|

মালফুজাতে হযরতজী ইলিয়াস (রহঃ) – পঞ্চম কিস্তি: মলফুজ ৬৬–৯৫

হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী (রহঃ)-এর বাণী সংকলন মালফুজাত (নীতি-কথা) – হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) বইয়ের পঞ্চম কিস্তি (মলফুজ ৬৬ থেকে ৯৫)। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।

সংকলন: মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানী। অনুবাদ: ডক্টর মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ (ব্যারিষ্টার)। প্রকাশক: মোহাম্মদী লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা।

মওলানা মোঃ মনজুর নোমানী কর্তৃক সংগৃহীত ও সঙ্কলিত

১৩৬৫ হিঃ জিনকদ ও জিলহজ্জের আলফোরক্কানে প্রকাশিত

হযরত মওলানার এন্তেকালের ঠিক এক বৎসর পূর্বের ১৩৬২ হিজরীর রজবে লক্ষৌ ও কানপুরের ওলামার সঙ্গে এক তবলীগী ছফরে আমিও গিয়াছিলাম। এই কিস্তির মলফুজাত সেই ছফরেরই।

এই কিস্তিতে যা আছে


৬৬. আমাদের এই তবলীগী কাজে অংশগ্রহণকারীদের উচিত যে, কোরআন…

তিনি বলেন–

আমাদের এই তবলীগী কাজে অংশগ্রহণকারীদের উচিত যে, কোরআন ও হাদীছে দ্বীনের দাওয়াত ও তবলীগের উপর যেই সমস্ত ছাওয়াব (পুরস্কারের) ওয়াদা করা হইয়াছে ও যেই সমস্ত এনামাতের খোশ-খবরী শুনান হইয়াছে ঐ সমস্তের উপর পূর্ণ একীন করিয়া ঐ সমস্ত পাওয়ার লোভে ও আশায় এই কাজে লাগে এবং ইহারও ধ্যান করে যে, আমাদের নগণ্য কোশেশের দ্বারা আল্লাহ পাক সেই সমস্ত লোককে দ্বীনের কাজে লাগাইয়া দিবে ও তৎপর এই ছিলছিলায় যত লোক কেয়ামত পর্যন্ত দ্বীনের কাজে লাগিবে ও তাহারা যত নেক কাজ করিবে তাহারাও ঐ সমস্ত নেক কাজের ছওয়াব পাইবে, খোদা চাহেত ঐ সমস্ত ছওয়াবের সমষ্টির বরাবর ছওয়াব আল্লাহ পাক আপন ওয়াদা মতে আমাদিগকেও দিবেন। কিন্তু শর্ত এই যে, আমাদের নিয়ত খালেছ, আমাদের কাজ মকবুল হয়।

৬৭. লোকদিগকে যখন এই তবলীগী কাজের জন্য প্রস্তুত করা…

তিনি বলেন–

লোকদিগকে যখন এই তবলীগী কাজের জন্য প্রস্তুত করা হয় তখন তাহাদের বিস্তারিতভাবে এই কাজে লাগিবার ফায়দা ও পরকালের পুরস্কার ও ছওয়াব বর্ণনা করিও। (আর এইভাবে বয়ান করিবার কোশেশ করিবে যেন কিছু সময়ের জন্য বেহেশতের কিছু নমুনা তাহাদের চোখের সামনে হাজির হয়, ইহাই কোরআন মজীদের তরিকা।) ইহার পর খোদা চাহেত এই কাজে লাগাতে যে সামান্য কিছু দুনিয়াবী কাজের ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা হইবে তাহা তাহারা দৃষ্টিপথেও আনিবে না।

৬৮. তবলীগী ‘গাশ্‌ত’ করিবার সময় ও বিশেষ ভাবে কাহারও…

তিনি বলেন–

তবলীগী ‘গাশ্‌ত’ করিবার সময় ও বিশেষ ভাবে কাহারও সহিত কথা বলিবার সময় জিকির ফিকিরের মধ্যে থাকার জন্য যে জোড় দেওয়া হয় তাহার বিশেষ উদ্দেশ্য এই যে, সে সময় কোন একটি হাকিকত কাহাকেও বুঝাইবার ও মানাইবার চেষ্টা করা হয় তখন অনেকের দিলের মধ্যে যে উহার সত্যতা উপলব্ধির ও একীন ও দৃঢ় বিশ্বাসের তাছির থাকে তাহা তাহার কলবে পড়ে। আল্লাহ পাক মানুষের কলবে অতি বড় শক্তি রাখিয়াছেন। সাধারণ লোকেরা কিন্তু তাহা জানে না।

৬৯. আল্লাহর জিকির শয়তানের খারাবী হইতে বাঁচিবার জন্য দুর্গ…

তিনি বলেন–

আল্লাহর জিকির শয়তানের খারাবী হইতে বাঁচিবার জন্য দুর্গ ও মজবুত কিল্লা। এই জন্য যতই খারাপ ও গলত জায়গায় তবলীগের জন্য যাওয়া যায়, মানব ও জীন জাতীয় শয়তানের খারাবী হইতে নিজকে বাঁচাইবার জন্য ততই বেশী মনোযোগের সহিত আল্লাহর জিকির করা উচিত।

৭০. এক দ্বীনি মাদ্রাসার ছাত্রদের এক জামায়াতকে এই প্রশ্নের…

(এক দ্বীনি মাদ্রাসার ছাত্রদের এক জামায়াতকে এই প্রশ্নের দ্বারা সম্বোধন শুরু করেন।) বল দেখি; তোমরা কে? অতঃপর নিজেই উত্তর দিলেন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের মেহ্মান। মেহ্মান যদি মেজবানকে কষ্ট দেয় তাহা অতি যন্ত্রণাদায়ক হয়; সুতরাং তোমরা তালিবে এলম হইয়া যদি আল্লাহ ও রাসুলের রেজার (সন্তুষ্টির) কাজ না কর এবং ভুল পথে চল তাহা হইলে বুঝিয়া লও তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের কষ্টদায়ক মেহমান।

৭১. সেই তালেবে এলমদিগকে সম্বোধন করিয়া তিনি বলেন

সেই তালেবে এলমদিগকে সম্বোধন করিয়া তিনি বলেন–

দেখ; শয়তান বড়ই চালাক ও চতুর। সে আমাদের সাধের সামগ্রী লুটিতে চায়। তোমরা যখন এলমে দ্বীন শিখিবার জন্য ঘর হইতে বাহির হইয়াছ তখন শয়তান তোমাদের কাট্টা জাহেল করিয়া রাখা হইতে নিরাশ হইয়াছে। এই জন্য সে জাহেল রাখার কোশেশ ছাড়িয়া এই সিদ্ধান্ত করিয়াছে যে, তাহাদিগকে পড়িতে দাও; কিন্তু শয়তানী কাজে লাগাইবার কোশেশ কর। আমার এই আন্দোলন শয়তানের এই কোশেশের বিরুদ্ধে অতি প্রবল আকর্ষণ। যাহার উদ্দেশ্য আল্লাহর বান্দাদের শয়তানের রাস্তা হইতে ফিরাইয়া আল্লাহর রাস্তায় ঢালিয়া দেওয়া– আল্লাহর কাজে লাগাইয়া দেওয়া। বল দেখি, তোমাদের সিদ্ধান্ত কি?

৭২. যাহাদের খেদমতের হক তোমাদের উপর আছে এবং যাহাদের…

(এই খেতাবেই) তিনি বলেন–

যাহাদের খেদমতের হক তোমাদের উপর আছে এবং যাহাদের জন্য কথা তোমাদের জন্য জরুরী তাহাদের খেদমতের ও সুখসাচ্ছন্দ্যের সুবন্দোবস্ত করিয়া ও তাহাদিগকে বুঝাইয়া শুনাইয়া শান্ত ও নির্ভর করিয়া এই কাজে বাহির হও এবং নিজের চালচলন এমন কর যে, এই কাজের দ্বারা তোমাদের ইলম ও এছলাহের বাসনা প্রবল দেখিয়া তোমাদের মুরব্বীগণ কেবল শান্ত ও নিশ্চিন্তই হয় না বরং আকৃষ্ট ও উৎসাহী হয়।

৭৩. দ্বীনের কাজের আসল উদ্দেশ্য ও গন্তব্য স্থল কেবলমাত্র…

দ্বীনের কাজের আসল উদ্দেশ্য ও গন্তব্য স্থল কেবলমাত্র রেজায়ে এলাহী ও পরকালের পুরষ্কার হওয়া উচিত। ইহকালে যেই সমস্ত পারিতোষিক ও শুভাশীষের ওয়াদা দেওয়া হইয়াছে, যেমন শান্তি ও সম্মানের জিন্দেগী অথবা যেমন পৃথিবীতে ক্ষমতা ও রাজ্য, রাজত্বের মালিক হওয়া এই সমস্ত ইঙ্গিত ও কাম্য নহে; বরং খোদা কর্তৃক ওয়াদাকৃত মাত্র। অর্থাৎ আমাদের যাহা কিছু করিতে হয় সমস্তই শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির ও আখেরাতের কামিয়াবী বা কৃতকার্যতার জন্য করা উচিত। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ পাকের ঐ সমস্ত ওয়াদার উপরও একীন রাখা চাই। এমনকি দোয়াও করা চাই; কিন্তু উহাকে নিজের এবাদত বন্দেগীর আসল উদ্দেশ্য মনে করিতে নাই। ওয়াদাকৃত সামগ্রী ও আসল উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য বিবাহের উদাহরণ হইতে ভাল করিয়া বুঝিতে পারিবে। বিবাহের মধ্যে আসল উদ্দেশ্য তো বিবিকে পাওয়া ও তাহার সহিত প্রেম প্রণয়, তাহার সঙ্গে উপহার প্রভৃতি পাওয়া দেশ-প্রথা হিসাবে ওয়াদাকৃত বলিয়া ধরিয়া লওয়া যায়। পৃথিবীতে এমন বোকা খুব কমই আছে যে শুধু উহার পাওয়ার জন্যই বিবাহ করিয়া থাকে। যদি কেহ এরূপ করিয়াও থাকে, আর তাহার স্ত্রী এই কথা জানিতে পারে যে, আমাকে পাওয়ার জন্য নয়; বরং আমার সঙ্গে প্রদত্ত উপহারের জন্য বিবাহ করিয়াছে তাহা হইলে চিন্তা করিয়া দেখ তাহার বিবির অন্তরে তাহার জন্য কত দূর জায়গা হইবে?

৭৪. মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য সৃষ্টির উপর জিহবা দ্বারাই। এই…

তিনি বলেন–

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য সৃষ্টির উপর জিহবা দ্বারাই। এই শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব ভালর মধ্যেই হওয়া উচিত ছিল; কিন্তু ইহা খারাবীর মধ্যেও হইয়া থাকে। অর্থাৎ যেমন মানুষ জিহ্বার সদ্ব্যবহার করিয়া, ইহা দ্বারা আল্লাহর ও দ্বীনের কাজ করতঃ খায়ের ও সৌভাগ্যে ফেরেশ্‌তার উপরেও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, আবার এইরূপ ইহার অসদ্ব্যবহার করিয়া শুকর ও কুকুরের মত জানোয়ার হইতেও খারাপ হইয়া যায়। যেমন, হাদীছ শরীফে আছেঃ

و هل يكب الناس على مناخرهم الا حصائد السنتهم

“মানুষকে তাহার জিহ্বাই অর্থাৎ জবানের কুকাজ সমূহ মাথা নীচের দিকে করিয়া দোজখে নিক্ষিপ্ত করিবে।”

৭৫. হযরত মওলানা থানবী (রহঃ) এন্তেকালের কিছু দিন পর…

হযরত মওলানা থানবী (রহঃ) এন্তেকালের কিছু দিন পর হযরতের (রহঃ) এক মুরিদ জিয়ারতের জন্য আসিয়াছিলেন। লিখক তাহাকে পরিচয় করাইয়া দিলে হযরত মওলানা বলিলেন– আমাদের হযরত মাওলানা থানবীর (রহঃ) মত যাহাদের মহব্বত ও নেছবতের হালকা এত বেশী প্রশস্ত তাহাদের এন্তেকালে সকলে মিলিয়া (তাজিয়াত) শোকে সান্ত্বনা দিবার চিন্তা করা উচিত। আমার মন চাহে যে, এই সময় হযরতের সমস্ত মুরিদানকে শোকে তাজিয়াত বা সান্ত্বনা দান করা হউক। বিশেষভাবে এই বিষয় প্রচার করা হউক যে, হযরত (রহঃ) সঙ্গে সম্বন্ধ বাড়াইবার ও হযরতের ফায়দা উঠাইবার এবং সঙ্গে সঙ্গে হযরতের দরজাত বৃদ্ধির চেষ্টায় অংশ লওয়ার ও তাহার রূহ মোবারকের খুশী বৃদ্ধি করিবার সর্বশ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী উপায় হযরতের সত্য শিক্ষা ও উপদেশাবলীর উপর নিজেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল করা এবং তাহা অধিক পরিমাণে প্রচার করা।

যত বেশী লোক হযরতের হেদায়েতের উপর চলিবে ততই নিম্নের হাদীছের মর্মানুসারে হযরত (রহঃ)-এর নেকীর পুঁজি ও সুউচ্চ দরজার উন্নতি হইবে। পুনঃ বলেন, ইহাই ইছালে ছওয়াবের উচ্চতম তরিকা। হাদীছ এইঃ

مَنْ دَعٰى اِلٰى حَسَنَةٍ فَلَهٗ اَجْرُهَا وَاَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا

“যে ব্যক্তি কোন নেক কাজের দাওয়াত দেয় সে সেই কাজের ছওয়াব পায় এবং যাহারা এই নেক কাজ করে তাহাদের ছওয়াবও পায়।”

৭৬. যদি কেহ নিজেকে তবলীগের উপযুক্ত বলিয়া মনে না…

যদি কেহ নিজেকে তবলীগের উপযুক্ত বলিয়া মনে না করে তাহা হইলে তাহার কখনও বসিয়া থাকা উচিত নহে; বরং তাহাকে কাজে লাগিবার ও অন্যকে উঠাইয়া কাজে লাগাইবার জন্য আরও অধিক চেষ্টা করিতে হইবে। কখন কখন এমনও হইয়া থাকে যে, কোন বড় কাজ অনুপযুক্তদের মারফতে কোন যোগ্য লোক পর্যন্ত পৌঁছিয়া যায় ও উহা পূর্ণ মাত্রায় হইতে থাকে এবং ইহার ছওয়াব এই হাদীছদয় অনুযায়ী অনুপযুক্তগণও পাইতে থাকেন।

مَنْ دَعٰى اِلٰى حَسَنَةٍ فَلَهٗ اَجْرُهَا وَاَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا

(১) “যে কেহ ভাল কাজের দাওয়াত দিবে তাহার জন্য উহার ছওয়াব ও যাহারা ঐ কাজ করিবে তাহাদের ছওয়াবও তিনি পাইবেন।”

وَمَنْ سَنَّ فِي الْاِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهٗ اَجْرُهَا وَاَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا

(২) “যে কেহ একটি ভাল প্রথা প্রবর্তন করিবে তাঁহার জন্য উহার ও যাহারা ঐ কাজ করিবে তাহাদের কাজেরও (অতিরিক্ত) ছওয়াব হইবে।”

এই দুই হাদীছের মর্ম মতে যাহারা উপযুক্ত লোক পর্যন্ত পৌঁছিবার উপায় হইয়াছে সেই অনুপযুক্তদের পূর্ণ মাত্রায় ছদকায়ে জারিয়ার ছওয়াব হইবে। সুতরাং যাহারা অনুপযুক্ত তাহাদের এই কাজে আরও বেশী করিয়া জোরে-শোরে লাগা দরকার– আমিও আমাকে অনুপযুক্ত মনে করি বলিয়াই এই কাজে মত্ত ও মগ্ন হইয়া মজিয়া আছি, যেন আল্লাহ পাক আমার এই কোশেশ দ্বারা এই কাজকে কোন যোগ্য লোক পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দেয়, তৎপর উচ্চ দরজার যেই পুরস্কার এই কাজের জন্য আল্লাহ পাকের নিকট আছে তাহা আমাকেও দেওয়া হইবে।

৭৭. হযরত আবু ছাইদ খুদরী (রাঃ)-এর হাদীছঃ

তিনি বলেন–

হযরত আবু ছাইদ খুদরী (রাঃ)-এর হাদীছঃ

مَنْ رَاٰى مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهٖ فَاِنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهٖ فَاِنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهٖ

“তোমাদের মধ্যে যে কেহ কোন খারাপ কাজ দেখিবে উহাকে স্বহস্তে দূর করিবে, যদি না পারে তাহা হইলে জবানে দূর করিবে, যদি না পারে তাহা হইলে কলবে দূর করিবে।”

অর্থাৎ কলবে দূর করিয়া শেষ অংশের এক দরজা এক ছুরত ইহাও যে, মন্দকে দূর করিবার জন্য “আছ্হাবে কুলুব’ নিজেদের ‘কলবী কুওত’ বা আধ্যাত্মিক শক্তিও প্রয়োগ করিবে– অর্থাৎ হিম্মত ও তাওয়াজ্জোহ দ্বারা কাজ লইবে। পুনরায় এ সম্বন্ধে বলেন– ইমাম আব্দুল ওহ্হাব সারানী কুতুব হওয়ার এক উপায় সম্বন্ধে লিখিয়াছেন, যাহার সারমর্ম এইঃ

“আল্লাহ পাকের জমিনের উপর যেই যেই জায়গায় যেই যেই নেক কাজ নষ্ট হইয়া গিয়াছে ঐ সমস্তের কল্পনা করিয়া মনের মধ্যে দুঃখ ও দরদ অনুভব করতঃ আল্লাহর নিকট অনুনয় বিনয় করিয়া ঐ সমস্ত জীবিত প্রচলিত হওয়ার জন্য দোয়া করা ও নিজের কলবী কুওতকে (আধ্যাত্মিক শক্তিকে) এই কাজের জন্য ব্যবহার করা। এইরূপে যেই সমস্ত জায়গায় যেই সমস্ত বদ কাজ প্রসারিত হইয়াছে ঐ সমস্তের ধ্যান করিয়া নিজের মধ্যে জ্বালা-যন্ত্রণা অনুভব করতঃ

উহাদিগকে ধ্বংস করিয়া দেওয়ার জন্য আল্লাহ পাকের নিকট করুণ স্বরে (তাহা মিটাইয়া দিবার) জন্য দোয়া করা ও নিজের হিম্মত ও তাওয়াজ্জোহকে ঐ সমস্তের মুলোৎপাটনের জন্য কাজে লাগান।”

ইমাম আব্দুল ওহ্হাব শারানী লিখিয়াছেন; “যিনি এইরূপ করিতে থাকিবেন খোদা চাহে তো তিনি জমানার কুতুব হইবেন।”

৭৮. প্রত্যেক জায়গায় প্রকৃত ও সর্বোত্তম জিকির ঐ বিষয়ে…

তিনি বলেন–

প্রত্যেক জায়গায় প্রকৃত ও সর্বোত্তম জিকির ঐ বিষয়ে আল্লাহর বিধি-নিষেধ পালন করাঃ

لَا تُلْهِكُمْ اَمْوَالُكُمْ وَلَا اَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ

“তোমাদের মাল আসবাব ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদিগকে আল্লাহর জিকির হইতে গাফেল (অমনোযোগী না করে।”

সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের আওলাদের সহিত ব্যবহারে ও বেচাকিনার মোয়ামেলাতে আল্লাহর বিধি-নিষেধ পালন করে ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে ঐ ব্যক্তি এই সমস্ত কাজে ব্যস্ত থাকিয়াও আল্লাহর ইয়াদকারী (জাকের)।

৭৯. বেহেশত কেবল বিনয়ীদের জন্য। মানুষের মধ্যে অহঙ্কারের কিছু…

তিনি বলেন–

বেহেশত কেবল বিনয়ীদের জন্য। মানুষের মধ্যে অহঙ্কারের কিছু অংশ থাকিলে প্রথমে তাহাকে দোযখে ফেলিয়া জ্বালাইবে; যখন খালেছ বিনয় বাকী থাকিবে তখন তাহাকে বেহেশতে পাঠান হইবে। মোটের উপর; অহঙ্কারের সহিত কোন লোক বেহেশ্তে যাইবে না।

৮০. যাহারা ছালেক (তরিকতের পথিক) নহে তাহাদিগকে আমাদের বুজুর্গেরা…

যাহারা ছালেক (তরিকতের পথিক) নহে তাহাদিগকে আমাদের বুজুর্গেরা ছুফীদের কিতাব পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন। অবশ্য যদি কোন ছালেক কোন সত্যিকার শেখের তরবীয়তে থাকে তবে তিনি পড়িলে কোন অনিষ্ট নাই।

৮১. মওলানা মরহুম লক্ষৌর ছফরে এক বিখ্যাত বড় আলেমকে…

মওলানা মরহুম লক্ষৌর ছফরে এক বিখ্যাত বড় আলেমকে জামায়াতের সহিত লক্ষৌ যাওয়ার জন্য দাওয়াত দেওয়াইয়া ছিলেন; তিনিও আসিয়াছিলেন। তাঁকে সম্বোধন করিয়া মওলানা এক সময় বলেন– হযরত! আমি আপনাকে ওয়াজ করিবার জন্য কষ্ট দেই নাই। আমাদের এই কাজে ওয়াজ ও তকরীর তো এক আনুসঙ্গিক বিষয় মাত্র। আপনার মত বুজুর্গদের ছফরের কষ্ট আমি কেবল এই জন্য দিয়া থাকি যে, নিজ বাড়ী ঘরে ও কাজ কারবারের মধ্যে ব্যস্ত থাকিলে আমার এই কাজ বুঝিবার ও এই বিষয় চিন্তা করিবার অবসর আপনাদের মিলে না, কিন্তু যখন ছফরের সময় নিজের কাজ কারবার ও পারিপার্শ্বিকতা হইতে বাহির হওয়া যায় তখন মনের শান্তির সহিত আমার কথা শুনিতে, জামায়াতের কাজ স্বচক্ষে দেখিতে ও এই বিষয়ে চিন্তা চর্চা করিতে পারিবেন।

৮২. লোকদিগকে ঘর বাড়ী ছাড়িয়া নিজের খরচে দ্বীন শিখিবার…

তিনি বলেন–

লোকদিগকে ঘর বাড়ী ছাড়িয়া নিজের খরচে দ্বীন শিখিবার, শিখাইবার ও বিস্তার করিবার জন্য বাহির হইতে উৎসাহিত কর। যদি তাহারা একেবারে অক্ষম হয় অথবা এতদূর ত্যাগ স্বীকার করিতে প্রস্তুত না হয় তাহা হইলে যতদুর সম্ভব তাহাদের নিজ এলাকায় উহার বন্দোবস্ত কর। যদি তাহাও সম্ভব না হয় তাহা হইলে অন্য জায়গা হইতে হইলেও ইহার বিহিত ব্যবস্থা কর। কিন্তু সকল অবস্থায়ই দৃষ্টি রাখিবে যেন তাহাদের মধ্যে এশরাফে নফছ (আল্লাহর প্রতি দৃষ্টি না দিয়া বান্দার প্রতি দৃষ্টি রাখার নামই এশ্‌রাফে নফছ) পয়দা না হয়। কারণ ইহা নিজের অভাব অভিযোগ পুরণের জন্য আল্লাহর প্রতি ঈমানের গোড়াকে দুর্বল করিয়া দেয়। সঙ্গে সঙ্গে যাহারা বাহির হইবেন তাহাদিগকেও ভালমতে বুঝাইয়া দেওয়া উচিত, যেন এই পথের দুঃখ কষ্ট ও ক্ষুৎ-পিপাসা ইত্যাদিকে আল্লাহর রহমত বলিয়া মনে করে। এই রাস্তার দুঃখ কষ্ট তো পয়গম্বর, ছিদ্দিক ও আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তদের খাদ্য।

৮৩. বন্ধুগণ! এখনও কাজের সময় বাকী আছে। অতি শীঘ্রই…

তিনি বলেন–

বন্ধুগণ! এখনও কাজের সময় বাকী আছে। অতি শীঘ্রই দুইটি মহাবিপদ উপস্থিত হইবে। একঃ শুদ্ধি আন্দোলনের মত কুফরী প্রচারের চেষ্টা, যাহা সাধারণ লোকের মধ্যে হইবে। দুইঃ এলহাদ উচ্ছৃঙ্খলতা ও নাস্তিকতা, যাহা পাশ্চাত্য রাজনীতি ও শাসন পেষণের সঙ্গে সঙ্গেই আসিতেছে। এই দুই গুমরাহী প্লাবণের মত আসিবে। যাহা কিছু করিতে হয় ইহার পূর্বেই করিয়া লও।

৮৪. সর্বসাধারণের মধ্যে দ্বীনের শিক্ষা ও দীক্ষার যে পদ্ধতি…

তিনি বলেন–

সর্বসাধারণের মধ্যে দ্বীনের শিক্ষা ও দীক্ষার যে পদ্ধতি আমরা আমাদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রচলন করিতে চাই কেবলমাত্র উহাই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানায় প্রচলিত ছিল। এইরূপে তথায় সাধারণভাবে দ্বীন শিখিত ও শিখান হইত। পরে যেই সময় অন্যান্য তরিকা এই কাজের জন্য আবিষ্কৃত হইয়াছে যথা– কিতাব প্রণয়ণ ও সঙ্কলন, কিতাবী শিক্ষা ইত্যাদি এ সমস্তকে সাময়িক আবশ্যকতাই সৃষ্টি করিয়াছে। কিন্তু লোকেরা শুধু এইগুলিকেই আসল বলিয়া বুঝিয়া লইয়াছেন এবং রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জমানার তরীকাকে ভুলিয়া গিয়াছে। অথচ আসল তরীকা উহাই এবং সাধারণভাবে শিক্ষাদীক্ষা কেবলমাত্র এই তরীকাতেই দেওয়া যাইতে পারে।

৮৫. আমাকে যখন মেওয়াতও যাইতে হয় তখনও আমি সর্বদা…

তিনি বলেন–

আমাকে যখন মেওয়াতও যাইতে হয় তখনও আমি সর্বদা আহলে খাইর ও আহলে জিকিরের জমায়াতও লইয়াই যাই। তথাপি সাধারণের সঙ্গে মেলামেশায় কলবের অবস্থা এতই পরিবর্তন হইয়া যায় যে, যতক্ষন পর্যন্ত ‘এতেকাফ’ করিয়া উহাকে ধৌত না করি অথবা কিছু দিনের জন্য ছাহারানপুর অথবা বায়পুর যাইয়া খাছ জমায়াত ও খাছ পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে না থাকি ততক্ষণ পর্যন্ত কলব নিজের পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়া আসে না।

৮৬. আমাদের তবলীগী কর্মীদের তিন শ্রেণীর লোকের নিকট তিন…

তিনি বলেন–

আমাদের তবলীগী কর্মীদের তিন শ্রেণীর লোকের নিকট তিন উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে যাওয়া উচিত।

(১) ওলামা ও নেককারদের খেদমতে দ্বীন শিখিবার জন্য ও দ্বীনের ভাল তাছির লওয়ার জন্য।

(২) নিজ হইতে নীচ শ্রেণীর লোকদের মধ্যে দ্বীনি কথাবার্তা প্রচার করিয়া নিজের দ্বীনের মধ্যে পরিপক্কতা ও পরিপূর্ণতা হাছিল করিবার জন্য।

(৩) বিভিন্ন দলের মধ্যে তাহাদের বিভিন্ন গুণ-গরিমা আকর্ষণ করিয়া লইবার জন্য।

৮৭. একদিন দোয়া করিতে করিতে তিনি বলেন

একদিন দোয়া করিতে করিতে তিনি বলেন–

“আয় আল্লাহ! কাফেরের উপর আপনার বান্দা হিসাবে যেই মায়া মমতা হওয়া উচিত ও সেই হিসাবে উহাদের যেই অধিকার হুকুক সমূহ আমাদের উপর বর্তায় উহা আদায় করিবার তওফীকের সহিত উহাদের কুফুরীর জন্য আমাদের অন্তরে পূর্ণভাবে বিতৃষ্ণা ও বিতশ্রদ্ধা ভাব পয়দা করিয়া দিন।”

৮৮. আহ্লে দ্বীনকে (ওলামা ও নেককারকে) এই কাজে (তাবলীগী…

আহ্লে দ্বীনকে (ওলামা ও নেককারকে) এই কাজে (তাবলীগী ও এছলাহী চেষ্টা করিতে) প্রচার ও সংশোধনের অংশীদার করিবার জন্যও তাঁহাদিগকে সন্তুষ্ট ও নিসংশয় করিবার জন্য ফিকির বেশী মাত্রায় করা চাই। যেখানে তাহাদের এখতেলাফ (মতানৈক্যতা ও অপছন্দতা) জানা যায় সেখানে তবলীগ করিতে তাহাদিগকে ‘মাজুর’ সাব্যস্ত করিবার জন্য তাহাদের পক্ষে ভাল ব্যাখ্যা করা চাই। তাহাদের খেদমতে নিজে ফায়দা উঠাইবার নিয়তে বরকত হাছিল করিবার ও দোয়া লইবার নিয়তে হাজির হইতে থাকা চাই।

৮৯. শুধু ইসলামের ও আল্লাহর নিকট মান মর্যাদা ও…

তিনি বলেন–

শুধু ইসলামের ও আল্লাহর নিকট মান মর্যাদা ও মূল্য আছে যদিও উহা পাপও গোনার সহিত মিলিত হইয়া থাকে। এই জন্য ফাছেক ও ফাজের মুমেনকেও একদিন না একদিন নাজাত দেওয়া হইবে। সুতরাং আমাদের উচিত, যাহার মধ্যে সামান্য মাত্রও ঈমান আছে তাহারও ইসলামের সহিত সম্বন্ধ রহিয়াছে। তাহার মান-মর্যাদা দেই ও সম্মান করি এবং তাহাকে আমাদের দ্বীনি ভাই বলিয়া মনে করিয়া তাহার সহিত সদয় ব্যবহার করি। তাহার মধ্যে যে পাপ ও গোনাহ আছে তজ্জন্য নিজকেও দায়ী করি। কেননা আমাদের গাফলতেরও ইহাতে অংশ রহিয়াছে। দ্বীনের জন্য চেষ্টা ও কষ্ট না করারই বিষময় ফল।

৯০. আমাদের কাজ দ্বীনের বুনিয়াদী (গোড়ার) কাজ, আমাদের আন্দোলন…

তিনি বলেন–

আমাদের কাজ দ্বীনের বুনিয়াদী (গোড়ার) কাজ, আমাদের আন্দোলন প্রকৃত প্রস্তাবে ঈমানী আন্দোলন। আজকাল সাধারণতঃ সম্মিলিতভাবে যে সমস্ত কাজ হয় ঐ সমস্তের কর্মীরা ঈমানের বুনিয়াদ ঠিক আছে বলিয়া ধরিয়া লইয়াই পরের গঠনমূলক কাজ করিতে থাকে ও উপরের দরজার আবশ্যকীয় জিনিসের বিষয় চিন্তা করে। আমাদের নিকট উম্মতের সর্বপ্রথম জরুরত তাহাদের কলবের (অন্তরের) মধ্যে ছহীহ ঈমানের আলো পৌঁছিয়া যাওয়া।

৯১. আমাদের মতে বর্তমানে উম্মতের আসল রোগ দ্বীনের তলব…

তিনি বলেন–

আমাদের মতে বর্তমানে উম্মতের আসল রোগ দ্বীনের তলব ও মান মর্যাদা হইতে তাহাদের অন্তর খালী হওয়া। যদি দ্বীনের ফিকির ও তলব তাহাদের মধ্যে পয়দা হইয়া যায় ও দ্বীনের আবশ্যকতার অনুভূতি ও শিহরণ তাহাদের মধ্যে সজীব হইয়া উঠে তাহা হইলে দেখিতে দেখিতে তাহাদের ইসলাম ও ইসলামী কাজ কর্মও সঞ্জীবীত হইয়া যাইবে। আমাদের এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য এই সময়ে দ্বীনের তলব ও কদর পয়দা করিবার জন্য চেষ্টা ও কষ্ট করা, শুধু কলেমা নামাজ শুদ্ধ করা ও শিক্ষা দেওয়া নহে।

৯২. আমাদের কাজ করিবার পদ্ধতির মধ্যে ঘর হইতে দূরে…

তিনি বলেন–

আমাদের কাজ করিবার পদ্ধতির মধ্যে ঘর হইতে দূরে দ্বীনের জন্য জমায়াত বন্দী হইয়া বাহির হইয়া যাওয়া অতি আবশ্যকীয় কাজ। ইহার বিশেষ ফায়দা এই যে, ইহা দ্বারা মানুষ তাহার চিরাচরিত স্পন্দন হীন পারিপার্শ্বিকতা হইতে বাহির হইয়া এক নূতন নেক চলন্ত আবহাওয়ার মধ্যে আসিয়া পড়ে, যদ্দারা তাহার দ্বীনি খেয়াল ও আকর্ষণ বর্ধিত ও বলিষ্ঠ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পায়। তৎসঙ্গে এই ঘরবাড়ী ছাড়িয়া বাহির হওয়ার মধ্যে যে নানাপ্রকারের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করিতে হয় ও দ্বারে দ্বারে ঘুরাফিরা করাতে আল্লাহর রাস্তায় যে অপমান ও বেইজ্জতি সহ্য করিতে হয়– এই সমস্তের দ্বারা আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে বর্ধিত হয়। কারণ আল্লাহ পাক ফরমাইয়াছেনঃ

وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا

“আর যাহারা আমার জন্য চেষ্টা ও কষ্ট করে নিশ্চয় আমি তাহাদিগকে আমার রাস্তা সমূহ দেখাইয়া দিব।”

এই জন্যই এই ছফর ও ঘরবাড়ী ছাড়ার সময় যতই লম্বা হইবে ততই উপকারী হইবে।

৯৩. এই ছফর জেহাদের ছফরের বিশেষত্ব ও বরকত নিজের…

তিনি বলেন–

এই ছফর জেহাদের ছফরের বিশেষত্ব ও বরকত নিজের মধ্যে রাখে; এই জন্য ঐ প্রকার পুরস্কার পাওয়ার আশাও করা যায়। ইহা যদিও যুদ্ধ নহে, কিন্তু জেহাদের এক অঙ্গ নিশ্চয়ই বটে। ইহা এক হিসাবে যদিও কাটাকাটি হইতে কম দরজার, কিন্তু অন্য হিসাবে ইহা হইতেও ঊর্ধ্বে। যেমন, মানুষ মরাতে মনের হিংসা চরিতার্থ হওয়ার ও ক্রোধের আগুন নির্বাপিত হওয়ার ছুরতও আছে, আর এখানে শুধু আল্লাহর ওয়াস্তে ক্রোধকে দমন ও হজম করিতে হয়। লোকের পায়ে পড়িয়া তাহাদের খোষামোদ তোষামোদ করিয়া বেইজ্জত হইতে হয়।

৯৪. এই আন্দোলন প্রকৃত প্রস্তাবে নিজের জন্য অতি উচ্চ…

তিনি বলেন–

এই আন্দোলন প্রকৃত প্রস্তাবে নিজের জন্য অতি উচ্চ দরের রেয়াজত (কষ্ট করা)। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় লোকেরা ইহার হাকিকত (আসল সত্ত্বা) বুঝে না।

৯৫. যে সমস্ত লোক এই তবলীগের কাজ ও পদ্ধতি…

তিনি বলেন–

যে সমস্ত লোক এই তবলীগের কাজ ও পদ্ধতি শিখিবার জন্য নিজামুদ্দিন বস্তিতে আসিতে চায় তাহাদিগকে প্রথমেই ভাল করিয়া এই কয়টি কথা বুঝাইয়া দিতে হইবে।

(ক) বেশী হইতে বেশী সময় নিয়া আসিবে।

(খ) দুই একবার আসাকে যথেষ্ট বলিয়া মনে করিবে না। বরং আসিতেই থাকিবে।

(গ) এই এরাদা করিয়া আসিবে যে, নিজামুদ্দিনে পড়িয়া থাকিবে না, বরং উপদেশানুসারে স্থানে স্থানে ঘুরাফিরা করিবে, অবশ্য মধ্যে মধ্যে নিজামুদ্দিনও থাকিতে হইবে।

(ঘ) ইহাও তাহাদিগকে ভাল করিয়া বুঝাইয়া দিতে হইবে যে, যখন তাহাদের কিছু সঙ্গীরা বাড়ী ফিরিবার ইচ্ছা করিবে ও ইহাদের দেখাদেখি তাহাদের অন্তরেও বাড়ী ফিরিবার বাসনা পয়দা হইবে তখন নিজের মন মত না চলিয়া দৃঢ়তার সহিত হিম্মত করিয়া কাজে লাগিয়া থাকার ছওয়াব অসীম ও অগণিত এবং উহাদের উদাহরণ ঐ সমস্ত আল্লাহর রাস্তায় জেহাদকারীদের মত যাহারা যখন তাহাদের ডানে বামের লোক পলায়ন করিতে উদ্যত হয় তখন জেহাদের ময়দানে দৃঢ়ভাবে জমিয়া থাকে।

(ঙ) ইহাও বলিয়া দিবে যে, এই পথে বহু বেদনাদায়ক জিনিস (কষ্ট মুছিবত ও স্বভাব-বিরুদ্ধ ব্যাপার) সামনে আসিবে এবং পরকালে ছওয়াবও সেই স্বভাব-বিরুদ্ধ জিনিষের অনুপাতেই পাওয়া যাইবে।


← আগের কিস্তি (চতুর্থ কিস্তি)  |  সূচিপত্র  |  পরের কিস্তি (ষষ্ঠ কিস্তি) →

মূল বই: মালফুজাত (নীতি-কথা) – হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ)। সংকলন: মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানী। অনুবাদ: ডক্টর মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ (ব্যারিষ্টার)। প্রকাশক: মোহাম্মদী লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *