মালফুজাতে হযরতজী ইউসুফ (রহঃ) – পর্ব ১০: বাণী ১৮১–২০০
হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ) বইয়ের ১৮১ থেকে ২০০ নম্বর বাণী এই পর্বে দেওয়া হলো। সম্পূর্ণ সূচি ও বইয়ের ভূমিকা দেখুন।
সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা।
এই পর্বে যা আছে
- ১৮১. মুসীবত থেকে মুক্তি এ মেহনতকে জীবিত করার মধ্যে নিহিত
- ১৮২. বলা-মুসীবতের এলাজ বা চিকিৎসা
- ১৮৩. আমাদের দায়িত্ব কি?
- ১৮৪. এই কাজের প্রসারের জন্য কঠিন মেহনতের প্রয়োজন
- ১৮৫. জগত বাসীদের ওপর বলা-মুসীবত অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ
- ১৮৬. ঈমানের জন্য মেহনত করার প্রভাবসমূহ
- ১৮৭. সমস্ত জগতকে অধীনস্থ করে দেয়ার ওয়াদা
- ১৮৮. ভেতরের দরদ ও বে-চাইনি থেকে এ সমস্ত প্রভাব পড়বে
- ১৮৯. গাশতের আমল এ কাজের মধ্যে মেরুদন্ডের হাড্ডির মত গুরুত্ব রাখে
- ১৯০. ইসলাম কখন প্রসার লাভ করবে?
- ১৯১. জিহ্বা অন্তরকে জোড়া ও দেয়, আবার ছিঁড়েও ফেলে
- ১৯২. কিতাবের সাথে লেগে থাকার অবস্থা
- ১৯৩. আমল ওয়ালা জীবন ফাজায়েল দ্বারা সৃষ্টি হয়
- ১৯৪. আমরা (মাদ্রাসায়) পড়ানোকে বুনিয়াদী বা ভিত্তিমূলক কাজ মনে করি
- ১৯৫. সীমাবদ্ধ জায়গায় অসীম চাহিদাকে পুরা করা যায় না
- ১৯৬. হুজুর (স) অধিকাংশ সৈন্যদল দাওয়াতের জন্য পাঠিয়েছিলেন
- ১৯৭. খায়রুল কুরুনে পরিচিতি পদ্ধতি
- ১৯৮. সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর ২৪ ঘন্টা ভাগ করে নেয়ার কম দরজার তরতীব
- ১৯৯. দেওবন্দ, সাহারান পুরে জামাত পাঠানোর কারণ
- ২০০. বদরের যুদ্ধের তারিখে জামাত বের করার আমল তরক করার কারণ
১৮১. মুসীবত থেকে মুক্তি এ মেহনতকে জীবিত করার মধ্যে নিহিত
হজরতজী বলেন— এমন সময়, যখন আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিজেদের ভুল চেষ্টা-তদবীর ও মেহনতের কারণে বলা-মুসীবতের মধ্যে ফেঁসে আছে, তা থেকে মুক্তি শুধু ঐ মেহনতকে জীবিত করার মধ্যে নিহিত, যদ্দ্বারা মানবতার চেহারা আল্লাহ তায়ালার সত্তার ওপর মেহনত করে করে তাঁর সৌন্দর্য ও গুণাবলী কামানোর দিকে অগ্রসর হতে থাকবে।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ৬৪)
১৮২. বলা-মুসীবতের এলাজ বা চিকিৎসা
হজরতজী বলেন— বস্তুবাদী জিনিসে ডুবে থাকা এবং আরাম-আয়েশী জিনিসের মজার মধ্যে ফেঁসে যাওয়ার কারণে যে সমস্ত বলা-মুসীবতের দুয়ার খুলেছে, তার চিকিৎসা ঐ সাদা-সিধা ভোগ-পিপাসায় এবং ধৈর্য-সবর-ওয়ালা হরকত, যার ওপর হুজুর (স) আমাদেরকে রেখে গেছেন।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-পৃঃ ৬৪)
১৮৩. আমাদের দায়িত্ব কি?
হজরতজী বলেন— অবস্থার পরিবর্তন শুধু আল্লাহ তায়ালাই করে থাকেন, যে কোন অবস্থাকে যখন চান পরিবর্তন করে দেন, আমাদের কাছে তো ঐ গোলামী এবং মেহনত চাওয়া হয়েছে, যার ওপর তিনি অবস্থার পরিবর্তন করে দেন।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ৬০)
১৮৪. এই কাজের প্রসারের জন্য কঠিন মেহনতের প্রয়োজন
হজরতজী বলেন— যেকোন জিনিসেরই রেওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলে তাকে আবার রেওয়াজ দিতে বহুত কষ্ট-মেহনত ও কোরবাণীর প্রয়োজন হয়। তারপর আবার এমন পদ্ধতিকে জিন্দা করা, যার থেকে মানুষের স্বভাব দূরত্ব অবলম্বন করে ফেলেছে, তার জন্য কত বেশী মেহনত এবং কোরবানীর প্রয়োজন।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ৫৭)
১৮৫. জগত বাসীদের ওপর বলা-মুসীবত অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ
হজরতজী বলেন— যে সমস্ত জাহেরী বা প্রকাশ্য আসবাবের সম্পর্ককে স্বয়ং আমাদের স্বভাব কাজ বানিয়ে রেখেছে, আর তা টানতে গিয়ে আমরা দুর্বল হচ্ছি, এটাই জগতবাসীদের ওপর বলা-মুসীবত নাজিল হবার কারণ হয়ে আছে।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ৭০)
১৮৬. ঈমানের জন্য মেহনত করার প্রভাবসমূহ
হজরতজী বলেন— ঈমানের জন্য মেহনত করা এবং মোহাম্মদী তরীকা তর-তাজা হবার জন্য জগতের মধ্যে নিজের যাতের ওপর ভোগ-পিপাসা ও গরম-ঠাণ্ডা সহ্য করে আঘাত খাওয়াই প্রতিকূল অবস্থা অনুকুল অবস্থার দিকে পরিবর্তিত হবার কারণ হয়।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- ৭৭)
১৮৭. সমস্ত জগতকে অধীনস্থ করে দেয়ার ওয়াদা
হজরতজী বলেন— এই দাওয়াত ওয়ালা আমলের সামনে সমস্ত জগতকে অধীনস্থ করে দেবার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা রয়েছে, এবং জগতের অবস্থা ঠিক করে দেয়ার দায়িত্ব আছে।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ-৯৩)
১৮৮. ভেতরের দরদ ও বে-চাইনি থেকে এ সমস্ত প্রভাব পড়বে
হজরতজী বলেন— নিজের মধ্যেকার ইচ্ছা ও আবেগ পরিমাণ এবং নিজের মধ্যেকার দরদ ও পেরেশানী এবং বে-চাইনির সাথে চেষ্টা-মেহনতে ডুবে যাওয়ার পরিমাণ অন্যদের উঠে আসার গায়েবী উঁচু উঁচু অবস্থাকে অস্তিত্বে আনে।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- ৯৪)
১৮৯. গাশতের আমল এ কাজের মধ্যে মেরুদন্ডের হাড্ডির মত গুরুত্ব রাখে
হজরতজী বলেন— গাশতের আমল এ কাজের মধ্যে মেরুদন্ডের হাড়ের মতো গুরুত্ব রাখে। যদি এই গাশতের আমল বিশুদ্ধ হয়, তবে কবুল হয়ে যাবে, দাওয়াতও কবুল হয়ে যাবে এবং হেদায়েত আসবে, আর যদি গাশ্ত্ কবুল না হয়, তাহলে দাওয়াত কবুল হবে না, আর দাওয়াত কবুল না হলে হেদায়েত আসবে না।
(সাওয়ানেহে হজরতজী- পৃঃ ৭৭৩)
১৯০. ইসলাম কখন প্রসার লাভ করবে?
হজরতজী বলেন— যখন জনসাধারণকে ইসলামের প্রসারকারী বানানো হবে, তখন এরা নিজেদের জীবন পদ্ধতিও পরিবর্তন করে ফেলবে, ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সত্যতা বর্ণনা করা ও শেখা চাই, আর নিজের জীবন ব্যবস্থার পদ্ধতিগুলোও তা মোতাবেক পরিবর্তন করা চাই, এর দ্বারা ইসলাম প্রসার লাভ করবে।
(মকতুবাতে আকাবেরে তাবলীগ- পৃঃ ১৫৭)
১৯১. জিহ্বা অন্তরকে জোড়া ও দেয়, আবার ছিঁড়েও ফেলে
হজরতজী বলেন— উম্মত বানানো এবং বিগড়ানোর ব্যাপারে, উম্মতকে জোড়ার ব্যাপারে এবং তোড়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী দখল জিহ্বার, এই জিহ্বা অন্তরসমূহকে জোড়া ও দেয়, আবার ছিঁড়েও ফেলে। জিহ্বা থেকে একটি গলত এবং খারাপ কথা বেরিয়ে যায়, আর তার ওপর লাঠি পেটা হয় এবং ফেতনা ফাসাদ দাঁড়িয়ে যায়। আবার একটা কথাই জোড় পয়দা করে দেয় এবং কাটা অন্তরকে মিলিয়ে দেয়। এজন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন এ কথার যে, জিহ্বার ওপর ক্ষমতা বা অধিকারী হওয়া চাই, আর এটা তখনই হওয়া সম্ভব, যখন বান্দা সব সময় এ কথার খেয়াল রাখবে যে, আল্লাহ সব সময় তার সাথে আছেন এবং তার সবকথা শুনছেন।
(তাবলীগী তাহরীক- পৃঃ ৫৪)
১৯২. কিতাবের সাথে লেগে থাকার অবস্থা
হজরতজী বলেন— বড় হজরতজী (মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস রহঃ) যখন আমাকে জামাতের সাথে মেওয়াতে পাঠাতেন, তখন আমি গরুর গাড়ির মাল রাখার জায়গায় নিজের কিতাবগুলো রেখে দিতাম আর পুরো রাস্তায় পড়তে থাকতাম, এবং উদ্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছার পর যা কিছু আমার লেখার প্রয়োজন হতো তা আমি লিখে নিতাম।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৫০)
১৯৩. আমল ওয়ালা জীবন ফাজায়েল দ্বারা সৃষ্টি হয়
হজরতজী বলেন— আল্লাহ তায়ালার কাছে আমল উদ্দেশ্য, আর আমল ওয়ালা জিন্দেগী ফাজায়েল দ্বারা পয়দা হয়। প্রথমে ফাজায়েল বা লাভের কথা বর্ণনা করা চাই, যাতে করে আমল জিন্দা হয়, আমল অস্তিত্বে আসার পর সহী-শুদ্ধের প্রশ্ন আসবে, তখন মাসলা-মাসায়েলের প্রয়োজন হবে।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৫৫)
১৯৪. আমরা (মাদ্রাসায়) পড়ানোকে বুনিয়াদী বা ভিত্তিমূলক কাজ মনে করি
একবার হজরত মাওলানা মুফতী আজিজুর রহমান বিননূরী সাহেব হজরতজীর কাছে নিজের পড়ানোর কাজে ব্যস্ততার শেকায়েত করলেন এবং আরজ করলেন যে, আমি পড়াতে পড়াতে এতো বিরক্ত হয়ে গেছি যে, মন চায় কিছু দিনের জন্য যদি কাউকে পাওয়া যেতো তাহলে পড়ানোর দায়িত্ব তাঁর হাওলা করে কিছুদিন তাবলীগে সময় লাগাতাম, তখন হজরত বললেনঃ কখনো না, তাবলীগের আগেও এ কাজই করতে হবে এবং তাবলীগের পরেও এ কাজই করতে হবে। (অর্থাৎ পড়াতে হবে) মানুষ আমাদেরকে বলে যে, আমরা নাকি মাদ্রাসার বিরোধী, অথচ এটা গলত কথা, আমরা তো পড়ানোকে বুনিয়াদী কাজ মনে করি, আর সত্য কথা এই যে, আমি নিজেও পড়াই। আমরা তো এটা চাই যে, পড়ানোর কাজের সাথে তাবলীগকেও লাগিয়ে রাখা হোক।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৫৮)
১৯৫. সীমাবদ্ধ জায়গায় অসীম চাহিদাকে পুরা করা যায় না
হজরতজী বলেন— আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াকে মানুষের প্রয়োজনের জন্য বানিয়েছেন, আর এ কথা প্রকাশ্য যে, যত জিনিস পৃথিবীতে আছে তা সব মানুষের প্রয়োজনের জন্য এবং সীমিত পরিমাণে, কিন্তু মানুষ যখন প্রয়োজন থেকে আগে বেড়ে খাহেশের অবস্থানে প্রবেশ করে, তখন খাহেশ তো অসীম, একটা সীমাবদ্ধ জায়গায় অসীম খাহেশকে পুরা করা যায় না, খাহেশ পুরা হবার জায়গা জান্নাত। আর জান্নাতের সমস্ত জিনিস চিরস্থায়ী এবং অসীম। এ কথাকেই কোরআন পাকে এই শব্দমালায় বর্ণনা করা হয়েছে– জান্নাতে ঐ সমস্ত জিনিস মজুদ আছে যা তোমাদের নফ্স্ খাহেশ করবে।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৫৯)
১৯৬. হুজুর (স) অধিকাংশ সৈন্যদল দাওয়াতের জন্য পাঠিয়েছিলেন
হজরতজী বলেন— হুজুর (স) যত প্রতিনিধি দিল, সেনাবাহিনী গোত্রসমূহ ও এলাকাসমূহে পাঠিয়েছেন তা সব দ্বীনের দাওয়াতের জন্য ছিল, হুজুরে আকরাম (স)-এর সমস্ত জেহাদের সংখ্যা এক রেওয়ায়েত মতে ২৩, আর অন্য রেওয়ায়েত মতে ৩৯, এর মধ্যে শুধু নয়টির ব্যাপারে লেখা আছে যে, হুজুর যুদ্ধের জন্য পাঠিয়েছেন। বাকী সবগুলোর ব্যাপারে এটাই লেখা আছে যে, দাওয়াতের জন্য পাঠিয়েছিলেন। স্বয়ং হুজুর (স) নিজেও শুধু একটি যুদ্ধে একজন কাফেরকে জখম করেছেন।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৫৯)
১৯৭. খায়রুল কুরুনে পরিচিতি পদ্ধতি
হজরতজী বলেন— খায়রুল কুরুনে পরিচিতির কাজ আমলের হিসাবে করানো হতো যে, ইনি তাহাজ্জুদ গুজার, ইনি রাতজাগা লোক, ইনি সব সময় রোজা রেখে থাকেন ইত্যাদি।
(তাযকেরায়ে মাওঃ ইউসুফ- পৃঃ ৬০)
১৯৮. সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর ২৪ ঘন্টা ভাগ করে নেয়ার কম দরজার তরতীব
হজরতজী বলেন— সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর চব্বিশ ঘণ্টার তরতীবের মধ্যে কম দরজার তরতীব ছিল এভাবে যে, অর্ধ দিন কামাই রুজির জন্য আর অর্ধদিন মসজিদে, এভাবে তাঁদের ওখানে রাতের ও ভাগ ছিল, আধা রাত বিবি-বাচ্চার হক-হকুক আদায় করার মধ্যে আর আধা রাত নামাজ এবং জিকিরের মধ্যে কাটাতেন।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৯১)
১৯৯. দেওবন্দ, সাহারান পুরে জামাত পাঠানোর কারণ
হজরতজী বলেন— আমি যে দেওবন্দ, সাহারান পুরে জামাত পাঠিয়ে থাকি, তা এজন্যে নয় যে, আলেমদেরকে তাবলীগ করা হোক, এবং দাওয়াত দেয়া হোক। আমি তো এই উদ্দেশ্যে পাঠাই যে, বর্তমানে আম জনসাধারণ আলেমদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তারা যেন তাদের কাছে হয়ে যায়, এর মধ্যেই তাদের উপকার।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- পৃঃ ৯৭)
২০০. বদরের যুদ্ধের তারিখে জামাত বের করার আমল তরক করার কারণ
হজরত মুফ্তি আজিজুর রহমান সাহেব বিননুরী (র) হজরতজী থেকে জানতে চাইলেন যে, আমি জানতে পেরেছি যে, আপনারা ঐ সমস্ত তারিখে জামাত বের করতেন, যে সমস্ত তারিখে বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু তারপর তা বন্ধ করে দিলেন কেনো? হজরতজী বললেন— হুজুর (স) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা)-এর প্রথম সফর, যা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের জন্য হয়েছিল। আর সেই সফরেই হক ও বাতেলের ফায়সালা হয়েছিল, তারই অনুকরণে ঐ সমস্ত তারিখে জামাত বের করতাম, কিন্তু পরে যখন আমি এ কথা বুঝতে পারলাম যে, মানুষ একে জরুরী মনে করে বসবে এবং ভবিষ্যতে বেদাতের রূপ ধারণ করবে, তখন আমি তা বন্ধ করে দিয়েছি।
(তাযকেরায়ে মাওলানা ইউসুফ- ১০৫)
← আগের পর্ব (বাণী ১৬১–১৮০) | সূচিপত্র | পরের পর্ব (বাণী ২০১–২২০) →
মূল বই: মালফুজাতে হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (রহঃ)। সংকলন: মুফতি রওশন শাহ কাসেমী। অনুবাদ: ইসহাক ওবায়দী। প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, ঢাকা। বইটির স্ক্যান কপি archive.org-এ পাওয়া যাবে।
