মালফুযাত – প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ) – পর্ব ৪: ৬১–৮০
প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর বয়ান, পরামর্শ, আমল ও দাওয়াতি জীবনের মালফুযাত, ৬১ থেকে ৮০ নম্বর। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
এই পর্বে যা আছে
- ৬১. স্যার একবার বলেন, যে দ্বীন বুঝে তার জন্য অন্যকে…
- ৬২. মাদানীনগর মাদ্রাসায় রমজানে এতেকাফে থাকাকালীন এক মোজাকারায় স্যার বলছিলেন…
- ৬৩. মাহফুজ ভাই একবার কথা প্রসঙ্গে স্যারকে জিজ্ঞেস করেন যে…
- ৬৪. ভাই আমিনুল ইসলাম পড়াশুনার জন্য মালয়েশিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের…
- ৬৫. ভাই ওবায়দুল্লাহ অভি অস্ট্রেলিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের কাছে কিছু…
- ৬৬. ভাই সোহেল স্যারের সাথে হজ্জ্বের সফরের কারগুজারী বলতে গিয়ে…
- ৬৭. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন জোহরের নামাজ সাধারণত কেন্দ্রীয় মসজিদে পড়তেন…
- ৬৮. একবার স্যার বলেন, আমরা যে খাদ্য গ্রহন করি, আমাদের…
- ৬৯. স্যার বলেন, এই প্রানী জগতে মানুষই একমাত্র প্রানী যে…
- ৭০. স্যারের বলতেন, জোড় করে বেশী দিন কোন এবাদত করতে…
- ৭১. যতো ক্লান্তির সফর হোক, বা যতো শীত বা বৃষ্টির…
- ৭২. স্যার বলতেন, পড়াশুনা করছি টাকার জন্য, চাকরীর জন্য, হালাল…
- ৭৩. স্যার বলতেন, ধনী হতে তিন জিনিস লাগে। কুছ আপকা…
- ৭৪. কাজল ভাই বলেন, একদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর স্যার…
- ৭৫. একবার স্যার বলেন, সাহাবীদের জামানায় যখন দুভিক্ষ ছিল, ঐ…
- ৭৬. আমরা অনেক সময় আলেম ওলামাদের নিকট যাকাতের মাসয়ালা, হজ্জ্বের…
- ৭৭. স্যার বলতেন, একই নদীতে মাছও থাকে, সাপও থাকে। একই…
- ৭৮. শামস গ্রুপের মালিক ও চেয়ারমান শামসুল হক সাহেব, স্যারের…
- ৭৯. চট্রগ্রাম থেকে সফর শেষে জামাত ঢাকায় কাকরাইলে আসছিল, বৃহস্পতিবার…
- ৮০. মদীনা মুনাওয়ারার মসজিদে, নামাজের জন্য অপেক্ষায়, নামাজের তখনো অনেক…
৬১. স্যার একবার বলেন, যে দ্বীন বুঝে তার জন্য অন্যকে…
স্যার একবার বলেন, যে দ্বীন বুঝে তার জন্য অন্যকে দ্বীন বোঝানো সহজ, এক্ষেত্রে ভাষা জানা, তার সংস্কৃতি জানা জরুরী না, জরুরী হলো সে নিজে দ্বীনকে বুঝে কিনা। যে কোন বিষয় যদি কেউ নিজে বুঝে থাকে তার জন্য সেটা অন্যকে বুঝানো অত্যন্ত সহজ। আসল হলো নিজে বুঝতে পারা, যে নিজেই বুঝে না সে অন্যকে আর কি বুঝাবে। আমি যদি দ্বীন বুঝে থাকি যে কোন লোককে আমি দ্বীন বুঝাতে পারবো, ভাষা এখানে মূল ফ্যাক্টর হবে না, এর বাস্তব উদাহরণ হলো সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, নিজের বুঝাটাই মূল, যে নিজে দ্বীনকে নিজে থেকে অনুধাবন করতে পারে, সে সমস্ত ভাষাভাষিদেরকেই দ্বীন বুঝাতে পারবে যদিও তাদের ভাষা সে নিজে না জানে।
৬২. মাদানীনগর মাদ্রাসায় রমজানে এতেকাফে থাকাকালীন এক মোজাকারায় স্যার বলছিলেন…
মাদানীনগর মাদ্রাসায় রমজানে এতেকাফে থাকাকালীন এক মোজাকারায় স্যার বলছিলেন, গরীবদের মাঝে বেশী সময় ব্যয় করার মধ্যে নিজের অনেক ফায়দা আছে, নিজের ব্যাপারেও গরীবিকে পছন্দ করা, সাথে সাথে গরীবদেরকেও মহব্বত করা। ঐসব গরীবদের মাঝে বেশী বেশী গাসত করা, মানুষ যাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে থাকে। আবার ঐ সমস্ত সাধারণ মানুষ, গরীব মানুষ, যাদের কাছে গাসতে গেলে অনেক সময় তারাই আমাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, তাদের মাঝেও বেশী বেশী গাসত করা দরকার। আর বিলাসিতাকে এড়িয়ে চলা, মনে চাচ্ছে এমন কিছু, সাধারণ মানুষ যেটা করতে বা পেতে পছন্দ করে থাকে, এরকম বিলাসিতার আসবাবকে দ্বীনের খাতিরে পরিত্যাগ করা। আসবাবকে জীবনের মাকসাদ না বানানো, স্যার বলছিলেন আমালের মোকাবেলায় আসবাবকে তুচ্ছ করা দ্বীনের একটা বুনিয়াদী জিনিষ। এই গরীবদের সোহবতে নিজেকে হাজীর করার দ্বারা, এদের মাঝে বেশী বেশী গাসত করার দ্বারা এবং আসবাবকে ছোট বানানোর দ্বারা অনেকগুলো উপকার পাওয়া যায়, যার একটা উপকার হলো আমীর বনার ইচ্ছা, শায়েখ হবার ইচ্ছা কেটে যায়।
৬৩. মাহফুজ ভাই একবার কথা প্রসঙ্গে স্যারকে জিজ্ঞেস করেন যে…
মাহফুজ ভাই একবার কথা প্রসঙ্গে স্যারকে জিজ্ঞেস করেন যে সব সন্তানের প্রতিই কি পিতা মাতার সমান ভালবাসা থাকে? স্যার উত্তরে বলেন, হ্যাঁ সব সন্তানের প্রতিই পিতামাতার ভালবাসা সমুদ্রের মতো গভীর, উপরের ঢেউটা কোথাও একটু বেশী কোথাও একটু কম দেখা যায়। সমুদ্রের গভীরতার মোকাবেলায় এই ঢেউ কোন গণার মধ্যেই পড়ে না, সমুদ্রের ঢেউযে কতো গভীর তা কেউ হয়তো জানেই না। আর ঢেউটাই বাইরে থেকে দেখা যায়, কিন্তু গভীরতা দেখা যায় না।
৬৪. ভাই আমিনুল ইসলাম পড়াশুনার জন্য মালয়েশিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের…
ভাই আমিনুল ইসলাম পড়াশুনার জন্য মালয়েশিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের কাছে বিদায় নেবার সময় স্যার কিছু নসীহত করেন, তার মধ্যে এটা একটা নসীহত ছিল যে দৈনিক কোরআন শরীফ এহতেমামের সাথে তেলাওয়াত করবে। ভাই আমিনুল ইসলাম জিজ্ঞেস করেন, কতটুকু করে পড়বো? স্যার বলেন, যতটুকু পারা যায়, বেশী থেকে বেশী, তবে দৈনিক গুরুত্বের সাথে করা চাই।
৬৫. ভাই ওবায়দুল্লাহ অভি অস্ট্রেলিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের কাছে কিছু…
ভাই ওবায়দুল্লাহ অভি অস্ট্রেলিয়ায় যাবার পূর্বে স্যারের কাছে কিছু নসীহত চান। স্যার বলেন, যাচ্ছো অমুসলিমদের দেশে, ইহুদী খ্রীস্টানরা পাশাপাশি থাকবে, ওদের সাথে চলার একটা নীতি এরকম, রেশমের মতো কোমল, কিন্তু ছেড়ে না। মানুষের সঙ্গে থাকবে নরমভাবে, কিন্তু নীতির জায়গায় থাকবে শক্তভাবে। স্যার তুলে ধরেন, বিদেশে গিয়ে দুইটা জিনিস হারালে চলবে না: আচরণের সৌন্দর্য আর ঈমানের দৃঢ়তা। মানুষের সাথে এমনভাবে চলবে যেন তারা ইসলামের সৌন্দর্য তোমার ব্যবহারেই দেখে। কিন্তু এমনও না, মানুষকে খুশি করতে গিয়ে নিজের পরিচয়টাই মুছে ফেললে। অমুসলিম দেশ, বিভিন্ন ধর্ম- সংস্কৃতির মানুষ থাকবে। তাদের সঙ্গে কথা বলবে ভালোভাবে, ন্যায্য ও সাহায্যপ্রবণ হবে, ঝগড়া বা তাচ্ছিল্য করবে না। ব্যবহার যদি সুন্দর হয়, মানুষ তোমাকে সম্মান করবে, তোমার কথাও শুনবে। রেশমের মতো কোমল, রেশম যেমন ছুঁতে নরম, আচরণ হবে ভদ্র, নরম, সম্মানজনক। কিন্তু ছেড়ে না, টান দিলে সহজে ছিঁড়ে যায় না- নিজের ঈমান, মূল্যবোধ আর নীতিতে কোনো ছাড় দেবে না। মুসলমানের স্বভাব হবে কোমল, কিন্তু তার ঈমান থাকবে অটুট (এটার মানে, নামাজ, হালাল-হারাম, সততা, লজ্জাশীলতা, নৈতিক সীমা- এগুলোতে কম্প্রোমাইজ করবে না; পরিবেশ বা চাপ থাকলেও নিজের পরিচয় আর নীতির জায়গাটা শক্ত করে ধরে রাখবে)। আচরণে মিষ্টি, কিন্তু আদর্শে অটল। মিশবে সবার সাথে, তবে গলে গিয়ে নিজেরটা হারাবে না।
৬৬. ভাই সোহেল স্যারের সাথে হজ্জ্বের সফরের কারগুজারী বলতে গিয়ে…
ভাই সোহেল স্যারের সাথে হজ্জ্বের সফরের কারগুজারী বলতে গিয়ে বলেন, রাতে মোজদালিফায় অবস্থান শেষে সকালে যখন আমরা পায়ে হেঁটে মিনার দিকে ফিরে আসতেছিলাম, আসার পথে মিনার কাছাকাছি বর্ডারে এক জায়গায় আমরা একটু বিশ্রামের জন্য বসলাম, জামাতের ১৫/১৬ জন সবাই একত্রেই ছিলাম। রাস্তার পাশে একটা বড় অংশ জুড়ে পানি ভরা বোতল, খাবারের প্যাকেট, ও অন্যদের ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিষসহ আবর্জনায় ভরা ছিল। সেখান থেকে আমরা কয়েক জন খুঁজে খুঁজে চকলেট, বাদাম, এবং খাবারের মতো বিভিন্ন শুকনা জিনিষ পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলো আমরা আনলাম। আমরা সবাই মিলে খেলাম, স্যারও খেলেন। স্যার তখন বলেন, এই ধরনের খানার মধ্যে গভীর একটা ফায়দা আছে, সেটা হলো অহংকার দূর হয়ে যায়।
৬৭. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন জোহরের নামাজ সাধারণত কেন্দ্রীয় মসজিদে পড়তেন…
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন জোহরের নামাজ সাধারণত কেন্দ্রীয় মসজিদে পড়তেন। একদিন ঢাকা থেকে এক ব্যাক্তি স্যারের সাথে দেখা করতে আসে। তাকে খুব পেরেশান দেখাচ্ছিল, নামাজের পর ব্যক্তিগতভাবে কিছু পরামর্শের জন্য বসে। দুপুরের খাবারের সময় ছিল, কাজল ভাই উনাকেও দাওয়াত দিলে স্যারের সাথে উনিও কাজল ভাইয়ের বাসায় যান। কাজল ভাই বলেন, উনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল বড় ধরনের কোন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। খানার পরে উনি বললেন, আমার কিছু ব্যাক্তিগত পরামর্শ আছে। উনার কথা শুনে কাজল ভাই স্যারকে বললেন, আমি ভেতরে (বাসা) যাচ্ছি। তখন স্যার বললেন না তুমিও থাকো। ঐ মেহমান উনার বিভিন্ন হালত বলতে গিয়ে বলেন যে স্যার আমি এতা বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছি যে মাঝে মাঝে মনে হয় যে আমি আত্মহত্যা করি। সমস্যার আলোচনায় তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় রোজগারের জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছি, চাকরি, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ ইত্যাদি কিন্তু কোন জায়গায় সুবিধা করতে পারিনি। বিভিন্ন ব্যবসা করেছি লোকসান হয়েছে, নতুন করে টাকা বিনিয়োগ করেছি আবার লোকসান হয়েছে, বিভিন্ন জনের নিকট থেকে টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেছি আবারও লোকসান হয়েছে, চাকরীতে ঢুকেছি তাও ধরে রাখতে পারিনি। এভাবে এতোবেশী ধার কর্জের বোঝা মাথার উপরে যে এখন আমার মহল্লায় থাকাই মুসকিল। বিভিন্ন পাওনাদারের নিকট থেকে কর্জ পরিশোধের পিড়াপিড়ি, বড় ধরনের সমস্যা, কর্জ পরিশোধের কোন উপায় অবলম্বন নাই, আবার নিজের পারিবারিক চাহিদা, বাড়িতে থাকতে পারছি না। তার এই হালতের উপর কাজল ভাই বলেন যে আমি তখন ভাবলাম স্যার এখন কি পরামর্শ দেন দেখবো, একদিকে তো বিভিন্ন জনের কাছে বড় ধরনের কর্জ, আবার তার ব্যাক্তিগত এই হালত। তো স্যার খুব সহজভাবে বললেন যে তুমি তোমার ঐ মহল্লা ত্যাগ করো, আর এমন জায়গায় চলে যাও যেটা তোমার একেবারে অপরিচিত জায়গা, কেউ তোমাকে চিনে না। আর ঐ জায়গায় গিয়ে ছোটখাটো কাজ করো, প্রয়োজনে রিক্সা চালাও, আর একটা টিনের কৌটা কিনে নাও, কৌটার ঢাকনায় ছিদ্র করে নিবে, আর কর্জ পরিশোধের নিয়্যতে দৈনিক কিছু ঐ কৌটায় ফেলবে, আটআনা, চারআনা, একটাকা, দুইটাকা যেটা তোমার জন্য সহজ হয় দৈনিক কিছু করে তোমার এসব ধার পরিশোধের জন্য জমাবে। কাজল ভাই বলেন, তার এতোবড় সমস্যার সমাধান ঐসময় স্যার এতো সহজ করে দিলেন যে আমার কাছে এখন ভাবতেও অবাক লাগে, স্যারের এই পরামর্শের পর আমি দেখলাম যে ঐ মেহমানের আগের চেহারা আর পরের চেহারার মধ্যে অনেক পরিবর্তন, চেহারার পেরেশানী নাই, মনে হচ্ছিল তার বোঝা অনেক হাল্কা হয়ে গেলো।
৬৮. একবার স্যার বলেন, আমরা যে খাদ্য গ্রহন করি, আমাদের…
একবার স্যার বলেন, আমরা যে খাদ্য গ্রহন করি, আমাদের শরীরের জন্য, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের যা কিছু প্রয়োজন, আমাদের শরীর আমাদের খাদ্য থেকেই সেগুলো গ্রহন করে থাকে। একজন সুস্থ রোগীর রক্ত গ্রহনের দরকার হয় না, তার আয়রনের টেবলেট খাবার দরকার পরে না, ভিটামিন, আয়োডিন, মিনারেল ইত্যাদি যা কিছু শরীরের জন্য দরকার হয়, শরীর তা খাদ্য থেকেই গ্রহন করে থাকে, একজন সুস্থ মানুষের জন্য আলাদাভাবে এগুলো গ্রহন করার দরকার হয় না। যার আয়রনের অভাব, খাদ্য থেকে সে আয়রন নিতে পারছে না, তাকে আয়রনের টেবলেট খেতে হচ্ছে। আমাদের রুটিন জিকির অনেকটা এই রকম। সাহাবায়ে কেরাম এরকম রুটিন জিকির করতেন না, এবাদত থেকেই তাদের জিকির আযকার হয়ে যেতো, সেখান থেকেই তারা জীবনের প্রয়োজনীয় সিফাত গ্রহন করতে পারতেন। আমরা যেহেতু পারছি না, জীবন চলার সর্বক্ষেত্রে, আল্লাহ পাকের স্মরণ কাজ করছে না, চব্বিশ ঘন্টার কাজ কর্ম, লেনদেন, কথা বার্তা, ব্যবসা চাকরি, ইত্যাদিতে, আল্লাহ পাক আমাকে দেখছেন, একথার স্মরণ আমার কাজ করে না। এমনকি দ্বীনি কাজে, দ্বীনি আমালের ক্ষেত্রে, দ্বীনি তাকাজা পুরা করতে গিয়ে ও অনেক সময় আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যাই, তাই আমাদের রুটিন জিকিরের দরকার পরে। আমাদের নিয়মিত আমাল থেকে, নিত্যদিনের মেহনত কাজকর্ম থেকে আল্লাহর ভয়, আল্লাহর উপর ভরসা, বিনয়, একমাত্র আল্লাহকেই রাজী করার জজবা, আল্লাহর স্মরণ, ইত্যাদি, আমরা রিসিভ করতে পারছি না, তাই আমাদের রুটিন জিকিরের দরকার হয়, তিন তসবিহ, বারো তসবিহ ইত্যাদি, তেত্রিশ বার এটা পর, একশ বার এটা পর, একহাজার বার এটার অজিফা করো, নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পরিমান কোরআন শরীফের তেলাওয়াত ইত্যাদি।
৬৯. স্যার বলেন, এই প্রানী জগতে মানুষই একমাত্র প্রানী যে…
স্যার বলেন, এই প্রানী জগতে মানুষই একমাত্র প্রানী যে সর্ম্পকে ধরে রাখতে পারে, সম্পর্ককে বাড়াতে পারে, এস্তেমায়ী সম্পর্ক গড়তে পারে। অন্যান্য প্রানীদের সম্পর্ক এনফেরাদী, এস্তেমায়ী সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে না। কুকুর, গরু ইত্যাদি জন্মের পরে তারা মা’কে চেনে, মায়ের সাথে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক তারা হারিয়ে ফেলে। তাদের জীবন ব্যাক্তিগত জীবন হয়ে যায়, ধীরে ধীরে তারা মাকে আর চিনতে পারে না, মায়ের পরিচয় আর থাকে না, সম্পর্কও থাকে না। এর বিপরীতে মানুষ সম্পর্ককে ধরে রাখতে পারে, বাড়াতে পারে, নতুন সম্পর্ক তৈরী করতে পারে। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা এস্তেমায়ী জীবন দিয়েছেন
৭০. স্যারের বলতেন, জোড় করে বেশী দিন কোন এবাদত করতে…
স্যারের বলতেন, জোড় করে বেশী দিন কোন এবাদত করতে পারা যায় না, যদি ভালবাসা না জমানো যায়। উদাহরণ স্বরূপ স্যার বলতেন, গ্রামকে না ভালবাসলে চাষী হওয়া যায় না। হঠাৎ করে গ্রামে গেলো, বেশীদিন টিকতে পারবে না, হয়তো দেখবে বিদ্যুৎ নাই, কাঁদা মাটি, রাস্তা ভাল নাই, হাসপাতাল নাই, বিনোদনের জায়গা নেই, তো বেশীক্ষণ ভাল লাগবে না। গ্রামের প্রতি যদি ভালবাসা জন্মানো যায় তো তখন ঐ কাঁদামাটিতে হাটতেই মজা লাগবে। কাজ হয়তো একই করছে, কাজের বুয়া, অন্যের বাচ্চার দেখাশুনা করছে, বাচ্চার খাবার তৈরী করছে, তাকে খাওয়াচ্ছে, তার সাথে খেলতে হচ্ছে, তার পেশাব পায়খানা ছাফ করছে, তার কেথা কাপড় ধুয়ে দিচ্ছে, এভাবে মালিকের বাচ্চার জন্য কাজ করতে করতে ক্লান্তি নিয়ে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরছে। বাসায় হয়তো তার নিজেরও বাচ্চা আছে, বাসায় ফিরে নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তার ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বাসায় ফিরে এসে হয়তো নিজের বাচ্চার জন্য ঐ কাজগুলো করছে যে কাজগুলো অন্যের বাচ্চার জন্য করে ক্লান্ত হয়ে সে বাসায় ফিরলো। কিন্তু নিজের বাচ্চার জন্য করা ঐ একই কাজ তার ক্লান্তিকে দূর করছে। দায়িত্ব মনে করে করছে, ক্লান্তি বাড়ছে, মহব্বতের জন্য করছে ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে। স্যার বলতেন, ঈমান যেনো আমাদের মহব্বতের হয়। ঈমান, ঈমানী ছিফাত, ঈমানী আমাল যেনো আমার কাছে মহব্বতের হয়। স্যারের বিভিন্ন বয়ানে এই দোয়া শুনেছি, .اللّٰهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِيْ قُلُوْبِنَا، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ، وَالْفُسُوْقَ، وَالْعِصْيَانَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِيْنَ
৭১. যতো ক্লান্তির সফর হোক, বা যতো শীত বা বৃষ্টির…
যতো ক্লান্তির সফর হোক, বা যতো শীত বা বৃষ্টির মধ্যেই হোক, বা যতো রাতেই মনজিলে পৌঁছা হোক, স্যার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিতেন। সফরে জামাত পায়ে হেঁটে এসেছে, বা অনেক রাতে মসজিদে পৌঁছেছে, মসজিদে পৌঁছার পর দেখা যেতো, ছামানা রেখে কেউ হয়তো ফ্যান দিতো, জামার বোতাম কয়টা খুলে ফ্যানের নিচে দাঁড়াতো, কেউ ব্যাগের সাথে ঠেস দিয়ে বসেছে, কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে শুয়ে পড়েছে, কেউ হয়তো টয়লেটের জন্য বের হয়েছে। কিন্তু সব সময়ই মসজিদে প্রবেশ করার পর স্যারকে নামাজে দাড়াঁতে দেখেছি, এটার বিপরীত কখনো স্যারকে দেখিনি। এব্যাপারে বলতে গিয়ে হাফেজ মামুন ভাই বলেন, যতটুকু স্যারকে পেয়েছি, দেখেছি, আমার কাছে মনে হয় আমি স্যারের কাছে এটার জীবন্ত দেখেছি। “নামাজ আমার চক্ষুর শীতলতা”, মানে নামাজে আমি শান্তি পাই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে দাঁড়ালে শান্তি পেতেন। আমাদের স্বাভাবিক অবস্থা হলো, গাসত করে আসি, পরিশ্রমের কোন কাজ করে আসি, বা দুনিয়াবী কোন কাজের পরে, আমরা একটু বিশ্রাম নেই, শুই, হাত মুখ ধুঁয়ে আরাম করে ক্লান্তি দুর করে নেই তার পরে যদি দ্বীল যদি ভাল থাকে তো দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেই। স্যারকে দেখতাম কোন গাসত থেকে ফিরেই বা কোন সফরে কোথাও গেলে বা কোন মনজিলে পৌঁছলে যদি ওয়াক্ত থাকতো তো আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিতেন। স্যারকে দেখে মনে হতো এটার মধ্যে উনি শান্তি পেতেন। অনেক সময় অনেক ক্লান্তির পায়ে হাঁটা সফর থেকে মসজিদে ফিরে এসে বসার আগেই স্যার নামাজে দাড়াঁতেন, ঐসময় নামাজে দাঁড়ানো স্যারকে দেখে মনে হতো উনি শান্তি পাচ্ছেন। এভাবে একটা লোককে দায়েমী আমল করতে দেখে এটা যে তার শান্তির আমল সহযেই অনুমান করা যেতো।
৭২. স্যার বলতেন, পড়াশুনা করছি টাকার জন্য, চাকরীর জন্য, হালাল…
স্যার বলতেন, পড়াশুনা করছি টাকার জন্য, চাকরীর জন্য, হালাল উপার্জনের জন্য, এই জন্য পড়াশুনা করা জায়েজ আছে। সম্মানের জন্য পড়াশুনা করছি এইটা জায়েজ নাই। পড়াশুনাকে সম্মানের সাথে জড়িত করা যাবে না। ” وَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَٰكِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ ………” এব্যাপারে স্যার এই আয়াত পড়তেন। সম্মান শুধু দ্বীনের সাথে জড়িত। আমি হালাল উপার্জনের জন্য পড়াশুনা করছি, ডিগ্রী নিচ্ছি, এই নিয়্যতে পড়াশুনা ঠিক আছে, জায়েজ। আবার টাকা বাড়ানোর জন্য, বেশী বেতন পাবার জন্য প্রমোশন নেওয়া জায়েজ, কিন্তু সম্মানের জন্য চাকুরীতে প্রমোশন নেওয়া জায়েজ নাই। আমি এখন বেতন পাই ৩০,০০০ হাজার, প্রমোশন পেলে বেতন পাবো ৫০,০০০, টাকা বাড়বে এই জন্য প্রমোশন নেওয়া ঠিক আছে, এটা জায়েজ। সম্মানের জন্য প্রমোশন নেওয়া জায়েজ নাই। চাকুরীর পদোন্নতিতে সম্মান বাড়বে, বড় চেয়ারে বসতে পারবো, অনেকের চেয়ে বড় হবো, সম্মান বাড়বে, এইটা জায়েজ নাই। সম্মানকে পড়াশুনার সাথে, চাকরীর সাথে, উপার্জনের মাধ্যমের সাথে, চাকরীর পদোন্নতির সাথে জড়িত করা যাবে না। স্যার বলতেন, এটা মুনাফিকির আলামত। চাকরী, ব্যবসা, কাজকর্ম করছে হালাল উপার্জনের জন্য তা ঠিক আছে, সম্মান এখানে দেখা যাবে না।
৭৩. স্যার বলতেন, ধনী হতে তিন জিনিস লাগে। কুছ আপকা…
স্যার বলতেন, ধনী হতে তিন জিনিস লাগে। কুছ আপকা, কুছ বাপকা, আওর কুছ পাপকা। কিছু নিজের, কিছু বাপের, আর কিছু পাপের, মানে কিছু পাপও করতে হয়। ধন বাড়াতে চাই, অনেক মাল সম্পদের মালিক হতে চাই, ধন সম্পদে উপরে উঠতে চাই, এই নিয়্যত ও প্রচেষ্ঠার সাথে প্রায়ই পাপ যুক্ত হয়ে যায়।
৭৪. কাজল ভাই বলেন, একদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর স্যার…
কাজল ভাই বলেন, একদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর স্যার শুয়ে ছিলেন। তখন জুবেরী ভবনে থাকতাম, স্যার এবং আমি এক রূমে থাকতাম। খাবার শেষে স্যার শুয়ে পড়লেন আর আমি বসে থাকলাম। স্যার আমাকে বললেন, কি ব্যাপার তুমি শুচ্ছনা? আমি বললাম, না স্যার আমি ঘুমাবো না। স্যার তখন মুচকি হেসে বললেন, শয়তান ঘুমায় না। কাজল ভাই বলেন যে আমি তড়িঘড়ি করে তখন শুয়ে পড়লাম।
৭৫. একবার স্যার বলেন, সাহাবীদের জামানায় যখন দুভিক্ষ ছিল, ঐ…
একবার স্যার বলেন, সাহাবীদের জামানায় যখন দুভিক্ষ ছিল, ঐ সময়কার সবচেয়ে ধনী সাহাবী যে ছিল, ঐ সাহাবীকে যদি বাংলাদেশে এনে এদেশের সবচেয়ে গরীব পরিবারে বসবাস করতে দেওয়া হয়, তো সে তো এই কথাই বলবে যে বড্ড বিলাসিতার মধ্যে আছি। যে দেশে এতো কলাগাছ পাওয়া যায়, এতো কচুগাছ পাওয়া যায়, সে দেশে আবার কিসের অভাব।
৭৬. আমরা অনেক সময় আলেম ওলামাদের নিকট যাকাতের মাসয়ালা, হজ্জ্বের…
আমরা অনেক সময় আলেম ওলামাদের নিকট যাকাতের মাসয়ালা, হজ্জ্বের মাসয়ালা জিজ্ঞেস করি। আমার যাকাতের পরিমান কতো হবে, হজ্জ্ব কিভাবে শুদ্ধ ও সুন্দর হবে ইত্যাদি হুজুরকে জিজ্ঞেস করি। স্যার বলেন, আমরা কি কখনো আলেম ওলামাদের খেদমতে গিয়ে এই মাসয়ালা জিজ্ঞেস করেছি যে আমি কি করলে আমার উপর হজ্জ্ব যাকাত ফরজই হবে না, কিভাবে আমার উপর যাকাত ফরজ না হয়, হজ্জ্ব ফরজ না হয়। আমার উপর হজ্জ্ব ফরজ হয়, যাকাত ফরজ হয়, আমি হজ্জ্ব করতে পারি, বারবার হজ্জ্ব ও ওমরা করতে পারি, অনেক অনেক যাকাত দিতে পারি, এই জজবা, এই নিয়্যত, এই প্রচেষ্ঠা তো আমি নিজেকে দ্বীনদার মনে করে করেই থাকি। কিন্তু আমার উপর হজ্জ্ব ফরজই না হয়, আমার উপর যাকাত ফরজই না হয়, এই নিয়্যত, এই প্রচেষ্ঠা, এরজন্য তদবীর কি আমি কখনো করেছি। মাল হলে তো হজ্জ্ব করবো, যাকাত দিবো, তা ঠিক আছে, কিন্তু দ্বীনদার হিসেবে এই জজবা কি আমার কখনো এসেছে যে আমার উপর হজ্জ্ব যাকাত ফরজই না হয়। অনেক মাল হলে অনেক যাকাত দিতে পারবো, অনেকের উপকার করতে পারবো, দান ছদকা করতে পারবো, অনেক অনেক হ্জ্ব করতে পারবো, বিদেশে চিল্লা দিতে পারবো, বারবার বিদেশ সফর করতে পারবো, অনেক অনেক নেক আমল করতে পারবো, এরকম জজবা নিয়ে চেষ্ঠা তদবীর হয়েই থাকে। কিন্তু মাল বাড়ানোর নিয়্যত না করে, মাল কমানোর জজবা নিয়ে, মাল কমানোর জন্য তদবীর কি আমাদের দ্বারা হয়।
৭৭. স্যার বলতেন, একই নদীতে মাছও থাকে, সাপও থাকে। একই…
স্যার বলতেন, একই নদীতে মাছও থাকে, সাপও থাকে। একই জায়গায় থেকে, একই ধরণের খাবার খেয়ে সাপ বিষ আহরণ করে, আর মাছ বড় হয় তার চর্বি হয় মানুষের জন্য খাওয়ার উপযোগী হয়। তেমনি একই ফুলে মৌমাছিও বসে আবার ভ্রমর ও বোলতা বসে। মৌমাছি আহরণ করে মধু আর ভ্রমর বা বোলতার পেটে গিয়ে তা হয় বিষ। একই জায়গা থেকে একজন মধু খোজে, আরেকজন নেয় বিষ। নির্ভর করে কার নিকট থেকে কে কি হাসিল করছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি পাশে না থাকতেন, আবুল হাকাম হয়তো আবু জেহেল হতো না, এতোবড় কাফের হতো না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে থেকে ওমর ইবনে খাত্তাব ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হয়েছেন আর এই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে থেকেই আবু জেহেল এতোবড় কাট্টা জাহেল হয়েছেন। মক্কার কাফেরদের কুফুরী, মদীনার মুনাফেকদের মুনাফেকি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে থেকেই বেড়েছে, আবার মুহাজের আনসাররা, তারাও আল্লার নবীর পাশে থেকেই আনসার মুহাজির হয়েছেন, আল্লাহ পাকের নিকট থেকে সুসংবাদ পেয়েছেন। এমন না হয় যে আমি বড় কোন আল্লাহওয়ালার কাছে গেলাম, সেটা আমার অহংকারের সামান হয়ে গেলো, আর সারা জীবন আমি সেটা নিয়ে অহংকার করবো, অথচ সেখান থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন ও অনেক ভালো জিনিষও হাসিল করতে পারতাম। হজরতজ্বীর খেদমত করে আমিকি আল্লাকে পাচ্ছি, নাকি অহংকারি হচ্ছি, একজন আল্লাহ ওয়ালার নিকটে থেকে, আল্লাহওয়ালার সাথে সফর ও সোহবত থেকে আমি অহংকার শিখছি, নাকি বিনয় শিখছি, সেটা নির্ভর করে নিজস্ব জজবা, নিজস্ব ব্যাক্তিসত্তার উপর, কি আহরণ করছি সেখান থেকে।
৭৮. শামস গ্রুপের মালিক ও চেয়ারমান শামসুল হক সাহেব, স্যারের…
শামস গ্রুপের মালিক ও চেয়ারমান শামসুল হক সাহেব, স্যারের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল, তিনদিন চিল্লার জন্য স্যার উনাকে তাশকিল করতেন, পরবর্তীতে উনি তিন চিল্লাও দিয়েছিলেন। চিল্লার সফরে একবার উনি গাইবান্ধায় এসেছিলেন। স্যার উনার জামাতের নুসরতে গাইবান্ধা মার্কাজে জামাতের খোঁজে গেলে সেখানকার এক সাথি স্যারকে জিজ্ঞেস করেন যে স্যার আপনি কি ওই ভি.আই.পি জামাতটার নুসরতে এসেছেন? স্যার উত্তর করলেন, আমি চিল্লার জামাতের নুসরতে এসেছি। ওই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করেন যে আপনি কি ওই ভি.আই.পি জামাতটার নুসরতে এসেছেন? স্যার আবারও বললেন, আমি চিল্লার জামাতের নুসরতে এসেছি। উনি বারবার একই কথা, ভি.আই.পি জামাতটার নুসরতে এসেছেন? স্যার এভাবে কয়েকবার একই উত্তর দেন যে আমি চিল্লার জামাতের নুসরতে এসেছি। এই প্রসঙ্গে স্যার একবার বলছিলেন ভি.আই.পি রাও যে চিল্লায় এসে সাধারন মুসলমান হতে পারে, সাধারন হবার চেষ্ঠা করতে পারে, মনে হয় এই ধারণাটাই অনেকের নাই বা ভুলে গেছেন।
৭৯. চট্রগ্রাম থেকে সফর শেষে জামাত ঢাকায় কাকরাইলে আসছিল, বৃহস্পতিবার…
চট্রগ্রাম থেকে সফর শেষে জামাত ঢাকায় কাকরাইলে আসছিল, বৃহস্পতিবার শবগুজারীর দিন ছিল। পথে মাহফুজ ভাই স্যারকে প্রস্তাব দেন, আজতো শবগুজারীর দিন, কাকরাইলে অনেক ভীড় হবে, শোবার জায়গা পাওয়া কঠিন হবে, পথে মাদানীনগরে রাতটা কাটিয়ে পরদিন সকালে কাকরাইলে যাওয়া যায় কিনা। হজরতের সাথে (সন্দীপের পীর সাহেব, হজরত মাওলানা ইদ্রীস সাহেব রহমতুল্লাহ) দেখাও হবে, রাতটাও কাটানো হবে। এই প্রস্তাবে স্যার খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন হজরতের কাছে যাওয়া কি এতো তুচ্ছ ব্যাপার, শোয়ার জায়গা পাওয়া যাবে না বলে রাত কাটানোর জন্য সেখানে যাওয়া, এটা হজরতের বেএহতারামি। বরং নিয়্যত করে, ইজ্জ্বতের সাথে, তার মহব্বতের সাথে, তার নিকট থেকে ফায়দা হাসিলের নিয়্যতে উনার কাছে আসা। আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে মোলাকাতের জন্য ইজ্জ্বত একরামের সাথে, দ্বীলে ক্বদর নিয়ে, নিয়্যত করে আসা চাই। সময় পেলাম তো দেখা করে নিলাম বা রাত কাটাতে এলাম দেখা করে নিলাম এরকম না হয়, আলাদা নিয়্যতের সাথে হওয়া দরকার।
৮০. মদীনা মুনাওয়ারার মসজিদে, নামাজের জন্য অপেক্ষায়, নামাজের তখনো অনেক…
মদীনা মুনাওয়ারার মসজিদে, নামাজের জন্য অপেক্ষায়, নামাজের তখনো অনেক দেরী আছে, অনেক আগেই মসজিদে আসা হয়েছে। মাহফুজ ভাই বলেন, আমি স্যারকে বললাম সময় যখন আছে তো জিয়ারত করে নেই। মাহফুজ ভাইয়ের এই প্রস্তাবে স্যার একটু রাগের সাথে বলেন, সময় যখন আছে, তাই জিয়ারত করা এটা বেএহতারামি হলো, ইজ্জ্বত হলো না, নিয়্যত করে, এখলাসের সাথে, মহব্বতের সাথে জিয়ারত করা। মাহফুজ ভাই বলেন, স্যারের কথায় আমি লজ্জ্বিত হয়ে চুপ হয়ে গেলাম, এভাবে জিয়ারতে যেতে চাওয়া ঠিক হয়নি বলে একটু অনুশোচনাও করেছি। কিছুক্ষণ পর স্যার বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল জিয়ারত করবো। মাহফুজ ভাই বলেন, এই ইনশাআল্লাহ আগামীকাল জিয়ারত করবো, এইটার জন্য হয়তো স্যার রাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন, নিয়্যত করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। দোয়া ফিকির কান্নাকাটি করে প্রস্তুতি নিয়েছেন পরদিন জিয়ারতে আসার আগে।
← আগের পর্ব (৪১–৬০) | সূচিপত্র | পরের পর্ব (৮১–১০০) →
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
