|

মালফুজাতে হযরতজী ইউসুফ (রহঃ) – পর্ব ৮: বাণী ১৪১–১৬০

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ) বইয়ের ১৪১ থেকে ১৬০ নম্বর বাণী এই পর্বে দেওয়া হলো। সম্পূর্ণ সূচি ও বইয়ের ভূমিকা দেখুন।

সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা।

এই পর্বে যা আছে


১৪১. আমরা এটা চাইনা যে, বোখারী শরীফ পড়ানেওয়ালাদেরকে আত্তাহিইয়াতু শেখানোর কাজে লাগাবো

আলেমদের শিক্ষাবর্ষ শেষে কোন এক মজলিসে হজরতজী বলেন— আমরা এটা চাইনা যে, বোখারী শরীফ পড়ানেওয়ালাকে আত্তাহিইয়াতু শেখানোর কাজে লাগানো হোক, হাঁ একথা অবশ্যই চাই যে, “আত্তাহিইয়াত” শেখানোর গুরুত্ব বোখারী শরীফ পড়ানেওয়ালাদের কাছেও যেন অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করে। কেননা, এটাও হুজুর (স)-এর এলেমসমূহের মধ্য থেকে একটি এলেম। এটাকে গুরুত্ব না দেয়া লোক কোন কাজের হবেনা। আর এটাও চাই যে, শিক্ষার এই নিম্নতম দরজাও দক্ষ বোখারীওয়ালাদের ছত্রছায়ায় যেনো হয়।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-পৃঃ ৫৩)

১৪২. আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া যে কোন নিয়তে আমল করা অহংকার বা আড়ম্বর

এন্তেকালের মাত্র দুই দিন আগে হজরতজী বলেন— আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য যে কোন নিয়তে আমল করা আড়ম্বর বা অহংকার। মাল হয়ে যাক, মাল বেড়ে যাক, মানুষ প্রশংসা করুক, বড় হয়ে যাই, প্রসিদ্ধি লাভ, সবার জন্য ঠিকানা হয়ে যাই, আমার কথা চলা শুরু করুক, আমার অবস্থান স্বীকার করা হোক, আমার রায় জিজ্ঞাসা করা হোক, এই সমস্ত উদ্দেশ্যাবলীর জন্য আমল করা কক্ষণো এখলাস এবং লিল্লাহিইয়ত নয়। এমনকি আল্লাহর মুখলেস বান্দারা তো আল্লাহর ওয়াদাসমূহের ওপর একীন রেখে ঐ ওয়াদাকৃত বস্তুর জন্যও আমল করেননা। এ জন্যে যে, ওয়াদাকৃত বস্তু অবশ্যই ওয়াদা মোতাবেক পাওয়া যাবে, কিন্তু তা মকসুদ নয়। আর যে ওয়াদাকৃতকে মকসুদ বানিয়ে করে, সে ওয়াদাকৃত ঐ সমস্ত বস্তুর মধ্যেই ফেঁসে যায়। আর যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে উদ্দেশ্য বানিয়ে চলে, তার ওপর যখন আল্লাহপাকের ওয়াদাকৃত বস্তুসমূহ পুরা হতে থাকে এবং মুলক ও মালের নেয়ামতসমূহ পাওয়া যায়, তখন সে ঐ সমস্ত নেয়ামতকে নিজের ব্যক্তির ওপর খরচ করার পরিবর্তে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে এবং আল্লাহর মখলুকের ওপর শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খরচ করে দেয়। যেমনটি সাহাবায়ে কেরাম (রা) করেছিলেন।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-পৃঃ ৫৩)

১৪৩. হুজুর (স)-এর সামাজিক আদান প্রদানের ভিত্তি পবিত্রতা, সরলতা এবং লজ্জা শরমের ওপর।

হজরতজী বলেন— হুজুর (স)-এর সামাজিক আদান প্রদানের ভিত্তি পবিত্রতা, সরলতা ও লজ্জা-শরমের ওপর। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যের দেয়া সামাজিক আদান প্রদানের ভিত্তি নির্লজ্জতা, অপব্যয় ও বিলাসিতার ওপর। তোমাদের কাছে তাদের সামাজিক আচার-আচরণ ভালো লাগতে লাগলো? যারা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের রক্ত প্রবাহিত করেছে, পবিত্রতা নষ্ট করেছে, দেশ ছিনিয়ে নিয়েছে। আর এখনো তোমাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে এমনভাবে পালছে, যেভাবে তোমরা মুর্গী পালন করে থাক। (অর্থাৎ জবাই করার জন্য) আর যেই পবিত্র সত্তা (স) তোমাদের জন্য রক্ত ভাসিয়েছেন, দান্দান মোবারক শহীদ করিয়েছেন, হজরত হামজাহ (রা)-এর মতো চাচাকে শহীদ করিয়েছেন, তোমাদের জন্য রাত্রি জাগরণ করে কাটিয়েছেন, তাঁর সামাজিক আচার-আচরণ তোমাদের ভালো লাগলোনা।

বন্ধুরা ঃ হুজুর (স)-এর সামাজিক আচার-আচরণ ও কেয়ামত পর্যন্তের জন্য। যেমনি তাঁর নবুওয়ত কেয়ামত পর্যন্তের জন্য। যখন তোমাদের মধ্যে ঈমানের নূর আসবে, তখন তোমাদের কাছে হুজুর (স)-এর সামাজিক আচার আচরণের এক একটি জিনিস পছন্দ হতে থাকবে।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-পৃঃ ৫৪)

১৪৪. নেবার লোক বদলে গেছে কিন্তু দেনেওয়ালা তো বদলায়নি

হজরতজী বলেন— শায়খুল হাদীস হজরত মাওলানা যাকারিয়া (র) হজরতজী মাওলানা ইউসুফ (র)-এর অন্তরের প্রশস্ততা ও দান-দক্ষিণাকে দেখে একবার বললেন, “মৌলবী ইউসুফ! চাচাজান (অর্থাৎ মাওলানা ইলিয়াস (র)-এর যমানার কথা অন্য জিনিস ছিলো, তুমি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজ কর।” এর প্রতিউত্তরে হজরতজী বললেন, ভাইজী! লেনেওয়ালা বদল হয়েছে, দেনেওয়ালাতো বদলায়নি।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৬৭৮)

১৪৫. এটা আমার সাথে এক প্রকারের জুলুম

দিল্লী মারকাজের কিছু খরচ হয়ে গিয়েছিলো, দিল্লীর কিছু বন্ধু-বান্ধব করজ আদায়ের জন্য নিজেদের কিছু বন্ধু-বান্ধব থেকে পঁচিশ হাজার টাকা জমা করেছে। যখন হজরতজী একথা জানতে পারলেন, তখন বললেন— আপনারা যা কিছু করেছেন নেক নিয়তেই করেছেন, কিন্তু আমার সাথে এটা এক প্রকারের জুলুম। যখন এ ধরনের এন্তেজাম আপনারা করবেন, তখন আমরা আল্লাহ পাকের সাহায্য পাওয়ার যোগ্য থাকবোনা। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য আমরা ঐ সময় পর্যন্ত থাকবো, যতোক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়াতে আমাদের কোন উপায়-অবলম্বন থাকবেনা, এবং আমাদের নজর শুধু আল্লাহ পাকের গায়বী খাজানা ও তাঁর সাহায্যের ওপর হবে এবং আমরা বে-কারার থাকবো।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৬৭৯)

১৪৬. আমাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইয়োরোপ এবং এশিয়ার জাতিসমূহ ইসলামে প্রবেশ করুক

হজরতজী বলেন— আমাদের আসল উদ্দেশ্য হলো, ইয়োরোপ এবং এশিয়ার জাতিসমূহ ইসলামের মধ্যে আসুক। কিন্তু এই কাজ না কোন রাজশক্তি করতে পারবে, আর না কোন পুজিবাদি শক্তি করতে পারবে, জনসাধারণকে জনসাধারণের পয়সা দ্বারাই বের করতে হবে। পাবলিকের মন-মানসিকতা হতে হবে পয়সা খরচ করার। এখন জনসাধারণের পর্যায়ে কাজকে ওঠাতে হবে, তখন তাদের মন-মানসিকতা ঠিক হবেই, পাবলিকের মধ্যে ধনী-গরীব, ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী, চাকরিজীবী সবাই আসবে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ১৫৭)

১৪৭. আমাদের কাজ জনসাধারণের জান এবং মালকে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজে লাগানো

হজরতজী বলেন— ইসলামী তরীকা ধ্বংস হওয়ার ওপর যে সমস্ত মুসিবত আসছে তা শেষ হওয়া চাই। আর ইসলামী তরীকার অস্তিত্বের ওপর উভয় জাহানে যে সমস্ত নেয়ামতের ওয়াদা করা হয়েছে তা উভয় জাহানে পাওয়া চাই। আর আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন হওয়া চাই। আমাদের কাজ হলো, জনসাধারণের জান-মালকে ইসলামের প্রচার-প্রসারে লাগানো। ইসলাম কিছু পদ্ধতির নাম। আর যখন বিশেষত্ব সৃষ্টি হবে, তখন মানুষকে বদলে ফেলাটাই স্বয়ং ইসলামের দাওয়াত, যখন অন্যদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়া হয়, কিন্তু তারা পদ্ধতিসমূহের মধ্যে কোন রকম পার্থক্য দেখেনা, তখন ইসলামের প্রসার লাভ হয় না।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ১৫৬)

১৪৮. এই উম্মতের ওপর বিশেষ রহমত

হজরতজী বলেন— এই উম্মতের ওপর আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কত বড় দয়া ও রহম যে, এই দাওয়াত এবং মেহনতের সম্বোধন দ্বারা সমস্ত উম্মতকে দান করার মাধ্যমে সীমাতিরিক্তি রহমত দান করেছেন।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ১৩৫)

১৪৯. দাওয়াত ওয়ালী মেহনত বাদ পড়ার কারণে প্রত্যেকটা বস্তু রুসুম-রেওয়াজী হয়ে গেছে

হজরতজী বলেন— এই দৌড়া-দৌড়ি (অর্থাৎ দাওয়াতী কাজ) সাধারণভাবে ও সমষ্টিগত ভাবে না থাকার কারণে প্রত্যেকটি জিনিসের হাকীকত সুপ্ত ও গুপ্ত থেকে প্রত্যেকটি বস্তু রুসুম ও রেওয়াজী হয়ে আংশিক উপকারের ওপর এসে পড়েছে অথবা ক্ষতির রূপ ধারণ করে বসেছে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ১৩৫)

১৫০. আজাব থেকে বাঁচার আসল উপায় নিজের মধ্যে ঈমান সৃষ্টি করা

হজরতজী বলেন— যেই আজাব গোনার কারণে এবং আল্লাহর ফরজসমূহ এবং তাঁর সীমালংঘন করার কারণে আসছে এবং আসবে, তাকে তোমাদের এটম বোম বরং তোমাদের বোমার গুলিও ঠেকাতে পারবে না। আসল চিকিৎসা এই যে, নিজের মধ্যে ঈমান পয়দা কর, আল্লাহর দিকে রুজু কর বা মোতাওয়াজ্জুহ হও। শুধু এই জিনিসই তোমাদেরকে এবং পুরো ইসলামী জগতকে বাঁচাতে পারে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ২৯৯)

১৫১. মুল্ক্ ও মালকে বাঁচানোর রাস্তা

একজন আলেম, যাঁর জাওহার লাল নেহ্রুর কাছে যাতায়াত ছিলো। পন্ডিত নেহ্রু তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, হজরতজী (র) ঐ আলেমকে বললেন ঃ যদি আপনি নেহরুর সাথে অথবা সরকারের অন্যান্য জিম্মাদারদের সাথে কথা বলেন, তাহলে তাদেরকে একথাই বলেন যে, তোমাদের দেশকে শুধু সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি বাঁচাতে পারবেনা। আল্লাহকে রাজি করার, জুলুমকে খতম করার এবং ইনসাফকে রেওয়াজ দেয়ার চেষ্টা কর, তাহলে তোমরা বেঁচে যাবে, এবং দেশও বেঁচে যাবে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ৩০০)

১৫২. হুজুর (স) আমাদেরকে যে সমস্ত উঁচু নিয়ম কানুনের সাথে অভ্যস্ত করেছেন তা স্বয়ং নিজেই প্রিয়

হজরতজী বলেন— হুজুর (স) ঈমানের মেহনত ও নকল-হরকতের যে উঁচু পদ্ধতির ওপর আমাদেরকে রেখে গেছেন এবং ভোগ-পিপাসা ও কষ্ট সহ্য করার পরিবেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মহব্বতের যেই উঁচু নিয়ম-কানুনের সাথে আমাদেরকে অভ্যস্ত করেছেন, তা স্বয়ং নিজে নিজেই প্রিয়বস্তু এবং তা নিজেই ভালো জিনিস।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ৬৮)

১৫৩. পেরেশানী থেকে মুক্তির রাস্তা

হজরতজী বলেন— এমন সময় যখন আম মখলুক পেরেশানীর মধ্যে পুরোপুরিভাবে ফেঁসে আছে, আর এই রাস্তা ছাড়া মুক্তির অন্য কোন পন্থা বাকী নেই, তখন আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের জিম্মাদারী সীমা থেকেও বেশী। যতোটা সম্ভব নিজেদের অপমানজনক সব ধরনের জয্বাকে অবদমন করে এই মেহনত ও হরকতকে খুব বেশী বেশী কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাড়াতে হবে এবং রাত্রে একা একা খুব বেশী কান্নাকাটি করে আম মখলুকাতের জন্য সাধারণভাবে আর এই মুসলিম উম্মতের জন্য বিশেষ ভাবে পুরো একীন ও ভরসার সাথে দোয়া করার এহতেমাম করবেন।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ৯৮)

১৫৪. উম্মতের পেরেশানীর কারণ

হজরতজী বলেন— মুসলমান সমস্ত পৃথিবীতে এই জন্য পিটুনি খাচ্ছে মরছে যে, তারা উম্মতের ঐক্যকে খতম করে হুজুরে আকরাম (স)-এর ত্যাগ-তিতিক্ষার ওপর পানি ঢেলে দিয়েছে। আমি এটা অন্তরের পেরেশানীর কথা বলছি, সমস্ত বরবাদী এই জন্য যে, উম্মত আর উম্মত থাকেনি; বরং একথা ভুলে গেছে যে, উম্মত কি জিনিস। এবং হুজুর (স) কিভাবে উম্মত তৈরী করেছিলেন।

(তাযকেরায়ে হজরতজী-পৃঃ ১৫২)

১৫৫. আসল মোটা মোটা আমলের ওপর মেহনত করা চাই, শরীয়তের অংশ বিশেষকে উৎপীড়ন করা উচিত নয়

হজরতজী বলেন— শরীয়তের মধ্যে যেই হুকুম আছে, আমরা তা সব মানি। এটা পুরো ও অংশবিশেষের ওপর বর্তায়। প্রথমে মোটা মোটা কথাগুলো বুঝতে হবে, তাহলে অংশ বিশেষের হুকুম বুঝে আসবে। শরীয়তের এই সমস্ত মোটা মোটা কুল্লী হুকুমের ওপর মেহনত করতে হবে। আমরা শরীয়তের জুযী অংশের ওপর মেহনত করিনা। আমাদের জামাতে সব ধরনের লোক আছে, তারা সবাই এক ধরনেরই মশ্ক্ বা অভ্যাস করে।

(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ১৫৬)

১৫৬. কারো সামান্য জিনিসও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করবেনা

হজরতজী বলেন— কারো কোন জিনিস তার মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হারাম। এ থেকে বেঁচে থাক। চাই ঐ বস্তু যতোই সাধারণ বা সামান্য এবং আম ব্যবহার করার মতো হোকনা কেনো। সম্ভাবনা আছে যে, তুমি যখন তা ব্যবহার করবে ঠিক ঐ একই সময়ে তারও প্রয়োজন হতে পারে।

(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)-পৃঃ ১৯৬)

১৫৭. দৌড়-ঝাঁপ বা হরকতের মধ্যে ফেতনা থেকে হেফাজত আছে

হজরতজী বলেন— হরকতের মধ্যে ফেতনা থেকে হেফাজত আছে। যখন মোনাফেকরা এক যুদ্ধের মধ্যে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করতে চাইলো, তখন হুজুর (স) হুকুম দিলেন যে, থাম, আগে বাড়বেনা এবং চলতে থাক (অর্থাৎ আপন কাজে লিপ্ত থাক)।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ২৩৪)

১৫৮. অবস্থাসমূহ সঠিক হবার পন্থা

হজরতজী বলেন— অবস্থার ভিত্তি মুল্ক্ ও মাল, টাকা পয়সা ও জমিন এবং রকেট ইত্যাদির ওপর নয়। বরং অবস্থার ভিত্তি আমল। আম্বিয়া (আঃ), সাহাবায়ে কেরাম (রা) এবং আলেমদের আমলই অবস্থাকে সাজাবে এবং ঠিক করবে। মুল্ক্ ও মাল, সোনা-চান্দির দ্বারা অবস্থা ঠিক হবেনা। যারা একথা বুঝে নিয়েছে যে, সোনা-চান্দি ও মুলক ও মাল দ্বারা অবস্থা ঠিক হবে, তারা ধোকার মধ্যে আছে, হাকীকত এটা নয়, আল্লাহ তায়ালা অবস্থাকে আমলের মাধ্যমে জুড়েছেন। অবস্থাকে বস্তু দ্বারা জুড়েননি। যেমন আমল করবে, অবস্থাও সেরূপই হবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৬০৭)

১৫৯. টাকা চাইনা, মানুষ চাই

ক্যালকাটার একজন ধনী লোক হজরতজীর খেদমতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পেশ করলো, হজরতজী (র) পুরো বে-নেয়াজীর সাথে টাকাগুলো নিতে ইংকার করে বসলেন এবং বললেন ঃ এই পঞ্চাশ লক্ষ টাকার পরিবর্তে তুমি পঞ্চাশজন মানুষ দিয়ে দাও, যারা জামাতগুলোর সাথে বের হবে এবং সময় লাগাবে।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ২২৯)

১৬০. হজ্ব বিধানের প্রভাব সমস্ত জাগতিক সিস্টেমের ওপর পড়ে

হজরতজী বলেন— হজ্ব বিধানের সম্পর্ক শুধু হজ্ব আদায়কারীদের সঙ্গে নয়; বরং পুরো উম্মতের দ্বীন এবং মেহনতের পরীক্ষা আল্লাহ তায়ালা নিজের ঘরে এনে নেন। যার প্রভাব পুরো জাগতিক সিস্টেমের ওপর পড়ে। হজ্বের মধ্যে পবিত্র তরীকা অবলম্বন করার দ্বারা সমগ্র জগতের ওপর দান ও দয়ার প্রভাব পড়ে, আর হজ্বের মধ্যে খারাপ জীবন-যাপনের দ্বারা সমগ্র জগতের ওপর পেরেশানীর প্রভাব ফেলা হয়।

(সাওয়ানেহে হজরতজী-পৃঃ ৪০৬)


← আগের পর্ব (বাণী ১২১–১৪০)  |  সূচিপত্র  |  পরের পর্ব (বাণী ১৬১–১৮০) →

মূল বই: মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)। সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা। বইটির স্ক্যান কপি archive.org-এ পাওয়া যাবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *