাবার রাস্তাকে সহজ করে।
একসময় মানুষ জিকির করত আল্লাহর সাথে সম্পর্ক জোড়ার জন্য, অন্তরে আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের ফিকির পয়দা করার জন্য। জিকিরের উসিলায় যখন দুনিয়ার লোভ বাড়তে থাকে, বড় বড় সম্পর্ক তৈরি হয় এবং খানকায় আধিপত্য বিস্তার লাভ করে, সেই জিকিরই তার পরিচিতি, প্রভাব বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জনের মাধ্যম হয়ে যায়, তখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমটিই আল্লাহকে নারাজ করার কারণে পরিণত হয়। আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা দেওয়া, গাশত করা এবং সময় লাগানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল নফসকে দাবানো এবং দুনিয়া বিমুখ হওয়া, আখেরাতমুখি চিন্তা বাড়ানো, কিন্তু কিছুদিন পর ধীরে ধীরে যখন সে জামাতের জিম্মাদার হয়, মারকাজের মশোয়ারায় বেকে বসে, বা বড় মেম্বারে বসে বয়ান করে, এলাকার ডিসি এসপি বা প্রভাবশালীদের সালাম পেয়ে নিজেকে অনেক বড় কিছু ভাবতে শুরু করে, তখন নফস দাবার পরিবর্তে নফস আরও চাঙ্গা হতে থাকে।
স্যার অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশ্ন রাখেন, যে জিকির, যে খানকা বা যে তাবলিগ ছিল আল্লাহর সাথে সম্পর্ক জূড়ানোর মাধ্যম, তা যদি টাকা কামানোর, পদের বা অন্যের কাছে বড় হবার মাধ্যম হয়ে যায়, তবে সেই আমলগুলো আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে?
৩৬২. রাজশাহীর স্থানীয় শূরার একজন সাথী, মারকাজ ও রাজশাহীর স্থানীয়…
রাজশাহীর স্থানীয় শূরার একজন সাথী, মারকাজ ও রাজশাহীর স্থানীয় তাবলিগের মেহনতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতেন। মারকাজের বিভিন্ন বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী উসূল নির্ধারণের প্রবণতাও উনার মধ্যে খুব দৃশ্যমান ছিল। মারকাজ মসজিদের একজন ইমাম ছিলেন, যিনি তাবলিগের মেহনতে সাল লাগানো একজন আলেম ও পুরোনো কর্মী সাথী ছিলেন। এসব অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারির কিছু বিষয় তিনি পছন্দ করতেন না এবং মাঝে মাঝে এর প্রতিবাদও করতেন। ঐ শূরার প্রভাবের কারণে একপর্যায়ে ঐ ইমাম সাহেবকে মারকাজ মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মারকাজ মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তিনি ঐ সময় অনেকটা ঘরমুখী হয়ে পড়েন এবং আগের মতো সরাসরি মেহনতে সক্রিয় থাকতেন না। কোনো এক সময় ইমাম সাহেবের কথা স্যারকে জানানো হয়েছিল। স্যার কথাটি শুনে রেখেছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জামাত আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও দূরবর্তী এলাকায় সফর করত। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন দিনের জামাত নিয়ে স্যার বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফর করতেন। এসব সফরের মাধ্যমে নতুন নতুন মানুষের কাছে পৌঁছানো যেত এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে দ্বীনের মেহনতের ভালো পরিবেশও তৈরি হতো। একসময় নতুন কিছু উসূলের কথা প্রচার করা হলো, তিন দিনের জামাত দশ মাইলের বেশি দূরে যেতে পারবে না, এক এলাকার (হালকা) জামাত অন্য এলাকায় যেতে পারবে না এবং এক জেলা থেকে অন্য জেলায়ও সফর করতে পারবে না।
কাজল ভাই স্যারকে এই নতুন প্রচারিত উসূলের কথা জানালে স্যার খুব ব্যথিত হলেন। এ কথা বুঝতে বাকি ছিল না যে স্যারের চলাচল সীমিত করতেই এ ধরনের উসূল করা হয়েছে; স্যারের দূরে দূরে জামাত নিয়ে যাওয়া বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নিয়মের প্রবর্তন হয়েছে। তিনি বিষণ্ণ হয়ে বলেছিলেন, “আমার জন্যই তো এই উসূল বানানো।” কথাটি বলার সময় স্যারের চেহারায় গভীর মনঃকষ্টের ছাপ দেখা যাচ্ছিল।
নিজের কষ্ট বা নতুন উসূল নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ না করে স্যার কাজল ভাইকে বললেন, *“চলো, গাশতে যাই।”* “কোথায় যাবেন, স্যার?” জিজ্ঞাসা করা হলে স্যার সেই সাবেক ইমাম সাহেবের কথা বলে উনার সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাইলেন। স্যার উনার বাড়িতে গেলেন। কাজল ভাই বলেন, মনে হচ্ছিল, হয়তো স্যার সেখানে নতুন এই উসূল, মারকাজের পরিস্থিতি, কিংবা ইমাম সাহেবের প্রতি হওয়া আচরণ নিয়ে কিছু বলবেন। কিন্তু স্যার এসবের কিছুই বললেন না। স্বাভাবিকভাবে দেখা সাক্ষাৎ করলেন। দ্বীনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মেহনতের ফিকিরে থাকার ব্যাপারে অল্প কিছু কথা বললেন। তারপর বিদায় নিয়ে চলে এলেন।
বহু বছর পর দ্বীনের মেহনতের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিভাজনের এক কঠিন সময়ে সেই মাওলানা সাহেবকেই আবার সক্রিয়ভাবে দ্বীনের মেহনতের ফিকির করতে দেখা গেল। তিনি আলেমদের কাছে যাচ্ছেন, মাদরাসায় যাচ্ছেন এবং মেহনতকে সামনে রেখে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। ইমাম সাহেবকে এক গুরুত্বপূর্ণ তাকাজায় সামনে থেকে সক্রিয় দেখে কাজল ভাই বলেন, সেই দিনের ঘটনাটি মনে পড়ে যায়, বহু বছর আগে এক মনখারাপের মুহূর্তে স্যার হঠাৎ বলেছিলেন, *“চলো, গাশতে যাই।”* (মন ভাঙার সেই কঠিন মুহূর্তে স্যার নিজের দুঃখ নিয়ে বসে না থেকে যে মানুষটির কাছে গাশতে গিয়েছিলেন, কত বছর পর সেই মানুষটিকেই দ্বীনের একটি বড় প্রয়োজনে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।)
নিজের প্রতি কোনো আচরণে কষ্ট পাওয়ার মুহূর্তেও স্যার সেই কষ্টকে অভিযোগ, প্রতিক্রিয়া বা ব্যক্তিগত বিরোধের দিকে নিয়ে যাননি; সম্পর্কচ্ছেদের দিকেও নিয়ে যাননি। বরং সঙ্গে সঙ্গেই দ্বীনের একটি কাজে নিজেকে ব্যস্ত করেছেন; সেই মুহূর্তেই উনার মনে পড়েছে এমন একজন আলেমের কথা, যিনি একসময় দ্বীনের মেহনতে সক্রিয় ছিলেন। নিজের মনখারাপকে পাশে রেখে তিনি উনার কাছে পৌঁছে গেলেন। আবার উনার কাছে গিয়েও নিজের কষ্টের কথা না বলে দ্বীনের সম্পর্কটুকু জাগিয়ে দিয়ে ফিরে এলেন।
স্যারের সঙ্গে সেদিনের সেই গাশতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাজল ভাই বলেন, দ্বীনের ফিকিরের কোনো প্রচেষ্টাই ছোট নয়। আজকের একটি দেখা সাক্ষাৎ, একটি গাশত, কয়েক মিনিটের একটি কথা কিংবা কারও অন্তরে রেখে আসা দ্বীনের সামান্য একটি ফিকির আল্লাহ চাইলে বহু বছর পরও বড় কোনো খায়েরের উপলক্ষ হতে পারে। স্যার বিভিন্ন বয়ানে নানা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাতেন, *দাঈর কাজ বীজ বপন করে যাওয়া; কখন, কোথায় এবং কীভাবে সেই বীজ অঙ্কুরিত হবে, তা আল্লাহ তাআলাই জানেন।*
৩৬৩. স্যার বলতেন, দাওয়াত এবং আদেশ এক বিষয় নয়। আদেশ…
স্যার বলতেন, দাওয়াত এবং আদেশ এক বিষয় নয়। আদেশ দেওয়ার জন্য একধরনের কর্তৃত্ব ও সম্পর্ক প্রয়োজন; নিষেধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন আরও বেশি প্রজ্ঞা, সামর্থ্য ও শরয়ি সীমারেখা। কিন্তু দাওয়াতের দরজা প্রত্যেক মানুষের জন্য খোলা। দাওয়াত হলো ভালোবাসা ও শুভকামনার সঙ্গে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, তার অন্তরে নেক আমলের আগ্রহ জাগানো এবং তাকে আল্লাহর দিকে এগিয়ে দেওয়া।
এ প্রসঙ্গে স্যার একবার হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবদুল ওহাব সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহির- একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। রেলস্টেশনে অপেক্ষার সময় হযরত আবদুল ওহাব সাহেব সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে নামাজ পড়ার কথা বলছিলেন। তখন হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান সাহেব বললেন, “তুমি তো তাদের আদেশ দিলে; দাওয়াত দিলে না।” (বয়োজ্যেষ্ঠতার অবস্থান থেকে আদেশের ভঙ্গিতে কোনো কথা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং নামাজের গুরুত্ব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে মানুষের অন্তরে নামাজের আগ্রহ সৃষ্টি করা হলো দাওয়াত)।
اُدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আপনি আপনার রবের পথে আহ্বান করুন হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন সর্বোত্তম পন্থায়।”
এই আয়াত উল্লেখ করে স্যার বলেন, দাওয়াতের মেজাজ শাসন করা বা আদেশ করা নয়, মানুষের অন্তর জয় করা; তর্কে পরাজিত করা নয়, বরং কল্যাণের পথে উৎসাহিত করা। দাঈর কথায় যেমন হিকমত থাকবে, তেমনি আচরণে কোমলতা থাকবে; এবং অন্তরে থাকবে মানুষের হেদায়াত ও কল্যাণের প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
৩৬৪. স্যার বোঝাতেন, দ্বীনের মেহনতের অনেক সূক্ষ্ম বিষয় শুধু আলোচনা…
স্যার বোঝাতেন, দ্বীনের মেহনতের অনেক সূক্ষ্ম বিষয় শুধু আলোচনা ও তত্ত্বের মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা যায় না; মেহনত করতে করতে তার বুঝ সৃষ্টি হয়। স্যার বলতেন, যে করে, সে বোঝে। স্যার একবার বলেন দাওয়াত ও দ্বীনের মেহনত কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় না; ময়দানে থেকে মানুষের অবস্থা, পরিবেশ, সময় ও পরিস্থিতির দাবি বুঝে কাজ করতে করতে একজন দাঈ উপলব্ধি করেন, কোথায় কি ব্যবস্থা উপযুক্ত। একই নীতি সব ব্যক্তি ও সব পরিস্থিতিতে একইভাবে প্রয়োগ করা যায় না। ময়দানে কাজের সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত থাকলে আল্লাহ তাআলা অবস্থার দাবি বুঝে যথাযথ পন্থা অবলম্বনের ফাহম ও প্রজ্ঞা দান করেন।
প্রাসঙ্গিক আলোচনায় স্যার একবার হজের সফরের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। হেরেম শরীফে অবস্থানকালে তিনি হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহির নিকট একটি বিষয় জানতে চান।
স্যার বলেন, আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও হযরত হারূন আলাইহিস সালামকে ফেরাউনের মতো সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তির নিকট পাঠিয়েও নির্দেশ দিয়েছেন,
﴿فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ﴾
“তোমরা তার সঙ্গে কোমলভাবে কথা বলো, যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে অথবা ভয় করে।”
অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা অন্য স্থানে নির্দেশ দিয়েছেন,
﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ﴾
“হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন।”
স্যার হযরতজির নিকট জানতে চান, উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর নবীগণকে কাফেরদের মোকাবেলায় পাঠানো হয়েছে। অথচ এক স্থানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোমলভাবে কথা বলতে, আর অন্য স্থানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কঠোরতা অবলম্বন করতে। এই পার্থক্যের কারণ কী?
স্যার বলেন, হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত কথা বলতেন। দীর্ঘ ব্যাখ্যায় না গিয়ে তিনি মাত্র একটি বাক্যে উত্তর দিলেন,
“جو کرتا ہے وہ سمجھتا ہے۔”
“যে করে, সে বোঝে।”
৩৬৫. স্যার বলতেন, মানুষ যখন বড়দের কাছে সম্মান, মহব্বত ও…
স্যার বলতেন, মানুষ যখন বড়দের কাছে সম্মান, মহব্বত ও প্রশস্ততা পায়, তখন তার অন্তরও উনাদের জন্য এবং দ্বীনের মেহনতের জন্য ঝুকে যায়। একজন সাথীকে শুধু তার ত্রুটি, দুর্বলতা কিংবা দ্বীনের কাজে সে কতটুকু সময় দিচ্ছে, সেই মাপকাঠিতে বিচার না করে তার ভালো দিকগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া, বৈধ ও কল্যাণকর কাজে তাকে উৎসাহিত করা এবং তাকে আপন করে নেওয়া প্রয়োজন।
স্যার বলেন, কাউকে কাছে আনার জন্য সব সময় তাকে উপদেশ দেওয়াই জরুরি নয়; কখনো তার ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, তার আনন্দে আনন্দিত হওয়া এবং দুটো উৎসাহের কথা বলাও তার অন্তরে গভীর প্রভাব সৃষ্টি করে। আবার সংকীর্ণতা, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি কিংবা প্রত্যেক বৈধ দুনিয়াবি ব্যস্ততাকে ছোট করে দেখলে মানুষ দ্বীনের কাছাকাছি হওয়ার পরিবর্তে দূরেও সরে যেতে পারে।
স্যার একবার নিজামুদ্দিন মারকাজে অবস্থান করছিলেন। সে সময় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় একটি সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দিনে সেখানে যাওয়ার আগে তিনি হযরত মাওলানা আহমদ লাট সাহেবকে বললেন যে, তিনি জামিয়া মিলিয়ার একটি সেমিনারে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
স্যার বলেন, কথাটি শুনে হযরত মাওলানা আহমদ লাট সাহেব এমনভাবে আনন্দ প্রকাশ করলেন এবং উৎসাহ দিলেন, যেন তিনি কোনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজেই যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি স্যারকে হাত ধরে (সঙ্গে করে) হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহমতুল্লাহ আলাইহি এর কাছেও নিয়ে গেলেন এবং বিষয়টি উনাকে জানালেন। হযরতজি ইনআমুল হাসান সাহেব শুনে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন, “ہاں بھائی، ہاں بھائی، ضرور جانا چاہیے۔” (হ্যাঁ ভাই, হ্যাঁ ভাই, অবশ্যই যাওয়া উচিত)।
স্যার এ ঘটনা উল্লেখ করে উনাদের দিলের প্রশস্ততার কথা বুঝাতেন। আমি তো সেখানে দ্বীনের কোনো বিশেষ কাজে যাচ্ছিলাম না; একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে একাডেমিক কাজে যাচ্ছিলাম। অথচ উনারা আমার কাজকে তুচ্ছ করেননি, নিরুৎসাহিত করেননি কিংবা এমন মনোভাবও দেখাননি যে, নিজামুদ্দিনে (মারকাজে) এসে আবার দুনিয়াবি কাজে যাওয়ার কী প্রয়োজন! বরং উনারা আমার কাজে আগ্রহ দেখিয়েছেন, আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আমাকে আরও উৎসাহ দিয়েছেন।
স্যার কালামে পাকের আয়াত উল্লেখ করে বলেন:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।”
স্যার বলতেন, দ্বীনের মেহনতে মানুষকে আগে বাড়ানোর একটি বড় উসূল হলো তার দিলকে জয় করা। বড় হওয়া শুধু কথা বলা বা নির্দেশ দেওয়ার নাম নয়; বড় হওয়ার একটি পরিচয় হলো দিল বড় হওয়া, মানুষকে অন্তরে জায়গা দেওয়া, তার ভালোকে স্বীকৃতি দেওয়া, মহব্বতের সঙ্গে তাকে সামনে এগিয়ে দেওয়া। বড় যে তার দিল প্রশস্ত হয়, উনারা মানুষকে শুধু তার একটি কাজ বা একটি পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে দেখেন না।
৩৬৬. চিল্লার জন্য ভারত সফরের উদ্দেশ্যে কাকরাইলে মাশওয়ারার পর বুয়েটের…
চিল্লার জন্য ভারত সফরের উদ্দেশ্যে কাকরাইলে মাশওয়ারার পর বুয়েটের নয়জন ছাত্র এবং খায়রুল বাসার ভাইসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরা দুজনসহ মোট এগারোজনকে এক জামাতে একত্র করা হয়। আমাদের জামাতের সফরের যিম্মাদার নিযুক্ত হন বুয়েটের এক হলের যিম্মাদার সাথী মাসুম ভাই। ঢাকার সাথী হিসেবে কাকরাইলের অনেক মুরব্বির সঙ্গে উনার পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ভারত সফরে রওনা দেওয়ার আগে তিনি আমাদের জামাতের সবাইকে নিয়ে কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন। উদ্দেশ্য ছিল সালাম-মুসাফাহা করা, দোয়া নেওয়া এবং সফরের জন্য বিশেষ কিছু হেদায়েতের কথা শোনা। যদিও জামাতের আনুষ্ঠানিক হেদায়েত ইতোমধ্যে হয়ে গিয়েছিল।
এভাবে মাওলানা রুহুল কিস্ত সাহেব, আজিজুল মাকসুদ সাহেব, ওয়ালীউল ইসলাম ভাই, হাজি আব্দুল মুকিত সাহেবসহ কাকরাইলের আরও কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। প্রত্যেকেই আমাদের সফরের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েতের কথা বলেন। একপর্যায়ে একজন বিশিষ্ট মুরব্বির কামরায় উপস্থিত হলে ছাত্রদের জামাত পরীক্ষার পর চিল্লার জন্য ভারত সফরে যাচ্ছে, তিনি বাহবা বাহবা বলে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি আমাদের বিশেষভাবে উর্দু ভাষা শেখার গুরুত্ব বোঝান। বলেন, তোমরা বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মনে করবে, এখন আর তোমাদের কথাবার্তার ভাষা বাংলা নয়, উর্দু। উর্দু পারো আর না পারো, যতটুকু পারো, যেভাবেই পারো, নিজেদের মধ্যে উর্দুতে কথা বলা শুরু করবে।
তিনি বোঝান, তাবলিগের মেহনতে উর্দু একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ভাষা। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা, দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজসহ দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বড় মুরব্বিরা উর্দুতে বয়ান করেন। তাবলিগের বড়দের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাবও উর্দু ভাষায় রচিত। উর্দু শিখতে পারলে মুরব্বিদের কথা সরাসরি বোঝা যায় এবং উনাদের বয়ান ও কিতাব থেকে তর্জমা ছাড়াই উপকৃত হওয়া যায়। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সীমান্তে প্রবেশ করার পর নিজেদের মধ্যে আর বাংলা ভাষায় কথা বলবে না। এই চিল্লার সফর থেকে অন্তত উর্দুতে সাধারণ কথোপকথন করার যোগ্যতা অর্জন করে দেশে ফিরবে। বস্তুত উনার হেদায়েতের প্রধান বিষয় ছিল, ভারত সফরের সুযোগে আমরা যেন উর্দু ভাষা শিখে আসতে পারি।
উনার কামরা থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় কাকরাইল মসজিদের দোতলার করিডোরে স্যারের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। জামাতের যিম্মাদার মাসুম ভাই স্যারকে বললেন, ‘স্যার, আমরা আল্লাহর রাস্তায় ভারত সফরে যাচ্ছি। আমাদের জামাতের জন্য কিছু হেদায়েতের কথা বলেন।’ স্যার আমাদের সবাইকে নিয়ে করিডোরেই বসে পড়লেন। স্যার কথার শুরুতেই বললেন, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ভারত সফরে যাচ্ছ; ভাষা শেখার চক্করে পড়বে না (উর্দু শেখার চক্করে পড়বে না)। আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার উদ্দেশ্য কী? আল্লাহকে রাজি করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
স্যারের মুখে কথাগুলো শুনে আমরা বিশেষভাবে লক্ষ করলাম, এই অল্প কিছুক্ষণ আগে যে মুরব্বি আমাদের পুরো সফরে উর্দু ভাষা শেখার ওপর এত গুরুত্ব দিয়েছেন, স্যার সেই একই বিষয়কে সামনে এনে সফরের মূল উদ্দেশ্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
স্যার বলেন, আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজেকে আল্লাহর কাছে মকবুল বানানো, নিজের জীবনে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী চলার যোগ্যতা সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই সফরের মাধ্যমে আমার অন্তরে যেন আল্লাহর মহব্বত ও দ্বীনের ফিকির পয়দা হয়, এটাই হবে আমার আসল নিয়ত ও মাকসাদ।
স্যার আমাদের বোঝালেন, সফরে চলতে গিয়ে উর্দু ভাষা শেখা হতে পারে, বয়ান করার যোগ্যতা সৃষ্টি হতে পারে, মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা এবং দ্বীনের বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগও হতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটি যেন সফরের মূল উদ্দেশ্যের স্থলাভিষিক্ত না হয়। আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার উদ্দেশ্য ভাষা শেখা, বয়ান করা কিংবা বক্তৃতার যোগ্যতা অর্জন করা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এসব আনুষঙ্গিক অর্জনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে যেন সফরের আসল মাকসাদ থেকে দৃষ্টি সরে না যায়।
ঘটনাটি মনে বিশেষভাবে দাগ কেটে আছে। একই সময়ে, একই সফরের প্রাক্কালে, মাত্র কিছুক্ষণের ব্যবধানে আমরা দুজন মুরব্বির কাছ থেকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণের হেদায়েত শুনেছিলাম। সেদিন স্যারের এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর হেদায়েত আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার আসল মাকসাদকে নতুনভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছিল।
৩৬৭. একবার এক ব্যক্তি কোনো এক প্রসঙ্গে স্যারের সঙ্গে কথা…
একবার এক ব্যক্তি কোনো এক প্রসঙ্গে স্যারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বললেন, ‘স্যার, এই ব্যাপারে আমাদের এলাকার উলামারা এমন কথা বলেন।’ উনার কথার জবাবে স্যার বললেন, ‘মনে করো, তোমার গ্রামে বিশজন এমএ পাস লোক আছে। তুমি কি বলবে, আমার গ্রামে বিশজন জ্ঞানী লোক আছে? তুমি বলবে, আমার গ্রামে বিশজন এমএ পাস করা লোক আছে। এমএ পাস করলেই তো কাউকে জ্ঞানী বলা যায় না।’
স্যার দ্বীনি শিক্ষার প্রসঙ্গ এনে বললেন, একইভাবে তোমার এলাকায় বিশজন দাওরায়ে হাদিস পাস করা ছেলে থাকতে পারে, ফাজিল বা টাইটেল পাস করা লোক থাকতে পারে। তুমি বলতে পারো, আমার এলাকায় বিশজন দাওরা পাস করা লোক আছে। কিন্তু শুধু দাওরা পাস করেছে বলেই তাদের সবাইকে আলেম বলা যাবে না। ইফতা কোর্স সম্পন্ন করেছে বলেই কেউ প্রকৃত অর্থে মুফতি হয়ে যায় না। আলেম, মুফতি তো অনেক বড় ব্যাপার! স্যার বিশেষভাবে বললেন, ‘আলেমের অন্য ডেফিনেশন (Definition) আছে।’ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সনদ অর্জন করা এক বিষয়, আর প্রকৃত অর্থে আলেম বা মুফতি হওয়া অন্য বিষয়। একজন প্রকৃত আলেম ইলমের মর্যাদা ও তার যথাযথ প্রয়োগ বোঝেন এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন।
ইলমের গভীরতা, সঠিক বুঝ, আমল, তাকওয়া, দায়িত্ববোধ এবং নিজের ইলমের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা একজন প্রকৃত আলেমের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। স্যার স্পষ্ট করেন, আলেম ও মুফতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পরিচয়, যার সঙ্গে গভীর ইলম, যোগ্যতা, আমানতদারি ও সতর্কতার গুরুদায়িত্ব জড়িত। শুধু শিক্ষাগত সনদ বা বাহ্যিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও বক্তব্যকে উলামায়ে কেরামের সম্মিলিত বা প্রামাণ্য মত হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। দ্বীনি বিষয়ে কোনো কথা বলা, প্রচার করা কিংবা কারও নামে উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
৩৬৮. স্যার এক বয়ানে বলেন, আল্লাহওয়ালা মানুষদের অনেকেই দেখতে খুব…
স্যার এক বয়ানে বলেন, আল্লাহওয়ালা মানুষদের অনেকেই দেখতে খুব সাদাসিধা হন। বাস্তবেও উনারা সহজ সরল প্রকৃতির হয়ে থাকেন। বাহ্যিকভাবে দেখে কখনো মনে হতে পারে, উনারা খুব একটা চালাক চতুর নন, অনেকটা হাবাগোবা ধরনের মানুষ। কিন্তু কাজের সময়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উনারা অত্যন্ত সজাগ, সতর্ক ও বিচক্ষণ হন।
অন্যদিকে, দুনিয়াদার মানুষদের অনেকেই সাধারণ কথাবার্তা ও দৈনন্দিন আচরণে নিজেদের অত্যন্ত বুদ্ধিমান, চালাক ও সতর্ক বলে প্রকাশ করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় দেখা যায়, উনাদের সেই চালাকি ও বুদ্ধিমত্তা যথাযথভাবে কাজে আসে না। কখনো এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন, যা উনাদের সাধারণ চালাকির সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়।
স্যার প্রসঙ্গক্রমে বলেন, এক ব্যক্তি একজন সাহাবিকে হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের খলিফা কেমন?’ জবাবে সেই সাহাবি অত্যন্ত সংক্ষেপে বললেন, ‘তিনি ধোঁকা দেন না, ধোঁকা খানও না।’ স্যার কথাটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বললেন, একজন দ্বীনদার, পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি অন্যকে ধোঁকা দেবেন না, এটা তো বোঝা গেল। কিন্তু তিনি নিজে ধোঁকা খাবেন না কেন? অন্যের ধোঁকা থেকে তিনি কীভাবে বেঁচে থাকবেন? স্যার বললেন, ‘আল্লাহ পাক নিজেই উনাকে অন্যের ধোঁকা থেকে হেফাজত করেন।’
যে ব্যক্তি নিজে কাউকে ধোঁকা দেয় না, আল্লাহ তাআলা উনাকে অন্যের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে নিজ কুদরতে হেফাজত করেন। একজন মানুষ বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত সাদাসিধা হতে পারেন; উনার মধ্যে দুনিয়াবি চালাকি চতুরতা নাও থাকতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যদি উনাকে নিজের হেফাজতে রাখেন, তাহলে অন্যের চালাকি উনার কী ক্ষতি করতে পারে? আল্লাহ তাআলা যাঁকে হেফাজত করেন, উনার জন্য মানুষের চালাকি চতুরতার ওপর নির্ভর করার কী প্রয়োজন?
৩৬৯. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭০. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭১. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭২. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৩. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৪. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৫. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৬. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৭. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৮. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৭৯. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
৩৮০. এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে
এখানে মালফুযাতের মূল লেখা থাকবে।
← আগের পর্ব (৩৪১–৩৬০) | সূচিপত্র | পরের পর্ব (৩৮১–৪০০) →
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
