|

মালফুযাত – প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ) – পর্ব ৩: ৪১–৬০

প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর বয়ান, পরামর্শ, আমল ও দাওয়াতি জীবনের মালফুযাত, ৪১ থেকে ৬০ নম্বর। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।

সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।

এই পর্বে যা আছে


৪১. একবার এক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্যার বলেন, অযোগ্যদের…

একবার এক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্যার বলেন, অযোগ্যদের অস্ত্র হলো পাংচুয়ালিটি (সময়ানুবর্তীতা, নিয়মানুবর্তীতা ইত্যাদি)। ওরা পাংচুয়াল থেকে কাজ করতে চায়, জিসিয়াসরা পাংচুয়াল হতে পারে না। সাহাবায়ে কেরাম, তাদের কোনো রুটিন লাইফ ছিল না, কি করতেন আলী (রা:), তাদের ডেইলি লাইফ, রুটিন লাইফ বলা মুসকিল। ওমর (রা:) ডেইলি কি করতেন তার রুটিন পাওয়া মুসকিল। বিভিন্ন বয়ানে স্যারের একটা কমন উদাহরন ছিল, আল্লাহ তায়ালা যদি আসমানের তারা মানুষকে সাজাতে বলতো তো মানুষ সোজা লাইনে সাজাতো, সব একই রকম বাল্ব দিয়ে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আসমান সাজিয়েছেন তারকারাজী দিয়ে, কোনটা ছোট কোনটা বড়, কোনটা দূরে কোনটা কাছে, সব এলোপাথারী, এর মধ্যে সৌন্দর্য আছে। বন সুন্দর, সেখানে কোন রুটিন নাই, এলোপাথারী। মানুষের তৈরী রাস্তা সোজা হয়, কিন্তু মেঠোপথ নদী সব আকাঁবাকা হয়, বন জঙ্গলের গাছপালা, পাহার পর্বতের সারিবদ্ধতা, সমুদ্রের গভীরতা ইত্যাদির কোন নির্দিষ্ট মাপ, কোন নির্দিষ্ট রুটিন নাই।

৪২. ডাক্তার মোয়াজ্জেম ভাই, ডাক্তার জিয়া ভাই, ডাক্তার আফতাব ভাই…

ডাক্তার মোয়াজ্জেম ভাই, ডাক্তার জিয়া ভাই, ডাক্তার আফতাব ভাই উনারা তখন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র, সম্ভবত তখন শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। এস্তেমার ময়দানে তাদের জামাতের কাছে স্যারকে নিয়ে গিয়েছিলেন একটু কথাবার্তা বলার জন্য, তশকীল করার জন্য। স্যার ঐ মেডিকেলের ছাত্রদের মধ্যে, যেখানে আরো জুনিয়র সিনিয়র ছাত্ররা ছিল, স্যার বয়ান শুরু করলেন এই কথা দিয়ে যে পৃথিবীতে যতো পেশা আছে তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পেশা হলো ডাক্তারী পেশা। কারন মানুষের একটা অসহায়ত্বকে পুজিঁ করে তারা টাকা উপার্জন করে, একজন কাউকে কোন সুপরামর্শ দিয়ে টাকা দাবী করতে পারে না। এজন্য পেশা হিসাবে যদি দেখা হয়, সবচেয়ে জঘন্য পেশা হলো ডাক্তারী পেশা। আর এর রুহানী দিকটা আরো গভীর, ডাক্তাররা অবচেতনভাবে চায় মানুষ বেশী অসুস্থ হোক, তাহলে তার প্রফিট বাড়বে, এটা আরো মারাত্বক।

৪৩. অনেক সময় আমরা যে কোন একটা হক্ক কথা বলাকে…

অনেক সময় আমরা যে কোন একটা হক্ক কথা বলাকে ফেতনা মনে করি। হক্ক¦ কথাটা এই পরিস্থিতিতে বলে ফেললে এটা প্রতিক্রিয়া আসবে, মানুষের মধ্যে মনমালিণ্য সৃষ্টি হবে, আমার সাথে তার সম্পর্কটা খারাপ হয়ে যাবে, বা মেহনত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খারাপ হয়ে যাবে। এই কারণে আমরা অনেক সময় হক্ক¦ কথাটা না বলে বিষয়টা এড়িয়ে যাই, এবং আমরা হক্ক¦ কথাটা না বলার জন্য আমরা যুক্তি দেখাই যে এই কথাটা এখন বললে ফেতনা হবে। এপ্রসঙ্গে স্যারের কথা শুনেছি এটাতো আসলে ফেতনা না, ফেতনা হলো এমন একটা অবস্থা যে অবস্থায় মানুষ কোন বিষয়ে চুপ থাকা দরকার আর কোন বিষয়ে কথা বলা দরকার, কোনটা গ্রহণীয় কোনটা বর্জনীয়, কোনটা হক্ক¦ কোনটা বাতিল এর মধ্যে তফাৎ করতে পারবে না। অর্থ্যাৎ ফেতনা হলো ঐ অবস্থা যেঅবস্থায় মানুষ হক্ক¦ বাতিলের পার্থক্য বুঝবে না।

৪৪. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের একই রুমে কাজল ভাই এবং…

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের একই রুমে কাজল ভাই এবং স্যার একটা দীর্ঘ সময় থেকেছেন। কাজল ভাই বলেন, ঐসময় নামাজের জন্য বেশীরভাগ সময় নিকটবর্তী কাজলা গেট মসজিদে যাওয়া হতো, টিন শেডের ছোট মসজিদ ছিল। আমি প্রায় সময়ই মসজিদে ঢোকার সময় ডান হাতে সেন্ডেল নিয়ে ঢুকতাম, ভেতরে রাখতাম। স্যার সেটা হয়তো অনেকবার লক্ষ্য করেছেন, কিন্তু স্যার আমাকে তাৎক্ষণিক কিছু বলেননি। এর দীর্ঘদিন পরে, প্রায় মাস দুয়েক পরে একদিন সাহেব বাজার থেকে এক রিক্সায় স্যারের সাথে আসছিলাম। রিক্সায় চড়ে স্যার কথা শুরু করলেন, কথা এভাবে শুরু করলেন যে একজন সাহাবী মসজিদে ঢুকলে রসূল (সা:) উপস্থিত সাহাবীদের বললেন, তোমরা কি জান্নাতী লোককে দেখতে চাও? কিছু সাহাবী বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ আমরা দেখতে চাই। তো রসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, ঐব্যাক্তিকে দেখো যার বাম হাতে সেন্ডেল আর দাড়ি থেকে টপ টপ করে ওজুর পানি ঝড়ছে। কাজল ভাই বলেন, আমি তখন বুঝতে পারলাম যে এখন স্যারের এই কথার মানে কি, আমি বাম হাতে সেন্ডেল নিতাম না আর ডান হাতে সেন্ডেল নিয়ে মসজিদে ঢুকতাম। কিন্তু এটা স্যার দেখে আসছেন দুই মাস আগে থেকে, আমার সংশোধন হিসাবে স্যার এই কথা এতোদিন পড়ে বলছেন। এবিষয়ে স্যার যে হেকমত অবলম্বন করলেন, যে আমার একটা সংশোধন দরকার ছিল, একটা আমল সুন্দরভাবে হওয়া দরকার, সেব্যাপারে স্যার তাৎক্ষণিক বলেননি, দুইমাস পড়ে বললেন আর একটা ঘটনা দিয়ে এই কথা বুঝালেন যা থেকে আমি বুঝে নিলাম যে আমি যে কাজটা করি সে কাজটা শুদ্ধ ছিল না, সেটা ভূল ছিল।

৪৫. জুবেরী ভবন থেকে বের হয়ে মসজিদে যাবার পথে একটা…

জুবেরী ভবন থেকে বের হয়ে মসজিদে যাবার পথে একটা ড্রেনের মতো ছিল। সরু রাস্তায় ঐ ড্রেনটা পার হয়ে মসজিদে যেতে হতো। কাজল ভাই বলেন, একবার আমরা একসাথে বের হয়ে আমি ডান দিকে এবং স্যার বাম দিকে একসাথে হাঁটছিলাম। সাধারণত আমরা যেটা বুঝে থাকি যে বয়োজোষ্ঠ বা বয়স্ক থাকলে তাকে আগে পার হতে দেই। আমি স্যারের ডান দিকে, আর স্যার বাম দিকে ছিলেন। সরু পথে একটু বড় কদমে ঝাপ দিয়ে ড্রেনটা পাড় হতে হবে। আমি স্যারকে বললাম যে স্যার আপনি আগে পাড় হন। তখন স্যার বললেন, না, যে ডানে থাকে তারই হক্ক বেশী থাকে। তুমি আগে পার হও, তারপরে আমি পার হচ্ছি। কাজল ভাই বলেন, এতো ছোট ব্যাপারও যে একটা দ্বীনি ব্যাপার হতে পারে, আর একসাথে চলতে গেলে যে ডান বামের ও একটা আমল আছে, সেটা স্যারের কাছ থেকে তখন আমি শিখলাম।

৪৬. কথা প্রসঙ্গে স্যার একবার বলছিলেন, তিন ভাই, দুই ভাই…

কথা প্রসঙ্গে স্যার একবার বলছিলেন, তিন ভাই, দুই ভাই শহরে থাকেন আর ছোট ভাই গ্রামে থাকেন। ঐ তিন ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি বন্টন হবে বাড়ীতে। পড়ের দিন বাড়ীতে আসবেন শহরের ঐ দুই ভাই। এক ভাই সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়লেন, আল্লার কাছে কান্নাকাটি করলেন, তেলাওয়াত করলেন, দোয়া খায়ের করলেন যে আয় আল্লাহ, সম্পত্তি বন্টনের ব্যাপারে কাল যাবো, আমি যেনো আমার ভাগটা ঠিক মতো পাই, বাপের জমি ভিটার ভাগ, আমি যেনো না ঠকি, গ্রামের সালিশ মোকদ্দমার ব্যাপার, আমার পৈত্রিক নেক হালাল অংশ আমি যেনো বের করতে পারি, আমি যেনো তা সুন্দরভাবে বুঝে পাই, সারা রাত নামাজ এবাদতের মধ্যে ও দোয়ার মধ্যে কাটালেন। তার নিয়্যত আমি আমার পাওনার অংশটা বুঝে নেবো, পৈত্রিক ভিটা পরিচয়টা থাকবে। শস্য আবাদ বা সেখান থেকে হয়তো কিছু আয় উপার্জন হবে, সেই আয় থেকে কিছু দান ছদকাও করবো। কিন্তু আরেক ভাই, তার নিয়্যত অন্য রকম। সে সারারাত ঘুমালো, বন্টন পাওনা ইত্যাদির ব্যাপারে তার অতো টেনশন নাই, তাহাজ্জুদ কান্নাকাটি কোনটাই করলো না, ঘুমিয়েই রাত পার করলো। তার নিয়্যত যে আমি কালকে বাড়ীতে যাবো, বাড়ীতে যেয়ে আমার সম্পূর্ণ অংশ আমি ছোট ভাইকে দলিল করে দিয়ে আসবো। মৌখিক না, মৌখিক দিলে হয়তো তার মনের মধ্যে একটা সংকোচ থাকবে, সম্পূর্ন তাকে দলিল করে দিয়ে আসবো। এই ভাই যে দলিল করে দিয়ে আসতে চাচ্ছে, সে সারা রাত ঘুমালো। এই ভাইয়ের সারারাত ঘুম আর আরেক ভাইয়ের সারারাত নামাজ এবাদত, স্যার জিজ্ঞেস করলেন, এই দুইজনের মধ্যে আল্লার কাছে মাহবুব কে, কে আল্লাহ পাকের কাছে বেশী প্রিয় হবে, ঐ তাহাজ্জুদগুজার নাকি ঐ ঘুম পাড়নেওয়ালা? স্যার বললেন, আমাদের কথা হলো এই ঘুমপারনেওয়ালাই আল্লাহর কাছে বেশী প্রিয় হবে, আল্লার বেশী নৈকট্য সে পাবে, এরদ্বারা সে আল্লাহকে আরো বেশী রাজী করতে পারবে।

৪৭. কাজল ভাই বলেন, একদিন রিক্সা থেকে নেমে আমি রিক্সাওয়ালাকে…

কাজল ভাই বলেন, একদিন রিক্সা থেকে নেমে আমি রিক্সাওয়ালাকে ভূল করে ১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা দিয়ে বলি নেন। তখন আমার আবার মনে পড়লে, আমি বলি ভাড়াতো ১৫ টাকা, ৫ টাকা দেন। তখন স্যার বললেন যেহেতু তুমি বলেছো নেন, অতএব এই টাকা তার হয়ে গেছে, এখন এটা আর তোমার টাকা না, এখন তুমি আর ৫ টাকা পাবে না। কাজল ভাই বলেন, এতো ছোট ব্যাপারও যে একটা শেখার ব্যাপার ছিল, এটাও যে একটা দ্বীনি ব্যাপার, লেনদেনের ব্যাপার সেটা এর পূর্বে আমার মাথায় ছিলো না।

৪৮. একবার স্যার বলেন, দুনিয়ার সব কাজ চলে দুইটা জিনিষের…

একবার স্যার বলেন, দুনিয়ার সব কাজ চলে দুইটা জিনিষের দ্বারা, ‘জোর’ আর ‘জুরি’। আর দ্বীনের মেহনত চলে ‘জারি’ তে। জোর হলো শক্তি, ক্ষমতা, যোগ্যতা ইত্যাদি, আর জুরি হলো সোনাদানা, টাকাপয়সা, সম্পদ ইত্যাদি। দ্বীনের কাম শক্তি, ক্ষমতা আর সম্পদের দ্বারা চলে না, দ্বীনের কাম চলে কান্নাকাটি আর দোয়ার দ্বারা।

৪৯. বিভিন্ন সময় মোজাকারায় স্যারের কাছে শুনেছি, সময়ের ব্যবহারের দিক…

বিভিন্ন সময় মোজাকারায় স্যারের কাছে শুনেছি, সময়ের ব্যবহারের দিক থেকে তাবলীগের কাজ দুই ধরণের। এক ধরণের তাবলীগওয়ালার সম্পর্ক থাকে সাধারণ মানুষের সাথে ও সাধারণ দাওয়াত তালিমের কাজের সাথে, আরেক ধরনের তাবলীগওয়ালার সম্পর্ক থাকে প্রশাসনিক কাজের সাথে। স্যার উদাহরণ দিতেন, ডাক্তারদের মধ্যে দুই ধরণ আছে, কিছু ডাক্তার রুগী দেখেন আর কিছু ডাক্তার প্রশাসক হিসাবে কাজ করেন। যেমন সিভিল সার্জন পদটা রুগী দেখার জন্য না, প্রশাসক পদ, ডাক্তারদের ব্যবস্থাপনায় সে থাকে। মূল ডাক্তার যারা, যারা রুগী দেখে, যতদিন যায় তারা ডাক্তারি বিদ্যায় পারদর্শী হতে থাকে, আর যারা সিভিল সার্জন বা এধরনের প্রশাসন লেভেলে চাকরী করে তারা ডাক্তারী বিদ্যা ভূলতে থাকে আর ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী হতে থাকে। এমন অনেক প্রশাসক ডাক্তার আছেন যারা বছর চলে যায় কিন্তু একজন রোগীও দেখেননা, অথচ তারা খুব ব্যাস্তও থাকেন রোগী ও ডাক্তারদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। বডি শো, মাশোয়ারায় নিজের ভুমিকার নিশ্চিত করা, জোড়, পরিসংখ্যান কালেকশান ইত্যাদির নামে অতো বেশী সময় দেয় না কিন্তু মূল দাওয়াতের কামের সাথে সময় দেয়, মূল তাবলীগে, গাসত তালীমে বেশী বেশী সময় দেয়, তাদের ভেতরে তাবলীগের ছিফতগুলো বাড়তে থাকে, আল্লার মহব্বত, সাধারণ মানুষের মহব্বত, দ্বীনের প্রতি মহব্বত বাড়তে থাকে, আল্লার ভয় বাড়তে থাকে, আল্লার কাছে নিজেকে কবুল করানোর জজবা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে যারা বেশী বেশী তবলীগের প্রশাসনিক কাজ করতে থাকে, মূল কাজ ছেড়ে বেশী দিন তাবলীগের ব্যবস্থামূলককাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখে তাদের মধ্যে তাবলীদের একটা সর্দারী মাতব্বরী চলে আসে, নিজে অনেক বড় কিছু করছে ভাবতে শুরু করে, দ্বীনি ছিফতের পরিবর্তে তার মধ্যে মাতব্বরীর ছিফত আসতে থাকে। এখন আমরা কোনটা চাই? আমি কি তাবলীগের সর্দার হতে চাই নাকি সাধারণ মুসলমান হিসাবে, গাসত তালিত ও মূল তাবলীগের কাজের সাথে নিজেকে ব্যাস্ত রেখে আল্লার সাথে সম্পর্ক বাড়াতে চাই? আমাদের এসলাহটা এই জায়গাতে দরকার, আমাদের দ্বীলটা পাক হয়, মাতব্বরীর জজবা দ্বীলে না থাকে, তাবলীগের মূল কাজগুলো, দাওয়াত, তালিম, এবাদত, খেদমত, জিকির ইত্যাদি খুব গুরুত্বের সাথে করবো, প্রশাসনিক কাজে কমই থাকলাম তাতে অসুবিধা কি, কোনভাবে দ্বীলে না চেয়ে কোন প্রশাসনিক কাজ চলে এসেছে, তা তো ফেলে দেওয়ার না কিন্তু তাবলীগের মূল কাজগুলো ভূলে গিয়ে দিনের পর দিন তাবলীগের ব্যবস্থাপনায় নিজেকে জড়িত রাখা বেশীরভাগ সময় আমাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট করে অন্যদিকে নিয়ে যায়।

৫০. একবার স্যার বলছিলেন, ডাস্টবিনে ময়লা পরে আছে, আর একজন…

একবার স্যার বলছিলেন, ডাস্টবিনে ময়লা পরে আছে, আর একজন গরীব লোক সেই ময়লা খাচ্ছে। তখন লোকটার এ অবস্থা দেখে আফসোস লাগে, হায়রে বেচারা গরীব অসহায়, এই ডাস্টবিনের ময়লা তুলে খাচ্ছে। আরেকজন ঘুষ খাচ্ছে, তার এই ঘুষ খাওয়া দেখে তার প্রতি রাগ হয়, এই ঘুষখোরের প্রতি ঐরকম আফসোস লাগে না। তার প্রতি রাগ হয়, এই ব্যাটা ঘুষ খাচ্ছে, খারাপ লোক, জুলুম করছে ইত্যাদি। এর প্রতি আফসোস না হয়ে রাগ হয় কেন, কারণ হলো ঐটার প্রতি আমারও ঝোক আছে, আমি পারছি না আর সে পারছে। কেন রাগ হলো? ঐ যে ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে, সে তো ওই ঘুষখোরের চেয়ে ভালো আবস্থায় আছে, যে ঘুষ খাচ্ছে সে তো জাহান্নামের আগুন খাচ্ছে, যে ময়লা খাচ্ছে সে তো জাহান্নামের আগুন খাচ্ছে না। এর প্রতি মায়া লাগলো আর যে ঘুষ খাচ্ছে তার প্রতি রাগ লাগলো কেন, ময়লাখানেওয়ালার প্রতি রাগ হলো না? স্যার বলেন, একজনের তাবলীগ চালানো, মেম্বারের সামনে বডি শো করা, মাশোয়ারা নিজের আয়ত্বে নেয়া, মুরব্বীগিরী, তাবলীগের কাজে নিজের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি দেখে তার প্রতি রাগ আসলো কিন্তু তার প্রতি মায়া আসলো না, আমার চোখে পানি আসলো না কেন? মানে আমারও মনে চায় আমি একটু বড় হই, লোকজন আমাকে চিনুক, আমি একটু মাতব্বর হই, কিন্তু হতে পারছি না বলে আমার রাগ। তার এই হালতে তার প্রতি মায়া থেকে আমার চোখে পানি আসে না। অন্যের সামনে বড় হই তা আমিও চাই, কিন্তু আমি পারছি না যার কারনে তার প্রতি রাগ আসে। মন্ত্রী তো আমিও হতে চাই, আমি তো নিজেকে মন্ত্রী হওয়ার প্যানেলের একজন মনে করতাম কিন্তু আমি হতে পারি নাই, তো যে মন্ত্রী হয়েছে তার প্রতি তো রাগ হবেই। মন্ত্রীর দুষ্কর্মে তার প্রতি মায়া আসবে না, রাগ আসবে মন্ত্রীর কাজে, কারণ আমার তো ঐ একই জজবা।

৫১. এক মোজাকারায় স্যার বলছিলেন, ওরা বলে মুসফিক খারাপ, মুসফিক…

এক মোজাকারায় স্যার বলছিলেন, ওরা বলে মুসফিক খারাপ, মুসফিক খারাপ, মুসফিক খারাপ, আর তুমি বললে মুসফিক ভালো, মুসফিক ভালো, মুসফিক ভালো, তাদের এই খারাপ বলার দ্বারা খারাপ কি হলো আর তোমার এই ভালো বলার দ্বারা তোমার নিজের ভালো কি হলো? এই ভালো ভালো ভালো জিকির করার দ্বারা তোমার লাভ কি হবে যদি নিজের করনীয় কাজ না করো?

৫২. আব্দুল ওয়াহাব ভাইয়ের কথা উল্লেখ করে স্যার একবার বলছিলেন…

আব্দুল ওয়াহাব ভাইয়ের কথা উল্লেখ করে স্যার একবার বলছিলেন, আমরা সোহবত থেকে উপকৃত হওয়ার যোগ্য নই। সোহবতের যে একটা সাধারন ব্যাখ্যা আমরা বুঝি যে কারো কাছে পড়ে থাকা বা কারো বুজুর্গী বা কারো ফয়েজে চলা, স্যার এটা একটু ভিন্নভাবে দেখতেন। কারো কাছে পড়ে থাকার অর্থ হলো তার সোহবতের দ্বারা আমল করা বা তার আদেশ প্রতিপালন করা। কার্যত তার আদেশকে বাস্তবায়ন করা, তার আদেশ প্রতিপালন করাটাই হলো সোহবত। তার আদেশ মানলাম না, কাছে থাকলাম, এইটা সোহবত না। সোহবতের মানে এটা না যে তার ফয়েজ বরকতে আমি চলবো, মানে গাড়ী আরেকজন চালাচ্ছে আর আমি সেই গাড়ীতে পার হয়ে যাবো, ব্যাপারটা এরকম না। বা তার গাড়ীর পেছনে ফুটো করে তার পেট্রোল চুরি করে নিলাম আমার গাড়ীতে ভরবো বলে, এইটাও সোহবত না, সোহবত হলো তার আদেশের কার্যকরী প্রতিপালন ।

৫৩. নিজের ব্যাপারে বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন, আমার গোসল…

নিজের ব্যাপারে বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন, আমার গোসল প্রীতি নাই আর সফর ভীতি নাই। আমরা যে নিয়মিত গোসল করি, দৈনিক গোসল করতেই হবে, এটা স্যারের অভ্যাসের মধ্যে ছিল না। আর সফরের ব্যাপারে স্যারের কোন ক্লান্তি ছিল না। দিন রাত, সকাল দুপুর, শীত গরম বর্ষা, মাসের পর মাস সফর করতেন। সফরে স্যার ক্লান্ত হতেন না।

৫৪. স্যারকে একপায়ে ভর দিয়ে দাড়াঁনো, বা কোন কিছুর সাথে…

স্যারকে একপায়ে ভর দিয়ে দাড়াঁনো, বা কোন কিছুর সাথে হেলান দিয়ে দাড়াঁনো আবস্থায় দেখেছি বলে মনে পড়ে না। বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য়, ৩য় বা ৪র্থ বিজ্ঞান ভবনে সিড়িঁ বেয়ে উপরে উঠার সময়ে বা সফরে বা গাসতে স্যারকে কখনোই সিড়িঁর রেলিং ধরে উপরে উঠতে দেখি নাই। সিড়িঁর মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠতেন। উপরে উঠতে পারাপারি করতেন না, এবং সিড়িঁর ধাপ ছোট হলেও একসাথে দুইধাপ উঠতেন না, সিড়িঁ বেয়ে নামার সময়ও তাড়াহুড়া করতেন না, ধীরে ধীরে এক ধাপ এক ধাপ করে নামতেন। লিফটে উপরে উঠার সময়ও স্যারকে লিফটের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়াঁতে দেখি নাই। বাসে ট্রেনে প্লেনে সফরে চলন্ত অবস্থায় স্যার এতো জোরে কথা বলতেন না যে সামনের বা পেছনের যাত্রীরা শুনতে পায়। গাড়ীতে বা লিফটে অনেকের মধ্যে স্যার নিজের সাথীর সাথে বা পরিচিত জনের সাথে নিজেও জোরে কথা বলতেন না, অন্য কারো জোরে জোরে ব্যাক্তিগত কথা বলাও পছন্দ করতেন না।

৫৫. ফেনীতে চিল্লার জামাতে, ২০০১ সালে, সেখানকার মুরব্বী সূফী আব্দুল…

ফেনীতে চিল্লার জামাতে, ২০০১ সালে, সেখানকার মুরব্বী সূফী আব্দুল গণী সাহেব ৫০০ টাকা দিয়েছেন, জামাতের মেহমানদারীর জন্য। আমীর সাহেব ইতস্থত করছে যে মাশোয়ারা করে নিবো। এই কথাতে স্যার মারাত্মক মন খারাপ করে বললেন, এটা চরম বেয়াদবী, উনি আমাদের সবার মুরব্বী, উনার এই ৫০০ টাকা দেওয়া এটা উনার আদেশ সমতূল্য। স্যার নিজে দুই হাত পেতে খুব সম্মানের সাথে মহব্বতের সাথে সেই টাকা নিলেন আর বললেন, আপনার আদেশ হিসাবে আমরা এটা গ্রহন করলাম। আর সেই টাকা দিয়ে জামাতের মেহমানদারী করা হলো।

৫৬. খুলনার হাফেজ মামুন ভাই বলেন, স্যারকে প্রথম আমি যখন…

খুলনার হাফেজ মামুন ভাই বলেন, স্যারকে প্রথম আমি যখন দেখেছি আমি তখন হেফজ পড়ি। ঐ সময় আমি কতবড়, নাইন পাস করে হিফজ খানায় ভর্ত্তি হয়েছি। ঐ সময় স্যারের সাথে আমার প্রথম পরিচয়ে স্যার আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয়েছিল যে উনি আমার ছাত্র আর আমি তার উস্তাদ। এই ধরনের আচরণ আমি আর কারো কাছে পাই নাই। স্যারের প্রচন্ড জ্বর ছিল, বনানীর এক মসজিদে জামাতে ছিলেন, স্যার শুয়ে ছিলেন, আমি গিয়ে স্যারের কাছে বসেছি, স্যার শুয়ে থেকে আমার সাথে কথা বলতে পারতেন কিন্তু উনি উঠে বসলেন, পাগড়ী মাথায় দিলেন, আমার সাথে কথা বললেন। মুসাফা করেননি আমার সাথে ঐদিন, হাত পেছনে ঠেক দিয়ে বসেছিলেন, আচরনের দ্বারা স্যার আমাকে বুঝতে দেন নাই যে স্যারের জ্বর। আমার কথা শেষে স্যার আমাকে বললেন, আমার খুব জ্বর জ্বর লাগছে, আমি কি একটু শোবো? তারপর পাগড়ী খুললেন মাথা থেকে, তার আগ পর্যন্ত পাগড়ীও খুলেননি মাথা থেকে। বয়সের দিক থেকে হোক, যোগ্যতার দিক থেকে হোক, পড়ালেখার দিক থেকে হোক, মর্যাদার দিক থেকে হোক, কোন দিক থেকেই আমি নিজেকে স্যারের ধারে কাছের কল্পনাও করতে পারি না, এভাবে একজন মানুষকে সম্মান করা আমি আর কাউকে কখনো দেখেনি।

৫৭. একবার স্যার বলেন, দ্বীনের যে মেহনতই করি না কেনো…

একবার স্যার বলেন, দ্বীনের যে মেহনতই করি না কেনো যদি তার দ্বারা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি পয়দা না হয় আর আখেরাতের প্রতি আসক্তি না বাড়তে থাকে তো আমি ভুল পথে আছি, বা আমার দ্বারা দ্বীনের মেহনত ঠিক হচ্ছে না। অথবা আমি যাকে অনুসরণ করছি বা যাদেরকে সামনে রেখে চলছি তারা ঠিক পথে নাই। দ্বীনের মেহনতের বৈশিষ্ট্য হলো দুনিয়ার প্রতি একটা তাচ্ছিল্য নিয়ে আসবে, যদি এটা না আসে তাহলে দ্বীনের নামে যে মেহনত আমি করছি সেটা হাক্বীকতের দ্বীনের মেহনত না, অন্য কিছু মিশ্রিত হয়ে গেছে। মেহনতের নামে আমি যে পথে চলছি, সেটা ভুল পথ অথবা আমি যাকে অনুসরণ করছি তিনি ভুল পথের পথিক। আব্দুর রহমান (রাঃ) তাবেয়ীদেরকে বলছেন, তোমরা সাহাবীদের থেকে আমল বেশী করো, কিন্তু তারা তোমাদের থেকে উত্তম ছিলেন। তখন এক তাবেয়ী বলেন, যদি আমরা আমলই বেশী করি তাহলে তারা আমাদের থেকে কেমন করে ভালো ছিলেন? তখন উনি বলেন সাহাবারা তোমাদের থেকে অনেক বেশী দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং আখেরাতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।

৫৮. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন বিভাগ ভিত্তিক ভর্ত্তি পরীক্ষা হতো। কাজল…

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন বিভাগ ভিত্তিক ভর্ত্তি পরীক্ষা হতো। কাজল ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার পরে তখন এই ভর্ত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। যোগদানের পরে আল্লার রাস্তায় সফর করার নিয়্যত ছিলো। ভর্ত্তি পরীক্ষার এই সুযোগে বিভাগের সিনিয়র প্রফেসরের সাথে ছুটির ব্যাপারে পরামর্শ করছিলেন। লম্বা সময়ব্যাপী ভর্ত্তি পরীক্ষা, তার সাথে যদি কিছু অর্জিত ছুটি নেয়া যায় তাহলে পুরা চিল্লার সফর হতে পারে। তো সিনিয়র ঐ প্রফেসর পরামর্শ দিলেন যে তুমি কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলে, এখন টাকা পয়সারও দরকার, এই মুহুর্তে ছুটি না নিয়ে ভর্ত্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করলে বড় একটা টাকা পাওয়া যাবে, তুমি এই মুহুর্তে ছুটি না নিয়ে বরং গ্রীষ্মের ছুটিতে চিল্লায় যেয়ো। কাজল ভাই উনার সিনিয়রের পরামর্শ স্যারকে জানালে স্যার বিস্তারিত কথা শুনে বললেন, আমাদের নফস এটা চায়না যে উপার্জনকে আমরা কম করে দিবো, বরং নফসতো এটা চায় যে উপার্জন বেশী করবো আর দান ছদকা করবো, অসুবিধা কি। এব্যাপারে একটু বিস্তারিত বলতে গিয়ে স্যার বললেন, মনে করা যাক কেউ প্রমোশন পেতো কিন্তু প্রমোশন নিলো না, বা বর্তমান ব্যবসার পাশাপাশি আরেকটা ব্যবসা শুরু করতে পারতো কিন্তু করলো না, ইচ্ছাকৃতভাবেই উপার্জনকে কম করে দিলো, এটা দান ছদকা করার চেয়ে আ’লা দরজার। আর এটা নফস চায় না, নফসতো দান ছদকা করা, ভাল কাজে পয়সা খরচ করা ইত্যাদির কথা মনে জাগিয়ে উপার্জন বেশী করার দিকেই মনোযোগ ফেরাতে চায়।

৫৯. কাজল ভাই বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার শুরুর দিকে একটা…

কাজল ভাই বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার শুরুর দিকে একটা বড় সময় স্যারের সাথে জুবেরী ভবনে একরুমে থেকেছি। আবার এরপর কাজলায়ও লম্বা সময় স্যারের সাথে একত্রে থাকার সুযোগ হয়েছে। খুব কাছে থেকে স্যারকে দেখতে পেরেছি, স্যারের জীবনে স্যারের কথার বাস্তবায়ন থাকতো। যেহেতু আমি তখন একা আর স্যারের সাথে থাকি, স্যারকে কেউ দাওয়াত করলে স্যার বলতেন আমার সাথে কাজলও আছে, সেই সুবাদে স্যারের সাথে অনেক জায়গায় যাবার সুযোগ হয়েছিলো। এরকম এক দাওয়াতে আব্দুস সোবহান স্যার (তখনকার সিন্ডিকেট মেম্বার) এর বাসায় গেলে দেখি সেখানে ওসমান গনী স্যারও আছেন। খানা শুরুর আগেই স্যারকে ওসমান গনী স্যার বললেন, আজকে আমরা কেনো আপনাকে দাওয়াত করেছি জানেন স্যার? স্যার হেসে বললেন কেনো, খাওয়ার জন্য দাওয়াত করেছো। উনি বললেন না স্যার, আজকে খাবার আগে একটা শর্ত আছে। আপনার অবসর গ্রহনের প্রায় সময় হয়ে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তো সহকারী অধ্যাপক হিসাবেই আপনি চাকরী জীবন শেষ করলেন, আজকে আমাদের একটা কথা দিতে হবে যে আপনি সহযোগী অধ্যাপকের জন্য আবেদন করবেন। আব্দুস সোবহান স্যার, ওসমান গনী স্যার উনারা দুজনেই স্যারের ছাত্র, উনারা অনেক আগেই পূর্ণ অধ্যাপক হয়ে গেছেন, অথচ স্যার তখনও সহকারী অধ্যাপক। কাজল ভাই বলেন, আমার চাকরীর কেবল তিন বছর, আমিও তখন সহকারী অধ্যাপক, অথচ স্যারের চাকরীর শেষ প্রান্তে এসেও স্যার সহকারী অধ্যাপকই রয়ে গেছেন, নিজে থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য কখনো আবেদন করেননি। আব্দুস সোবহান স্যার তখন স্যারকে বললেন, দরখাস্ত আমরাই করবো, ফর্মগুলো আমরাই পূরণ করবো, শুধু আপনার কিছু কাগজপত্র লাগবে, আপনি সেগুলো দিবেন আর স্বাক্ষর করবেন। স্যার মুচকী হেসে বললেন ঐসব কাগজগত্র আমার কোথায় আছে আর কোথায় খুজঁবো। উনারা নাছোর বান্দা হয়ে বললেন, না স্যার আমাদের কথা দিতে হবে, আপনি সেগুলো দিবেন আর স্বাক্ষর করবেন। কাজল ভাই বলেন, আব্দুস সোবহান স্যার ও ওসমান গনী স্যার সব ব্যাবস্থা করেন, এবং স্যার স্বাক্ষর দেন ঠিকই, কিন্তু এটা আব্দুস সোবহান স্যার ও ওসমান গনী স্যাররাই করান, এটা ছিলো স্যারের অবসরের বছর খানেক আগের কথা। আর যেদিন সহযোগী অধ্যাপকের জন্য স্যারের আবেদন বিভাগীয় সুপারিশের জন্য স্যারের ডিপার্টমেন্টে যায়, ডিপার্টমেন্টের তখনকার সিনিয়র অধ্যাপক অরুন কুমার বসাক বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টের জন্য আজকে খুব ভাল একটা খবর যে ডিপার্টমেন্ট মুসফিক আহমাদকে প্রমোশন দিতে পারলো। স্যার অনেক আগেই ফুল প্রফেসর হতে পারতেন, স্যারের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরী জীবনের একেবারে শেষ সময়ে, একটু আবেদন করলেই প্রমোশন হয়, প্রতি মাসে বেতন অনেক বেশী পেতে পারতেন, চাকরী শেষে অবসরের সময়ও বেশী আর্থিক সুবিধা পেতে পারতেন, কিন্তু স্যার নিজে থেকে সেটা করেননি। এব্যাপারে কাজল ভাই বলেন, স্যারের জীবন স্যারের ঐ কথার বাস্তব উদাহরণ যে, দান ছদকার চেয়ে আ’লা দরজা হলো উপার্জনকে কম করে দেওয়া।

৬০. বাঘার শহীদুল ইসলাম ভাই বলেন আমি একবার স্যারকে জিজ্ঞেস…

বাঘার শহীদুল ইসলাম ভাই বলেন আমি একবার স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, এখন আমরা ব্যাক্তিগত ও বিভিন্ন ব্যাপারে আপনার সাথে পরামর্শ করি, আপনার সাথে থাকি, আপনি যদি আমার আগে চলে যান তাহলে কার সাথে থাকবো, কার সাথে চলবো? সংক্ষিপ্ত উত্তরে বললেন ‘জামাতের সাথে’। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, কোন জামাতের সাথে? স্যার এবারও একটা শব্দ বললেন, “জিকির”। এর বিস্তারিত আমি ঐ সময় স্যারকে কিছু জিজ্ঞাসা করি নাই, আর স্যারও এব্যাপারে এতটুকুই বলেছেন, বিস্তারিত কিছু বলেন নাই।


← আগের পর্ব (২১–৪০)  |  সূচিপত্র  |  পরের পর্ব (৬১–৮০) →

সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *