|

মালফুজাতে হযরতজী ইউসুফ (রহঃ) – পর্ব ৯: বাণী ১৬১–১৮০

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ) বইয়ের ১৬১ থেকে ১৮০ নম্বর বাণী এই পর্বে দেওয়া হলো। সম্পূর্ণ সূচি ও বইয়ের ভূমিকা দেখুন।

সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা।

এই পর্বে যা আছে


১৬১. আফসোস! পৃথিবীর কোন একটা অংশ যদি এমন পাওয়া যেতো, যেখানে ইসলাম তার সঠিক অবয়বের সাথে নজরে আসতো

হজরতজী (র) অধিকাংশ সময় পেরেশান হয়ে বলতেন— আফসোস! আল্লাহ! আমি কি করবো? আর কখনো বলতেন ঃ আফসোস! পৃথিবীর কোন অংশ যদি এমন পাওয়া যেতো, যেখানে ইসলামকে তার সম্পূর্ণ অবয়বের সাথে দেখতে পেতাম।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৬৭৪)

১৬২. মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস (র) এবং মাওলানা ইউসুফ সাহেব (র)-এর মধ্যে মরতবার পার্থক্য

হজরতজী বলেন— আমার মধ্যে আর হজরত মাওলানা ইলিয়াস (র) এর মধ্যে পার্থক্য এই যে, হজরত মাওলানা ইলিয়াস (র) পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষদেরকে চূড়ার ওপর ডাকতে ছিলেন, আর আমি পাহাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার দাওয়াত দিচ্ছি।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৬৮৪)

১৬৩. উম্মতের মূর্খতা দূর করার ফর্মুলা

হজরতজী বলেন— উম্মতের মুর্খতা দূর করা এবং উম্মতের মধ্যে এলেমের প্রয়োজন পুরা করার জন্য চার প্রকারের জয্বা বা আবেগ সৃষ্টি করা জরুরী। ১। শোনার জয্বা, ২। শোনাবার জয্বা, ৩। শেখার জয্বা, ৪। শেখাবার জয্বা।

(তাবলীগ কা মাকামী কাম-পৃঃ ৫৯)

১৬৪. উম্মতের প্রতিটি শ্রেণী আপন আপন জীবনের শৃঙ্খলা যেনো কায়েম করে

হজরতজী বলেন— প্রতিটি মুসলমান, চাই সে আলেম হোক বা দরবেশ, বুজর্গ হোক বা হাফেজ, শাসক হোক বা শাসিত, ব্যবসায়ী হোক বা কৃষিজীবী, শ্রমিক হোক বা ফকীর, শহুরে হোক বা গ্রামের, মোট কথা সব শ্রেণীর লোক অর্থাৎ উম্মতের সমস্ত রকম লোক নিজ নিজ জিন্দেগীর শৃঙ্খলা কায়েম করা চাই।

(তাবলীগ কা মাকামী কাম-পৃঃ ৯৩)

১৬৫. দুনিয়াতে ফেতনা আসার কারণ

হজরতজী বলেন— দুনিয়াতে যতো রকমের ফেতনা আসে, তার সবটা অতিরিক্ত সময়কে গলত ব্যবহারের কারণে হয়। মানুষের আকলের কান যদি খুলে যেতো কতোইনা ভালো হতো।

(তাবলীগ কা মাকামী কাম-পৃঃ ৯৯)

১৬৬. এই দাওয়াত ওয়ালা কাজ আগুনের ওপর পানি ঢেলে দেয়

হজরতজী কোন কোন সময় বে-কারার হয়ে বলতেন— তোমরা কোরবানী বাড়াচ্ছোনা কেনো? তাহলে অমুসলিমরাও ঈমানওয়ালা হয়ে যেতো এবং সব সময়ের দোজখ থেকে বেঁচে যেতো। আরো বলতেন ঃ এই দাওয়াতওয়ালা কাজ আগুনের ওপর পানি ঢেলে দেয়।

(তাবলীগ কা মাকামী কাম- পৃঃ ১৬৬)

১৬৭. উম্মতকে টুকরা করার জিনিস হলো লেনদেন ও সামাজিক আচার-আচরণের নষ্টামীসমূহ

হজরতজী বলেন— উম্মত তখনই গড়বে, যখন উম্মতের হার তবকা কোন পার্থক্য ছাড়া ঐ কাজে লেগে যাবে, যা হুজুর (স) দিয়ে গেছেন। এবং স্মরণ রাখবে! উম্মতের ঐক্য নষ্ট করার জিনিস হচ্ছে, লেনদেন এবং সামাজিক আচার-আচরণের খারাপ দিকগুলো।

(তাবলীগী তাহ্রীক-পৃঃ ৫২)

১৬৮. একে অপরের বেশী মাখামাখি বা বেতাকাল্লুফী অন্তর সমূহকে ভাঙ্গার কারণ হয়

হজরতজী বলেন— একে অপরের বেশী মাখা-মাখি থেকে বেঁচে থাক, কেননা, এ থেকে বে-একরামী আরম্ভ হয়ে যায়, আর বে-একরামী থেকে অন্তর ভাঙ্গে।

(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)-পৃঃ ১৯৬)

১৬৯. উম্মতের অবস্থা

হজরতজী বলেন— যখন মুসলমান এক উম্মত ছিলো, তখন একজন মুসলমান নিহত হওয়ার কারণে সমস্ত উম্মত নড়েচড়ে উঠতো। এখন তো হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মুসলমানের গলাকাটা হয় কিন্তু কানে গেছে বলেও মনে হয়না।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-পৃঃ ১৫১)

১৭০. বিমানের পরিবর্তে রেলগাড়িতে সফর করা

মাদরাজের সফর ছিলো, মাদ্রাজ ওয়ালাদের হজরতজী (র)-এর সফর বিমানের মাধ্যমে করতে চাচ্ছিলো, যখন হজরতজী তা শুনতে পেলেন, তখন তাদেরকে বললেন— আমি তোমাদেরকে বিমান থেকে পায়দলের ওপর আনতে চাচ্ছি, আর তোমরা আমার কাছে তার উল্টোটার আশা করছো, এবং একথা বলে নিষেধ করে দিলেন এবং রেলগাড়িতে সফর করলেন।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৩৪২)

১৭১. সমষ্টিগত ব্যবস্থাপনা বিগড়ে যাবার অবস্থায় আওলিয়া কেরামের দোয়াও অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না

হজরতজী বলেন— সমষ্টিগত অবস্থা বিগড়ে যাবার অবস্থায় যদি জাতির আল্লাহ ওয়ালারা তা শুধরাবার জন্য রাত্রে কেঁদে কেঁদে দোয়া করে, তখন তাঁদের দোয়াও অবস্থাকে ভালো বানাতে পারে না।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-১৪৭)

১৭২. একে অপরের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চিকিৎসা

হজরতজী বলেন— বর্তমানে হার তবকার মধ্যে প্রত্যেক জায়গায় যে অধঃপতন চলছে এবং অবস্থা বিগড়ে চলেছে, এর চিকিৎসা শুধু মোহাম্মদ (স)-এর তরীকার মধ্যে নিহিত আছে।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-১৩৬)

১৭৩. আশ্চর্যজনক রহস্য

হজরতজী বলেন— আমাদের খান্দানে যখন নাতির জন্ম হয়, তখন দাদার মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হয়ে আসে, যেমন আমার এখানে যখন আমার ছেলে হারুনের জন্ম হলো, তখন হজরত মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস (র) এরশাদ করলেন, এখন আমার সময় শেষ, এমনিভাবে এখন মৌলভী হারুনের সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে তো আমার সময় কাছে এসে গেছে।

(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ-১৯৩)

১৭৪. বর্তমানে উম্মতের মধ্যে ভাল-মন্দ, নেকী-বদীর পার্থক্য বাকী থাকেনি

হজরতজী বলেন— বর্তমানে ভাল-মন্দ ও নেকী-বদীর পার্থক্য বাকী থাকেনি। যদি বর্তমান যামানায় আমরা সবাই মিলে এই কাজ আঞ্জাম দিয়ে ফেলতে পারি যে, উম্মত ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে শুরু করে, তাহলে বহুত বড় কাজ হবে, নামাজের তাশফীল, যাকাতের ব্যবস্থাপনা, রমজানে রোজার এহতেমাম, ফরজ হজ্বের আদবের পূর্ণতা এবং অন্যান্য সমস্ত চারিত্রিক ও সামাজিক বিশুদ্ধতার অবস্থাতো আরো পরের স্টেজ।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-৪৪)

১৭৫. সমস্ত ব্যবস্থাপনা ঠিক হয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য

হজরতজী বলেন— আমরা এটা চাই যে, বাজার থেকে মসজিদ পর্যন্তের সমস্ত ব্যবস্থাপনা এবং মসজিদ থেকে আল্লাহর ঘর পর্যন্তের সমস্ত ব্যবস্থাপনা ঠিক হয়ে যাক।

(তাযকেরায়ে হজরতজী – ৪৪)

১৭৬. বস্তু ক্ষতি ও উপকার সাধনে আল্লাহর মুহ্তাজ

হজরতজী বলেন— আল্লাহ থেকে সবকিছু হয়, বস্তু থেকে কিছুই হয় না, বস্তু ক্ষতি ও উপকার সাধনে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন।

(তাযকেরায়ে হজরতজী – ৪৬)

১৭৭. হজরতজীর এন্তেকালের কয়েক মিনিট আগের অবস্থা

হজরতজী (র) এন্তেকালের কয়েক মিনিট আগে এ কথাগুলো বলেছেন— “আমার সাথে কে আছে?” তাঁর সাথীদের সাথে থাকার উত্তরে এরশাদ করেন, “আমার সাথে কেউ নেই, আমার সাথে আমার আল্লাহ আছেন।”

(তাযকেরায়ে হজরতজী- ৬২)

১৭৮. সুন্নত মোতাবেক পেশাব-পায়খানা করার মধ্যেও নূর আছে

হজরতজী বলেন— বিজ্ঞ সুফিয়ায়ে কেরাম বলেছেন যে, সুন্নত মোতাবেক পেশাব-পায়খানা থেকে ফারেগ হওয়া ও পবিত্রতা অর্জন করার মধ্যে যে সমস্ত নূর বিদ্যমান আছে, পরবর্তীকালে দ্বীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট বড় বড় বিভাগ বা শাখা-প্রশাখায়ও তা নেই।

(তাযকেরায়ে হজরতজী – ৬৩)

১৭৯. বান্দার কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মেহনত করা

হজরতজী বলেন— ফলাফল তো শুধু আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের হাতের মধ্যে, ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে বান্দা আদিষ্ট নয়। তার নিজের কাজ তো এমন এক তরীকায় মেহনত করার ওপর জমে থাকার যোগ্যতা অর্জন করা, যাতে আল্লাহ তায়ালার পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, এবং উঁচু মাপের মেহনতকারীদের মধ্যে গণ্য হয়।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ – ৫৫)

১৮০. তর-তাজা হবার দরজা কখন খোলা হবে?

হজরতজী বলেন— বর্তমানে এই উম্মতের জন্য রহমতের দুয়ার হুজুর (স)-এর মেহনতের বরকত ও তোফায়েলে খোলা আছে। বস! হুজুর (স)-এর তরীকায় মেহনতকে রেওয়াজ দেয়ার ওপর সামান্যতমও যদি মেহনত করা হয়, তাহলে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এই উম্মতের তর-তাজা হবার দরজাকে পুরোপুরিভাবে খুলে দেবেন।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ – ৬২)


← আগের পর্ব (বাণী ১৪১–১৬০)  |  সূচিপত্র  |  পরের পর্ব (বাণী ১৮১–২০০) →

মূল বই: মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)। সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা। বইটির স্ক্যান কপি archive.org-এ পাওয়া যাবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *