|

মালফুজাতে হযরতজী ইলিয়াস (রহঃ) – সপ্তম কিস্তি: মলফুজ ১১১–১২৩

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাত (নীতি-কথা) – হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) বইয়ের সপ্তম কিস্তি (মলফুজ ১১১ থেকে ১২৩)। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।

সংকলন: মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানী। অনুবাদ: ডক্টর মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ (ব্যারিষ্টার)। প্রকাশক: মোহাম্মদী লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা।

১৩৬৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল ও রবিউচ্ছানি সংখ্যার আল-ফোরকানে প্রকাশিত

এই কিস্তিতে যা আছে


১১১. পয়গম্বরগণ নিষ্পাপ (মাছুম), সংরক্ষিত (মাহফুজ) ও স্বয়ং খোদা…

তিনি বলেন–

পয়গম্বরগণ নিষ্পাপ (মাছুম), সংরক্ষিত (মাহফুজ) ও স্বয়ং খোদা তাআলা কর্তৃক শিক্ষিত ও দীক্ষিত ও নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও এই সমস্ত আদেশ নির্দেশ অন্যকে পৌঁছাইবার সময় সকল প্রকারের লোকের সঙ্গে মেলা-মেশা ও উহাদের নিকট আসা যাওয়া করাতে তাহাদের মুবারক ও মুনাওর (বরকত ও আলোকপূর্ণ) অন্তরেও ঐ সমস্ত সাধারণ লোকের (অন্তরের) ময়লা ও আবর্জনার দাগ পড়িয়া যাইত। কাজেই তাহারা নির্জনে বসিয়া জিকির ও এবাদতের দ্বারা ঐ সমস্ত ময়লা আবর্জনাকে বিধৌত করিতেন।

তিনি বলেন– ছুরায়ে মুজ্জাম্মেলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাত্রি জাগিয়া তাহাজ্জুদ পড়িবার হুকুম দেওয়ার মধ্যে

اِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيْلًا

“হে রাসুল! দিনে আপনাকে অনেক চলাফিরা করিতে হয়।”

এই আয়াতেও এই দিকে ইশারা আছে যে, নবীর ছরদারেরও দিনের বেলায় দৌড়াদৌড়ি ও চলাফেরার গতিকে রাত্রির অন্ধকারে নির্জনে একাগ্রচিত্তে এবাদত করার প্রয়োজন ছিল। এই আয়াতের পরবর্তী আয়াতে যে বলা হইয়াছে

وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ اِلَيْهِ تَبْتِيْلًا

“আর আপনার প্রভুর নাম ইয়াদ করেন ও এককভাবে একাগ্রচিত্তে তাহাতে মনোনিবেশ করেন।”

ইহা দ্বারাও এই বিষয়ের আরও অধিক সমর্থন পাওয়া যায় যে, তবলীগী কর্মীদের জিকির ফিকিরের সহিত একাগ্রচিত্তে আল্লাহর এবাদতের বিশেষ প্রয়োজন আছে। সুতরাং আমাদেরও এইরূপ করিতে হইবে। বরং আমাদের জন্য ইহা আরও বেশী প্রয়োজন। কারণ প্রথমতঃ আমরা নিজে অপরিপক্ক ও অন্ধকারে পূর্ণ, তদুপরি আমরা যে সমস্ত বুজুর্গ হইতে আদেশ উপদেশ লইয়া থাকি তাঁহারাও আমাদের মত অসংরক্ষিত। আর যাহাদের মধ্যে তবলীগ করিতে যাই তাহারাও সাধারণ মানুষ। মোটের উপর, আমাদের নিজের মধ্যেও ময়লা আবর্জনা। আর আমাদের উভয় পার্শ্বেও মানবীয় ময়লা ও আবর্জনা যাহার (আছর) প্রতিবিম্ব আমাদের কলবে পড়া স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী; এই জন্য আমরা এই নির্জন ও অন্ধকারের এবাদতের জিকির ফিকির অত্যধিক মোহতাজ। অন্তরের মন্দ আছর (প্রতিবিম্ব) দূর করিবার জন্য ইহা এক বিশেষ ফলপ্রদ ঔষধ।

এই সম্বন্ধে তিনি বলেন–

ইহাও জরুরী যে, যেই সমস্ত বুজুর্গ হইতে আমরা দ্বীনি ফয়েজ লইয়া থাকি তাহাদের সহিত আমাদের সম্বন্ধ শুধু আল্লাহ পাকের নৈকট্যের রাখা উচিত। তাহাদের সহিত এই লাইনের কথাবার্তা, কাজ কর্ম ও হাল অবস্থার সহিতই শুধু সম্বন্ধ রাখা চাই। তাহাদের অন্য লাইনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়াদির সহিত কোন সম্বন্ধ না রাখা চাই; বরং এই সমস্ত হইতে বেখবর থাকার জন্য কোশেশ করা দরকার; কারণ এই সমস্ত তাঁহাদের মানবীয় অংশ বিধায় তাহাতে কিছু ময়লা আবর্জনা হইবেই। যখন লোকেরা তাহাদের মনোযোগ ঐ দিকে দিবে তাহাদের মধ্যেও ঐ সমস্ত আসিয়া পড়িবে। অধিকন্তু অনেক সময় ইহা দ্বারা আপত্তি পয়দা হইবে। তাহাতে (মাহরূম) বঞ্চিত থাকিয়া যাইবে। এই জন্যই মাশায়েখদের কেতাবে ছালেকদিগকে শেখের পারিবারিক অবস্থাদির উপর দৃষ্টি না দিবার জন্য জোর দেওয়া হইয়াছে।

টীকা: মরহুম মাওলানার এই খেয়ালের সমর্থন নিম্নলিখিত হাদীছ হইতেও পাওয়া যায়। একদিন ফজরের নামাজের কেরাতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গড়বড় হয়। নামাজ শেষে তিনি বলেন,

“মুক্তাদীদের মধ্যে এমন কতক লোক আছে যাহারা ভালমতে অজু গোসল করে নাই (পাকছাফ হয় নাই) তাহাদের জন্যই আমার কেরাতে গোলমাল হইয়াছে।”

১১২. আহলে আছর ও আহলে এলম হযরতেরা ধারাবাহিকভাবে এই…

তিনি বলেন–

আহলে আছর ও আহলে এলম হযরতেরা ধারাবাহিকভাবে এই কাজ এইভাবে আরম্ভ করিয়া দিন যে, প্রথমে প্রত্যেক জুমার পর ভাবিয়া চিন্তিয়া এক মসজিদ ঠিক করিয়া লইবেন যে, আমরা অমুক মহল্লার মসজিদে এই জুমা পড়িব। এই মসজিদ নির্দিষ্ট করিবার ব্যাপারে অনুন্নত ও অজ্ঞ অধিবাসীদের প্রতি অধিক দৃষ্টি দিতে হইবে। উদাহরণ স্বরূপ, যে সমস্ত এলাকায় ধোপা, ভিস্তি গাড়ীওয়ালা, কুলী ও শাকসবজি বিক্রেতা বসবাস করে (যাহাদের মধ্যে দ্বীন সম্বন্ধে অজ্ঞতা ও অলসতা যদিও অতি বেশী কিন্তু অহঙ্কার ও অস্বীকার করার অবস্থা পয়দা হয় নাই) এইরূপ লোকদের কোন মসজিদ প্রথমে নির্দিষ্ট করিয়া লইবেন ও নিজের পরিচিত বন্ধু-বান্ধবদিগকেও এই বিষয়ে খবর দিয়া দিবেন এবং সঙ্গে যাইবার জন্য তাহাদিগকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করিবেন। অতঃপর তথা পৌঁছিয়া জুমার পূর্বে মহল্লায় তবলীগী গাশ্‌ত করিয়া লোকদিগকে নামাজের জন্য তৈয়ার করিয়া মসজিদে লইয়া আসিবেন। অতঃপর কিছুক্ষণের জন্য তাহাদিগকে বসাইয়া দ্বীনের আবশ্যকতা ও দ্বীন শিখিবার প্রয়োজনীয়তা বুঝাইয়া দিয়া দ্বীন শিখিবার জন্য তবলীগী জামায়াতের সহিত বাহির হইবার দাওয়াত দিবেন ও বুঝাইয়া বলিবেন যে, এই পদ্ধতিতে কাজ করিলে কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বীনের জরুরী এলম ও আমল শিখিতে পারিবে। এই দাওয়াতে অল্প হইতে অল্প লোকও যদি তৈয়ার হইয়া যায় তাহাদিগকে উপযুক্ত জমায়াতের সহিত পাঠাইবার বন্দোবস্ত করিবেন।

১১৩. যদি কোন জায়গার কিছু গরীব লোক তবলীগী জমায়াতের…

এই সম্বন্ধে তিনি আর বলেন–

যদি কোন জায়গার কিছু গরীব লোক তবলীগী জমায়াতের সহিত বাহির হইতে প্রস্তুত হয় ও খরচ করিতে অক্ষম হয় তাহা হইলে যতদূর সম্ভব কোশেশ করিয়া আশে-পাশের কিছু ধনী লোককেও তাহাদের সঙ্গী হইবার জন্য উঠাইবে ও তাহাদিগকে আল্লাহর রাস্তায় যে গরীব ও দুর্বল লোক বাহির হয় তাহাদিগকে সাহায্য করা আল্লাহর নিকট কত বড় দরজা তাহা বলিয়া দিবে ও সঙ্গে সঙ্গে ইহাও ভাল করিয়া তাহাদিগকে বুঝাইয়া দিবে যে, যদি তাহারা তাহাদের কোন গরীব ভাইয়ের সাহায্য করিতে চায় তাহা হইলে ইহার উছুল (মূলনীতি) ও তরীকা (পদ্ধতি) এই পথের পুরাতন ও অভিজ্ঞ কর্মীদের নিকট হইতে যেন অবশ্য জানিয়া লয় ও তাঁহাদের পরামর্শানুসারে যেন এই কাজ করে। উছুলের বিপরীত উল্টা পদ্ধতিতে কাহাকেও সাহায্য করিলে অনেক সময় বহু খারাবী পয়দা হইয়া যায়।

অতঃপর এই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার (অর্থাৎ দ্বীনের জন্য যে সমস্ত গরীব ও অসমর্থ লোক বাহির হয় তাহাদের জন্য খরচ করার) নিম্নলিখিত কয়েকটি উছুল হযরত মাওলানা বর্ণনা করেন ও সম্ভবতঃ এই অধীনকেই ইহা লিখিয়া লইতে বলেন–

(ক) অসমর্থদিগকে এইভাবে হেকমতের সহিত দিতে হইবে যে, তাহারা যেন ইহাকে কোন স্থায়ী ব্যবস্থা বলিয়া না বুঝে ও তাহাদের মধ্যে ‘এশরাফে নফছ’ (অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার বাসনা) পয়দা না হয়।

(খ) দেওয়া ‘তালিফের’ (মহব্বত পয়দা করিবার) জন্য হওয়া চাই অর্থাৎ দ্বীনের সহিত মহব্বত ও সম্পর্ক পয়দা করিবার জন্য হইতে হইবে। সেই জন্য শুধুমাত্র মহব্বত পয়দা করিবার জন্য যে পরিমাণ দরকার সেই পরিমাণ দেওয়া চাই। আবার যতই তাহার মধ্যে দ্বীনের কদর ও তলব এবং কাজের মহব্বত ও ‘মুনাছেবাত’ বাড়িয়া যাইবে ততই আর্থিক সাহায্য হইতে হাত গুটাইতে হইবে ও ‘ছুহবত’ সংসর্গ ও কথাবার্তা দ্বারা তাহার মধ্যে এমন অনুপ্রেরণা পয়দা করিতে হইবে যেন সে মেহনত ও মজুরী করিয়াও এই কাজ করে অথবা যেই প্রকারে নিজের অন্যান্য জরুরতের জন্য কর্জ লইয়া থাকে এইরূপ ইহাকেও এক বিশেষ প্রয়োজনীয় কাজ মনে করিয়া ইহার জন্যও অবস্থামত কর্জ লয়। এই (কাজের পথের মধ্যে) অন্যের অনুগৃহীত না হওয়াই বাঞ্ছনীয় কাজ। হিজরতের সময় ছিদ্দিকে আকবরের মত নিবেদিত প্রাণ ছাহাবা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উট পেশ করিলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূল্য নির্ধারিত করিয়া কর্জ লইয়াছিলেন। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত মহব্বতের এই পর্যায়, এই আকর্ষণ ও আস্বাদ পয়দা না হয় ততদিন পর্যন্ত যথোপযুক্ত আর্থিক সাহায্য করিয়া যাওয়া চাই।

(গ) আর্থিক সাহায্যের আদাবের মধ্যে ইহাও একটি যে, অতি গুপ্তভাবে সম্মানের সহিত দেওয়া হয় ও দ্বীনের কাজের দরিদ্র গ্রহীতার কবুল করিয়া লওয়াকে ধনী দাতা নিজের উপর এহ্‌ছান বা অনুগ্রহ এবং তাঁহাকে নিজ হইতে শ্রেষ্ঠ বলিয়া মনে করেন। কেননা, তিনি নিজের অসচ্ছলতা ও দরিদ্রতা সত্ত্বেও দ্বীনের জন্য ঘর হইতে বাহির হইয়াছেন। দ্বীনের জন্য ঘর হইতে বাহির হওয়া ‘হিজরত’ আর তাহার সাহায্য করা ‘নছরত’। আর আনছার কখনও মুহাজেরের সমকক্ষ হইতে পারে না।

(ঘ) এই পথের কর্মীদের জাকাত ও ছদকার চেয়ে হাদিয়ার ছুরতে বেশী সাহায্য করা উচিত। জাকাত ও ছদকা ত পাতিলের ময়লা আবর্জনা ও দোষিত অংশের মত; উহা বাহির করিয়া ফেলা জরুরী। অন্যথায় সমস্ত পাতিলই নষ্ট হইয়া যাইবে। হাদিয়ার উদাহরণ এইরূপ বুঝ যেন তৈয়ারী খানাতে খুসবু সুসগন্ধি ঢালিয়া দেওয়া ও উহার উপর সোনা চান্দির পাত লাগাইয়া দেওয়া।

(ঙ) দ্বীনের জন্য যাহারা ঘর হইতে বাহির হইয়াছে তাহাদের সাহায্যের এক উচ্চ ছুরত ইহাও যে, তাহাদের পরিবার পরিজনের নিকট গিয়া তাহাদের বাজার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের ফিকির করা ও তাহাদিগকে আরাম পৌঁছাইবার কোশেশ করা। আর তাহাদিগকে বলিয়া দেওয়া যে, তোমাদের ঘরের লোক কত বড় কাজে বাহির হইয়াছে ও কত ভাগ্যবান!

মোটকথা, তাহাদিগকে খেদমত ও উৎসাহ দ্বারা এতদূর আশ্বস্ত করিতে হইবে যে, তাহারা যেন তাহাদের ঘর হইতে যে সমস্ত লোক বাহির হইয়াছে তাহাদের নিকট স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া লিখে যে, “আমরা এখানে সকল প্রকারে সুখে স্বচ্ছন্দে আছি, আপনারা নিশ্চিন্তভাবে দ্বীনের কাজে লাগিয়া থাকুন।”

(চ) আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সময় অবস্থা সম্বন্ধে অনুসন্ধান করাও জরুরী। (অর্থাৎ দ্বীনের কাজে বড় লোকদের অবস্থা সম্বন্ধে চিন্তা করিতে হইবে। উপর উপর জিজ্ঞাসা করিয়া তাহাদের কোন্ কোন্ বিষয়ের প্রয়োজন আছে ও কিভাবে তাহাদের জীবিকানির্বাহ হয় তাহা জানিয়া লইতে হইবে।)

(ছ) অবস্থা অনুসন্ধানের এক ছুরত যাহা বিশেষভাবে প্রচলিত করা চাই তাহা এই, দ্বীনের জন্য যে সমস্ত গরীব লোক বাহির হইয়াছে তাহাদের বাড়ীতে বড় লোকেরা তাহাদের স্ত্রীলোকদের পাঠাইবেন। তদ্বারা ঐ সমস্ত গরীব লোকদের পরিবার পরিজনের সন্তুষ্টি সাধন ও উৎসাহ বর্ধন হইবে ও তাহাদের আভ্যন্তরিণ ব্যাপারও কিছু জানা যাইবে।

১১৪. আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার যে সমস্ত পার্থিব বরকতের…

এই ব্যাপারে আরও বলেন–

আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার যে সমস্ত পার্থিব বরকতের ওয়াদা কোরআন হাদীছে দেওয়া হইয়াছে উহা উহার ‘আজর’ বদলা বা প্রতিদান নহে। সৎ কাজের আসল আজর এই পৃথিবী বহন করিতেও পারিবে না। ওখানকার খাছ নেয়ামত সমূহের বহন করিবার ক্ষমতা এখানে কোথায়? এই পৃথিবীতে পাহাড়ের মত শক্ত পদার্থ ও হযরত মুছা (আঃ)-এর মত প্রবীন পয়গম্বরও আল্লাহ পাকের এক তাজাল্লিও সহ্য করিতে পারিলেন না।

فَلَمَّا تَجَلّٰى رَبُّهٗ لِلْجَبَلِ جَعَلَهٗ دَكًّا وَّخَرَّ مُوْسٰى صَعِقًا

“যখন তাহার প্রভু পর্বতের উপর তাজাল্লি ফেলিলেন পর্বতকে চূর্ণ বিচূর্ণ করিয়া ফেলিলেন ও মুছা (আঃ) বেহুশ হইয়া পড়িয়া গেলেন।”

তিনি বলেন–

বেহেশ্তের নেয়ামত যদি এখানে পাঠাইয়া দেওয়া হয় তাহা হইলে খুশীতে মৃত্যু হইবে। এই অবস্থা ওখানকার আজাবেরও হইবে, যদি দোজখের একটি বিচ্ছু এই পৃথিবীর দিকে মুখ করে তাহা হইলে সমস্ত দুনিয়া উহার বিষের তেজে জ্বলিয়া যাইবে।

১১৫. কোরআন পাকে আল্লাহর রাস্তায় খরচকারীদের উদাহরণ যে ঐ…

এ সম্বন্ধে আরও বলেন–

কোরআন পাকে আল্লাহর রাস্তায় খরচকারীদের উদাহরণ যে ঐ ব্যক্তির দ্বারা দিয়াছেন যিনি এক দানা বপন করিয়া সাত শত দানা পাইলেন।

مَثَلُ الَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ اَنْۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِيْ كُلِّ سُنْۢبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللّٰهُ يُضٰعِفُ لِمَنْ يَّشَآءُ ۗ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ

“উদাহরণ ঐ সমস্ত লোকের যাঁহারা আল্লাহর রাস্তায় মাল খরচ করে, যেমন একটি দানার সাতটি শিশ, প্রত্যেক শিশে এক শত দানা, আর আল্লাহ যাহাকে চান আরও বাড়াইয়া দেন, আর আল্লাহ্ অধিক দাতা ও জ্ঞানী।”

ইহা পার্থিব বরকতেরই দৃষ্টান্ত। পরকালে ইহার যে বদ্লা মিলিবে তাহা অতি দূর ও সুদূরপ্রসারী হইবে। তৎপ্রতি ইশারা ইহার পূর্ববর্তী আয়াতে আছে–

اَلَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُوْنَ مَآ اَنْفَقُوْا مَنًّا وَّلَآ اَذًى ۙ لَّهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ

“যাহারা আল্লাহর রাস্তায় তাঁহাদের মাল খরচ করেন ও খরচ করার পর খোটা দেন না ও কষ্ট দেন না তাঁহাদের পারিশ্রমিক (আজর) তাঁহাদের প্রভুর নিকট আছে। তাহাদের কোন ভয় নাই ও তাঁহারা দুঃখিত হইবেন না।”

এই আয়াতে لَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ এতদ্বারা মৃত্যুর পরে পরকালে প্রাপ্ত আছলী আজর বা প্রতিদানের প্রতি ইশারা করা হইয়াছে।

১১৬. আসল কথা এই যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন ও…

এই সম্বন্ধে আরও বলেন–

আসল কথা এই যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন ও পরকালে প্রতিদান পাওয়ার জন্য দীনের কাজ করা চাই। কিন্তু উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করিবার জন্য অবস্থা মত পার্থিব বরকতেরও উল্লেখ করা চাই। কোন কোন লোক এমন হয় যে, প্রথমতঃ পার্থিব বরকতের আশায় কাজে লাগে, তৎপর আল্লাহ পাক এই কাজের বরকতে তাহার মধ্যে হাকিকী এখ্লাছও দিয়া দেন।

তিনি বলেন– দুনিয়াবী বরকত আমাদের জন্য ওয়াদা করা হইয়াছে, কিন্তু এই সমস্তকে মকছুদ ও মতলব (আসল উদ্দেশ্য) করা চাই না। অবশ্য এই সমস্তের জন্য বেশী করিয়া দোয়া করা চাই। আল্লাহর তরফ হইতে যে সমস্ত নেয়ামত আসে তাহার প্রত্যেকটির জন্য বান্দা মুহতাজ (মুখাপেক্ষী) আছে।

رَبِّ اِنِّيْ لِمَآ اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ

“হে প্রভু! তুমি যাহা কিছু মঙ্গল আমার প্রতি অবতীর্ণ কর তাহার প্রত্যেকটির জন্য আমি মুহতাজ।”

১১৭. আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত ওয়াদা করিয়াছেন তাহা নিঃসন্দেহে…

তিনি বলেন–

আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত ওয়াদা করিয়াছেন তাহা নিঃসন্দেহে একেবারে একিনী। আর মানুষ স্বকীয় বিবেক-বুদ্ধি, বুঝ-ব্যবস্থা ও অভিজ্ঞতার আলোতে যাহা কিছু চিন্তা করে ও যে সমস্ত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ঐ সমস্ত শুধু সম্ভাব্য ও কাল্পনিক কথা মাত্র। কিন্তু আজকালকার সাধারণ অবস্থা এই যে, লোক নিজের কাল্পনিক পরিকল্পনা নিজের প্রস্তাবিত উপায় সমূহ (অছায়েল ও আছবাব) ও নিজের চিন্তাপ্রসূত ব্যবস্থাবলীর উপর বিশ্বাস ও ভরসা করিয়া সেই অনুসারে যেই পরিমাণ কষ্ট ও ছেষ্টা করিয়া থাকে, আল্লাহর ওয়াদা সমূহের শর্তাবলী পূর্ণ করিয়া ঐ সমস্ত পাওয়ার যোগ্য হওয়ার জন্য সেই পরিমাণ করে না। যদ্দারা বুঝা যায় যে, নিজের খেয়ালী আছবাবের উপর তাহার যতদূর ভরসা আছে ততদূর আল্লাহর ওয়াদার উপর নাই।

এই অবস্থা শুধু আমাদের সাধারণ লোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে, বরং সাধারণ ও অসাধারণ (আম ও খাছ) সকলেই (اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ অবশ্য খোদা যাকে চান তিনি ব্যতীত) আল্লাহর ওয়াদাকৃত নিশ্চিত (একীনী) ও আলোকিত (রওশন) পথ ছাড়িয়া স্বকীয় সম্ভাব্য ও কাল্পনিক ব্যবস্থায় ও তদবীরে দিশাহারা হইয়া আটকিয়া আছে। সুতরাং আমাদের এই আন্দোলনের বিশেষ উদ্দেশ্য মুসলমানদের জিন্দেগী হইতে এই উছুলী ও বুনিয়াদী খারাবী দূর করিবার জন্য কোশেশ করা এবং তাঁহাদের জীবন ও চেষ্টা তদবীরকে সম্ভাবনা ও কল্পনার লাইন হইতে সড়াইয়া আল্লাহর ওয়াদাকৃত একীনী রাস্তায় রাখা। পয়গম্বরদের (আঃ) পদ্ধতিও ইহাই ছিল। উহারা নিজ নিজ উম্মতকে আল্লাহর ওয়াদার উপর একীন ও ভরসা করিয়া উহার শর্তাবলী পূর্ণ করিবার জন্য স্বকীয় সমস্ত শক্তি নিয়োজিত করতঃ উহা পাওয়ার যোগ্য হওয়ার জন্য দাওয়াত দিতেন। আল্লাহর ওয়াদার উপর যেইরূপ তোমার একীন ও বিশ্বাস হইবে সেইরূপ তোমার সহিত আল্লাহর ব্যবহার (মোয়ামেলা) হইবে-

اَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِيْ بِيْ

“আমি আমার বান্দার সহিত এইরূপ ব্যবহার করি যেইরূপ সে আমার উপর বিশ্বাস করে।” (ইহা হাদীছে কুদ্‌ছী।)

১১৮. এই রাস্তায় কাজ করিবার ছহীহ তরতীব ইহাই যে…

তিনি বলেন–

এই রাস্তায় কাজ করিবার ছহীহ তরতীব ইহাই যে, যখন কোন কদম উঠাইতে হয় যথা তবলীগের জন্য যাইতে হয় অথবা তবলীগী জমায়াত কোথাও পাঠাইতে হয় অথবা সংশয় সন্দেহ পোষণকারী কোন ব্যক্তিকে নিঃসন্দেহ নিশ্চিত ও শান্ত করিবার জন্য তাহার সহিত কথা বলিবার এরাদা হয় তখন সর্বপ্রথম নিজের অযোগ্যতা, শক্তিহীনতা ও সহায় সম্বলহীন হওয়ার কল্পনা করতঃ আল্লাহকে হাজির নাজির ও সর্বশক্তিমান বলিয়া একীন জানিয়া অনুনয় বিনয় ও কান্না-কাটি করিয়া তাঁহার নিকট আরজ করিবে-

“হে খোদা! তুমি বহুবার বিনা আছবাবে শুধু স্বকীয় শক্তির দ্বারা অনেক বড় বড় কাজ করিয়া দিয়াছ। হে আল্লাহ! তুমি কেবলমাত্র নিজের কুদরতের দ্বারা বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্রের মধ্যেও রাস্তা পয়দা করিয় দিয়াছিলে। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) জন্য আপন কুদরত ও রহমত দ্বারাই আগুনকে বাগান করিয়া দিয়াছিলে। আয় আল্লাহ! তুমি নিজে হীন হইতে হীন সৃষ্ট জীব দ্বারাও বড় বড় কাজ লইয়াছিলে। আবাবিল পক্ষী দ্বারা আবরাহার হাতীওয়ালা লস্করকে ধ্বংস করাইয়াছিলে ও নিজের ঘরের হেফাজত করাইয়াছিলে। আরবের উট পালক উম্মীদের দ্বারা তোমার সত্য দ্বীনকে সমস্ত দুনিয়ায় চমকাইয়া দিয়াছিলে ও রোমান ও পারশ্য সাম্রাজ্যকে টুক্রা টুক্রা করাইয়াছিলে। কাজেই আয় আল্লাহ! তোমার সেই পুরাতন ছুন্নতানুসারে আমার মত নিষ্কর্মা নিষ্ক্রিয় সহায় সম্বল ও শক্তিহীন বান্দা হইতেও কাজ লও। আর আমি তোমার দ্বীনের যে কাজের এরাদা করিতেছি তাহার জন্য যে পদ্ধতি তোমার নিকট ছহীহ ও নির্ভুল উহা আমাকে দেখাইয়া দাও। আর যে সমস্ত আছবাবের জরুরত হয় তাহা শুধু তোমার কুদরতের দ্বারা তৈয়ার করিয়া দাও।”

বছ! আল্লাহর নিকট এই দোয়া মাঙ্গিয়া তৎপর কাজে লাগিয়া যাইবে, যেই আছবাব আল্লাহর তরফ হইতে মিলে তাহা কাজে লাগাইবে, আর শুধুমাত্র আল্লাহর সাহায্য ও শক্তির উপর পূর্ণ ভরসা রাখিয়া নিজের কোশেশও জোরেসোরে করিতে থাকিবে ও ওয়াদা পূর্ণ করিবার জন্যও দোয়া করিতে থাকিবে।

كَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِيْنَ

“মুমিনদের সাহায্য করা আমার কর্তব্য।”

কোরআনের এই ওয়াদার প্রতি ইশারা করা হইয়াছে; বরং আল্লাহর সাহায্যকে আসল বুঝিবে আর নিজের কোশেশকে তাঁহার জন্য শর্ত ও পর্দা বলিয়া মনে করিবে।

টীকা: হযরত মওলানার এই মলফুজাত সংক্ষিপ্ত ভাষায় ছিল। সাধারণ পাঠকের জন্য ইহা মুশকিল হইত; অধীন সঙ্কলনকারী কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সহ হযরতের মতলবকে নিজের ভাষায় ব্যক্ত করিয়াছে। ধরিয়া লউন যে, এই মলফুজাতের আলফাজ বা শব্দের দায়িত্ব বিশেষভাবে এই অধীনের, যদিও অন্যান্য মলফুজাতেও ব্যাখ্যা ও সহজ করিবার জন্য লিখিবার সময় আংশিক রদ-বদল করা হইয়াছে। কিন্তু প্রায় সবই ঠিক রাখার চেষ্টা করা হইয়াছে।

১১৯. নিজে কাজ করার চেয়ে অন্যকে এই কাজে লাগাইবার…

তিনি বলেন–

নিজে কাজ করার চেয়ে অন্যকে এই কাজে লাগাইবার জন্য অধিক মনোনিবেশ ও মেহনত করা চাই। শয়তান যখন কাহারও সম্বন্ধে ইহা বুঝিয়া লয় যে, সে তো এই কাজে লাগিয়া গিয়াছে, আমি চেষ্টা করিলেও বিরত হইবে না তখন তাঁহার এই কোশেশ হয় যে, এই ব্যক্তি খুব ভালমতো লাগিয়া থাকুক, কিন্তু অন্যকে লাগাইবার কোশেশ না করুক। এই জন্য শয়তান ইহার উপর রাজী হইয়া যায় যে, এই ভাল কাজে এই ব্যক্তি এতই মত্ত হইয়া যাক যে অন্যকে এই কাজে লাগাইবার ও দাওয়াত দিবার হুশও যেন তাহার না থাকে। কাজেই শয়তানকে পরাজিত করিবার একমাত্র পন্থা অন্যকে এই কাজের জন্য উঠাইবার, এই কাজ শিখাইবার ও এই কাজে লাগাইবার জন্য বেশী মাত্রায় মনোযোগ দেওয়া। আর ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ও সৎকাজ দেখাইয়া দেওয়ার পুরস্কার ও পারিশ্রমিকের যে সমস্ত ওয়াদা কোরআন হাদীছে দেওয়া হইয়াছে তাহার উপর খেয়াল ধ্যান ও একীন করিয়া ও ইহাকে নিজের উন্নতির ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সবচেয়ে বড় অছিলা মনে করিয়া ইহার জন্য চেষ্টা ও কষ্ট করিয়া যাইতে হইবে।

১২০. দ্বীনের কাজে এক জায়গায় থামিয়া থাকা যায় না…

দ্বীনের কাজে এক জায়গায় থামিয়া থাকা যায় না। হয়ত উন্নতি হইবে অথবা অবনতি হইবে। ইহার উদাহরণ এইরূপ বুঝ, যখনই পানি ও হাওয়া বাগানের অনুকূল হয় তখন উহাও সজীবতায় উন্নতি লাভ করিতে থাকে, আবার যখন মওছুম প্রতিকূল হয় ও পানি না পায় তখন ইহা হয় না যে, সেই সরসতা, সজীবতা নিজ জায়গায় থাকিয়া যায়, বরং তাহাতে অবনতি আরম্ভ হয়। এই অবস্থা মানুষের দ্বীনেরও হইয়া থাকে।

১২১. লোকদিগকে দ্বীনের দিকে আনিবার ও দ্বীনের কাজে লাগাইবার…

তিনি বলেন–

লোকদিগকে দ্বীনের দিকে আনিবার ও দ্বীনের কাজে লাগাইবার তদবীর সমুহ চিন্তা করিতে থাক (যেমন দুনিয়াদার লোকেরা নিজের দুনিয়াবী মকছুদ সমূহের জন্য বিভিন্ন প্রকারের তদবীর চিন্তা করিয়া থাকে।) আর যাহাকে যেই উপায়ে আকৃষ্ট করিতে পার তাহার জন্য সেই উপায়ে চেষ্টা কর।

وَاْتُوا الْبُيُوْتَ مِنْ اَبْوَابِهَا

“ঘর সমূহে উহাদের দরজা সমূহ দিয়া আস।” অর্থাৎ নিয়মিত কাজ কর।

১২২. তবীয়ত (মানুষের স্বভাব) নিরাশার দিকে সহসা চলে, কেননা…

তিনি বলেন–

তবীয়ত (মানুষের স্বভাব) নিরাশার দিকে সহসা চলে, কেননা নিরাশ হইয়া যাওয়ার পর মানুষ নিজকে আমলের জিম্মাদার বলিয়া মনে করে না। তৎপর তাহাকে আর কিছুই করিতে হয় না। খুব ভালমতো বুঝিয়া লও। ইহা শয়তান ও নফছের বড় একটা ধোকা।

১২৩. আছবাবের অল্পতার উপর দৃষ্টি করিয়া নিরাশ হইয়া গেলে…

তিনি বলেন–

আছবাবের অল্পতার উপর দৃষ্টি করিয়া নিরাশ হইয়া গেলে বুঝা যায় যে, তুমি আছবাব পুঁজারী ও আল্লাহর ওয়াদাসমূহের উপর ও তাহার অদৃশ্য শক্তির উপর তোমার একীন খুবই কম। আল্লাহর উপর ভরসা ও হিম্মত করিয়া উঠ; তাহা হইলে আল্লাহই আছবাব যোগাড় করিয়া দিবেন। অন্যথায় মানুষ কি করিতে পারে? কিন্তু হিম্মত ও নিজের সাধ্যমত চেষ্টা ও কষ্ট করা শর্ত।


← আগের কিস্তি (ষষ্ঠ কিস্তি)  |  সূচিপত্র  |  পরের কিস্তি (অষ্টম কিস্তি) →

মূল বই: মালফুজাত (নীতি-কথা) – হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ)। সংকলন: মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানী। অনুবাদ: ডক্টর মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ (ব্যারিষ্টার)। প্রকাশক: মোহাম্মদী লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *