মালফুযাত – প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ) – পর্ব ৬: ১০১–১২০
প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর বয়ান, পরামর্শ, আমল ও দাওয়াতি জীবনের মালফুযাত, ১০১ থেকে ১২০ নম্বর। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
এই পর্বে যা আছে
- ১০১. ওমরার সফরে মক্কা শরীফে এক আরব শেখ স্যারকে রাতে…
- ১০২. স্যার একবার বলেন, যদি কেউ বলে, এককথায় ইসলাম কি…
- ১০৩. স্যারের সরাসরি ছাত্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র…
- ১০৪. এক বয়ানে স্যার বলেন, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার মানুষকে ডাকেন…
- ১০৫. ১০৫। একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, একজন মেহমান…
- ১০৬. আমাদের এক ভাই (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) ঢাকায় আরেক ঘনিষ্ঠ…
- ১০৭. এক বয়ানে স্যার বলছিলেন, মানুষের প্রধান পরিচয় হলো সে…
- ১০৮. একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, বিবিরা (বউ) ভেতর…
- ১০৯. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামাল স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের…
- ১১০. সায়ীদ আবুবকর ভাই একদিন স্যারকে জিজ্ঞেস করেন (১৯৯৬/৯৭), স্যার…
- ১১১. এক মোজাকারায় স্যার বলেন দ্বীনি মতামতের ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান…
- ১১২. একবার স্যার বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তম মেহমানদারী হলো…
- ১১৩. একবার এক ভাই তার বিবির কথা উল্লেখ করে স্যারকে…
- ১১৪. আমাদের এক সাথী তার এক আত্মীয়ের কথা স্যারকে বলছিলেন…
- ১১৫. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, সময় উপার্জন করার জিনিষ, সময়…
- ১১৬. ভাই আমানুল্লাহ বলেন, একবার স্যারের সাথে আমরা ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)…
- ১১৭. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, এবং…
- ১১৮. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, চোখের উপর যেমন শরীয়তের আহকাম…
- ১১৯. এক ভাইয়ের হতাশামূলক কিছু কথার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কিছু তরগীবি…
- ১২০. স্যারের একটা পারিবারিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন…
১০১. ওমরার সফরে মক্কা শরীফে এক আরব শেখ স্যারকে রাতে…
ওমরার সফরে মক্কা শরীফে এক আরব শেখ স্যারকে রাতে খাবার দাওয়াত দেন। মেজবানের দাওয়াত ও গাড়ীতে যাবার সুবিধা থাকায় স্যার সহ চারজন ঐ আরব শেখের দাওয়াতে শরীক হয়। খানা শেষে ফেরার সময় ঐ আরব শেখ (মেজবান) স্যারকে একটা প্যাকেটের মধ্যে করে হাদীয়া দেন। স্যার নিয়ে ঐ প্যাকেটটি এক সাথীর হাতে দেন, পরে ফিরে ঐ হাদীয়ার প্যাকেট খোলা হয়, বড় অংকের টাকা হাদীয়া ছিল। স্যার সাথীদের একজনকে বলেন, এটাকে চার ভাগ করে নাও, ঐ প্যাকেটের হাদীয়াকে (রিয়ালকে) চার ভাগ করে চার জনে নেওয়া হলো, প্রত্যেকের ভাগেই প্রায় ৪০/৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ আসে। স্যার বললেন, হাদীয়া বন্টন করতে হয়। আরব শেখ স্যারকে হাদীয়া দিয়েছেন, স্যার একাই নিতে পারতেন, স্যার একা নিলেন না, সাথীদের একজনের দ্বারা সমানভাবে ভাগ করে এক অংশ নিলেন।
১০২. স্যার একবার বলেন, যদি কেউ বলে, এককথায় ইসলাম কি…
স্যার একবার বলেন, যদি কেউ বলে, এককথায় ইসলাম কি, এককথায় ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার মহব্বত। হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহির একটা কথা, আল্লাহ তায়ালার মহব্বতের পরেই মানুষের জন্য সবচেয়ে দামী হলো মমিনের মহব্বত। মানুষের মহব্বতের ব্যাপারে যুহুদ করো না, বে-পরওয়া হয়ো না। ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আহত হবার পর ঘরে নিয়ে আসা হলো, ঘরে নিয়ে আসা হলেই সর্বপ্রথম মদীনায় (শহরের বিভিন্ন গলিতে) লোক পাঠালেন, যাও দেখে আসো আমার এই অবস্থায় মদীনার লোক কি খুশি নাকি নারাজ? মানুষের খুশি অখুশির পরওয়া উনি করছেন। উনাকে বলা বলো, না আমিরুল মুমিনিন, খুশি না, আপনার এই অবস্থায় সবাই খুব ব্যথিত, কান্নাকাটি করছে। এই খবর শুনে হজরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি জালিম নই। আব্দুল কাদির জিলানি রহমতুল্লাহি আলাইহির একটা কথা, আগের উম্মতের জন্য যদি চল্লিশজন লোক একজনের জন্য সাক্ষি দিতো যে এই লোকটা ভালো, তাহলে তার সাক্ষি গ্রহণ করা হতো। মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জন্য যদি দুইজন লোকও সাক্ষি দেয় যে এই লোকটা ভালো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা সেই সাক্ষি গ্রহণ করে তাকে মাফ করে দেন। স্যার বলেন যে নাফরমানরা এই মহব্বত পায়না। স্যারের ছোট বেলায়, অনেক আগে, সিলেটে এক ডাকাত মারা গেছে, তো রাস্তায় ছোট ছোট বাচ্চারা খুশিতে হাত তালি দিচ্ছে, যে ওই ডাকাত মারা গেছে, ওই ডাকাত মারা গেছে। ছোট বাচ্চারা হয়তো ওকে ব্যক্তিকে চেনেও না, ডাকাতিও বোঝে না, কিন্তু ওর মারা যাওয়াতে হাত তালি দিচ্ছে, খুশি প্রকাশ করছে। ফেরাউনের কথা আছে, ফেরাউনের মারা যাওয়াতে না আসমানের কেউ কেঁদেছে, না জমিনের কেউ কেঁদেছে, আফসোস করেছে। আল্লাহ তায়ালা যাকে ভালো বাসেন, তার কথা আসমানে ঘোষণা করে দেন, আসমানওয়ালারা জমিনে ঘোষণা করে দেন, জমিনের সবাই তাকে মহব্বত করে। নবীরা দুনিয়াতে এই মহব্বতের লাইন নিয়ে এসেছিলেন, আল্লাহ তায়ালার মহব্বত, ও মানুষের মহব্বত বাড়ানো।
১০৩. স্যারের সরাসরি ছাত্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র…
স্যারের সরাসরি ছাত্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ভাই রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, স্যার আমাদের ক্লাসে আসলে ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সবাই অভ্যাস মতো শিক্ষক প্রবেশ করায় দাড়িয়ে যায়। স্যার প্রথম ক্লাসে প্রথম দিন এসেই বলে দিয়েছিলেন যে আমার ক্লাসে আমি প্রবেশ করার পর কাউকে দাঁড়াতে হবে না (দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে না)। একবার দিনাজপুর সফরে আবুল কালাম আজাদ ভাই দিনাজপুর ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণরত ইমামদের মধ্যে কথা বলার জন্য স্যারকে নিয়ে সেখানে যান। স্যার ক্লাসে প্রবেশ করার সাথে সাথে ইমামগণ এবং সেখানকার অফিসাররা সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন। স্যার কথা বলার শুরুতেই জিজ্ঞেস করলেন, আমি প্রবেশ করার সাথে সাথেই আপনারা যে দাঁড়ালেন, এই দাঁড়ানো কি শরীয়তে জায়েজ কিনা? স্যারের এই প্রশ্ন শুনে সবাই একটু ইতস্তত করছিলো, কিছু বলছিলো না, কিছুক্ষণ পরে একপাশ থেকে একজন ইমাম বললেন, জায়েজ না, নাজায়েজ, বাকী সবাই চুপ। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, যদি জায়েজ নাই হয়ে থাকে তাহলে দাঁড়ালেন কেন? শরীয়ত কি বাইরে একটা আর ভিতরে আরেকটা, কিতাবে (জানার জন্য) একরকম, আর আমলের জন্য আরেক রকম হুকুম?
১০৪. এক বয়ানে স্যার বলেন, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার মানুষকে ডাকেন…
এক বয়ানে স্যার বলেন, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার মানুষকে ডাকেন শুদ্ধ জীবনের দিকে, আর মানুষ দৌড়ায় দক্ষতার দিকে। মানুষ নিজেকে মূল্যবান বানাতে চায়, আর বড় ভুল করে যে দক্ষতা দিয়ে বানাতে চায়, তার কাজের দক্ষতা দিয়ে সে মূল্যবান হতে চায়। দক্ষতার দ্বারা তার নিজের জীবন মূল্যবান হয়না, সে মূল্যবান জিনিষের উৎপাদনকারী হয়। একজন কুমার মাটিরপাত্র বানায়, সে যদি দক্ষ কুমার হয় তাহলে শুদ্ধ (সুন্দর) পাতিল বানাতে পারে, নিজে শুদ্ধ (সুন্দর) হয় না। সে হচ্ছে দক্ষ, সে দক্ষ কুমার, ওর কৃত্তি শুদ্ধ (সুন্দর) পাতিল, যার মূল্য বড় সাময়িক, কিন্তু এই কৃত্তির কারণে সে শুদ্ধ মানুষ হবে না । নিজ গুণেও মানুষ মূল্যবান হয় আর উৎপাদনের গুণেও মানুষ মূল্যবান হয়। ফুল ফল নিজ গুণে নিজ দাবিতে মূল্যবান, গোবর উৎপাদনের গুণে মূল্যবান। কৃষকরা গোবরকেও মূল্যদিয়ে কিনে, গোবরেরও মূল্য আছে, কিন্তু গোবরের যে মূল্য আছে, সেই মূল্য তার নিজ গুণের কারণে নয় যে গন্ধ খুব ভাল, সুন্দর, এইজন্য কেউ গোবর কিনে না, বরং সুন্দর ফুলের উৎপাদনের সহায়ক। ফুলকে যে কিনে, ফুলের নিজের গুণের কারনে কিনে, ফুল নিজে সুন্দর, তার নিজ গুণে। সম্পূর্ণ দক্ষতার পথ মানুষকে শুদ্ধ উৎপাদনের সহায়ক বানায়, শুদ্ধ মানুষ বানায় না। যতদিন পর্যন্ত ঐ উৎপাদন আছে, ততদিন তার মূল্য আছে। গোবরের মূল্য সবার কাছে নয়, শুধু কৃষকের কাছে আর তার চাষের মৌসুমে। অন্য কারো কাছে মূল্য নেই, আর কৃষকের নিকটও মৌসুম পার হয়ে গেলে, এখন আর সারের দরকার নয়, এখন তার কাছে আর গোবরের কোন মূল্য নেই। কিন্তু ফুল ফল এগুলো সবার কাছে, সবসময় মূল্যবান। একজন দক্ষ ডাক্তার শুধু রুগীর কাছে মূল্যবান যতদিন পর্যন্ত সে রুগী, একজন শুদ্ধ মানুষ সবার কাছে, সবসময়, সর্বকালে মূল্যবান। এই জন্যে নবীরা যে পথ এনেছেন ঐ পথে যারা মূল্যবান হয় তারা তখনও মূল্যবান ছিলেন, আজও মূল্যবান, কেয়াম পর্যন্ত মূল্যবান থাকবেন। আবুবকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু, ওমর রাদিয়াল্লাহ আনহু, সব সাহাবারা, তখনও মূল্যবান ছিলেন, আজও মূল্যবান আর ভবিষ্যতেও থাকবেন। তারা যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথ আজও মানুষের জন্য বড় ফায়দা দিয়ে যাচ্ছে। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম যে পথ এনেছেন সেই পথে একজন মানুষ নিজ দাবীতে মূল্যবান হয়, শুদ্ধ জীবনের জন্য মূল্যবান হয়। জীবনকে যদি আমরা শুদ্ধ করতে পারি আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করছেন, দুনিয়াতেও ভাল জীবন দেবেন আখেরাতেও ভাল জীবন দেবেন।
১০৫. ১০৫। একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, একজন মেহমান…
১০৫। একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, একজন মেহমান বাসায় থাকা মানে একটা লাশ থাকা। মেহমান বাসায় থাকার কারণে মেজবান বা মেজবানের ঘরের লোকজন স্বাধীন থাকেন না, মেহমানের দিকে নজর রাখতে হয়, ইচ্ছেমতো যেকোন কিছু করতে পারেন না। ঘরে লাশ থাকলে যেমন সবকাজ ঠিকমতো করা যায় না, স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়, নিয়মিত কাজকর্ম স্থগিত থাকে, এরকম মেহমান থাকা পর্যন্ত মেজবানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। মেজবানের বাসায় খাবার খেয়ে, যদি যাবার হয়, তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাওয়া, এত দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা যাতে মেজবানের জন্য কষ্টের কারণ হয়। فَاِذَا طَعِمۡتُمۡ فَانْتَشِرُوۡا وَلَا مُسۡتَاۡنِسِيۡنَ لِحَـدِيۡثٍ খাবার শেষ হলে চলে যাও, কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না।
১০৬. আমাদের এক ভাই (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) ঢাকায় আরেক ঘনিষ্ঠ…
আমাদের এক ভাই (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) ঢাকায় আরেক ঘনিষ্ঠ সাথীর প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে যোগদান করেন। একথা স্যারের সাথে আলোচনা হচ্ছিল, কিছু কথা প্রসঙ্গে তখন স্যার বললেন বন্ধুর এমপ্লয়ি হওয়া ঠিক নয়।
১০৭. এক বয়ানে স্যার বলছিলেন, মানুষের প্রধান পরিচয় হলো সে…
এক বয়ানে স্যার বলছিলেন, মানুষের প্রধান পরিচয় হলো সে মহব্বত করে, আর মহব্বতের ক্বদর করা জানে। এক জামানায় মানুষ জাহাজে যেতো, এখন এরোপ্লেনে যায়, জাহাজের চেয়ে সময় অনেক কম লাগে, আরামে যাওয়া যায়, ভাল বিকল্প, এখন আর পানি জাহাজে যেতে রাজি নয়, এরকম বিকল্প পছন্দ করা সহজ ও সম্ভব। কিন্তু যদি কেউ দেশের মধ্যেই বা অন্য কোন দেশে আরো সুন্দর করে একটা কাবার মতো জিনিষ বানায়, এখানে যাওয়া সহজ আর থাকা খাওয়ার ভাল বন্দোবস্তও থাকে, তো মক্কা শরীফ গিয়ে হজ্জ্ব না করে এখানে যে কাবার মতো জিনিষ বানানো হয়েছে, ঐটার তওয়াফ করা যাক, হজ্জ্ব হয়ে যাবে, না এইটা সম্ভব না। আগে জাহাজে যেতে এখন প্লেনে যাও, ঐটার তো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, আর এইটার বিকল্প করতে অসুবিধা কি? ঐটার বিকল্প হতে পারে, কারণ প্লেনে চড়া কোন লক্ষ্য বা কোন মাকসাদ নয়, মাকসাদ (লক্ষ্য) হাসিল করবার জন্যে একটা উপলক্ষ্য। উপলক্ষ্য পরিবর্তন করা যায় কিন্তু আল্লার ঘর তওয়াফ করা এইটা কোন কিছুর উপলক্ষ্য নয়, এইটা আল্লারই সাথে মহব্বতের প্রকাশ, এইখানে কোন বিকল্প হতে পারে না। অনেক বেতন দিয়ে অসুস্থ মায়ের জন্যে নার্স রাখা হয়েছে, নার্সের মেজাজও বেশি ভাল নয়, রাগ বেশি, অসুস্থ মায়ের উপরও রেগে যায়, কিন্তু যেহেতু মায়ের সেবা যত্নের প্রয়োজন, আর সব ধরণের যত্ন ছেলে করতেও পারছে না, আবার কিছু কিছু যত্ন এমন ধরণের যেগুলোর কিছু জ্ঞান দরকার যেমন ইনজেকশান দেওয়া ইত্যাদি। যেহেতু ঐ নার্স এই ব্যাপারে দক্ষ, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, প্রেসার দেখা ইত্যাদি অনেক গুলো জিনিষ পারে, যার কারনে মায়ের যত্নের জন্য বেতন দিয়ে নার্স রাখা হয়েছে, যদিও ঐ নার্সের মেজাজ অনেক খারাপ। অরেক জন নার্স পাওয়া গেলো সেও দক্ষ, বরং দক্ষতার দিকে আরো বেশি, মেজাজও ভাল, যদি পায় ওরকম তাহলে বদলিয়ে নিবে। বেশী ভাল নার্স পাওয়া গেছে, বেতনও কম মেজাজও ভাল, তো একেই রাখি, আগেরটাকে বাদ দিয়ে দেই, এইটা স্বাভাবিক । কিন্তু এইটা হবে না যে এই মা তো বিছানায় পড়ে আছে, বিছানায় পেশাব পায়খানা করে একে রেখে তো বেশি সুবিধা হচ্ছে না, এই মাকে বাদ দেই আর আরেক মা যোগাড় করি। ঐটা হবে না, কারণ ঐটা মহব্বতের আর মহব্বতের ব্যাপারে কোন বিকল্প হয়না। মায়ের মহব্বত লক্ষ্য, লক্ষ্যের সাথে মহব্বতের সম্পর্ক, ঐটার বিকল্প হয়না, কিন্তু ঐ মহব্বতের মাকসাদ পুরা করবার জন্যে তার যত্ন করা একটা জরুরত, নার্স রাখা, যেটা উপলক্ষ্য আর এই উপলক্ষ্যের বিকল্প হতে পারে।
১০৮. একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, বিবিরা (বউ) ভেতর…
একবার এক কথা প্রসঙ্গে স্যার বলছিলেন, বিবিরা (বউ) ভেতর থেকে নিয়্যত তৈরী করে দেয়, পেছন থেকে প্ররণা দেয়। যেমন যতলোক বাজারে ঘুরছে এর একটা বড় অংশ খেলনা গাড়ীর মতো, পেছন থেকে বউ বাড়ী থেকে স্প্রিং দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। খেলনা গাড়ী ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং করে আগাচ্ছে দেখা যায়, কিন্তু পেছন থেকে কেউ স্প্রিং দিয়ে দিয়েছে। বউ বাড়ী থেকে স্প্রিং দিয়ে দিয়েছে, এখন ওই ব্যক্তি মার্কেট টার্কেট যা কিছু করছে, যতো ধরনের বাজার সদাই করছে তার পেছনে স্প্রিং দেওয়া আছে। একটা মানুষ বাড়ী বানাচ্ছে, এই বাড়ী বানানোর কথাটা দুই চার বছরে ওর অন্তরে গেঁথে দিয়েছে ওর বউ। যখন ও বাড়ী বানানোর কথা মেনে নিয়েছে, শুরু করে দিয়েছে, তখন বউ চা বানাচ্ছে, বউ রান্নাঘরে ব্যস্ত। সাহেব বাড়ী বানাচ্ছে ঠিকই কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ভেতরে এই নিয়্যত পুশে দিয়েছে বউ।
১০৯. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামাল স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের…
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামাল স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া এলাকায় থাকতেন। একদিন বিকেলে জুবেরী ভবনে স্যারের সাথে উনার দেখা হলে পরদিন সকালে উনার বাসায় নাস্তার দাওয়াত দেন। সকালে নাস্তার পর স্যার উঠে চলে আসতে লাগলে উনি স্যারকে বলেন, আরে মুসফিক ভাই আপনি চলে যাচ্ছেন? আপনাকে তো এমনি এমনি দাওয়াত দেইনি। স্যার জিজ্ঞাসা করলেন, কেন? মোস্তফা কামাল স্যার বললেন আমি আপনাকে এইজন্য দাওয়াত দিয়েছি যে ওদেরকে (উনার সন্তানদের দিকে ইঙ্গিত করে) কিছু বলবেন, ওরা নামাজ কালাম কিছু পড়ে না। ওদেরকে কিছু বলে যান। স্যার বললেন আপনি বাপ, আপনি বাপ হয়ে আপনার কথা শুনে না, তো আমি কে যে আমার কথা শুনবে? একথা বলে স্যার বের হয়ে গেলেন।
১১০. সায়ীদ আবুবকর ভাই একদিন স্যারকে জিজ্ঞেস করেন (১৯৯৬/৯৭), স্যার…
সায়ীদ আবুবকর ভাই একদিন স্যারকে জিজ্ঞেস করেন (১৯৯৬/৯৭), স্যার কাশ্মীরে মুসলমান নির্যাতিত হচ্ছে, এই ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? স্যার উত্তরে বলেন, কাশ্মীরে আমাদের বড় মেহনত ছিল, প্রচুর কাজ হচ্ছিল। কিন্তু কিছু লোভী মুসলমান ফল পাকার আগেই ফলটা পারতে গেলো, আর মেহনতও নষ্ট হয়ে গেলো।
১১১. এক মোজাকারায় স্যার বলেন দ্বীনি মতামতের ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন দ্বীনি মতামতের ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান, বেদ্বীনির আলামত। অনেকে বলে থাকেন কোন পক্ষেই যাবার দরকার নেই, নিরপেক্ষ থাকো, আমরা নিজেদের মধ্যে ঝামেলা চাই না, আমরা নিরপেক্ষ। পৃথিবীতে সবচেয়ে নিরপেক্ষ হলো ফুটবল, ওকে ২২ জনই লাথি মারে, এদিকে ১১ জন ওদিকে ১১ জন, যেহেতু ও নিরপেক্ষ, ২২ জনেরই লাথি খায়, কারণ ও ফুটবল, ও নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ বলতে দ্বীনের মধ্যে কোন অবস্থান নেই, হক্বের উপর থাকতে হবে। সারা দুনিয়া আমার বিপক্ষে গেলেও আমি নিরপেক্ষ থাকবো না, হক্বের উপর থাকবো। নিরপেক্ষ অবস্থান, সবার সাথেই তাল মিলিয়ে চলা, দ্বীনদারীর কমতির কারনে হয়। ফাজায়েলে ছাদকাত এর কথা উল্লেখ করে বলেন, সবার কাছে যে ভালো, ওর দ্বীনদারীতে সমস্যা। ৫০ জন সিদ্দিকিনের মর্যাদা দেওয়া হবে তাকে, যে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারতো, সবার মন জয় করতে পারতো, কিন্তু তা করে না, নিরপেক্ষ থাকে না। ও সবার কাছে ভালো হতেই পারে না, হয় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শত্রু হবে, না হয় ফেরাউনের শত্রু হবে। আর ফেরাউনের শত্রু হলে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু হবে, এবং মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শত্রু হলে ফেরাউনের বন্ধু হবে। একসাথে দুজনেরই বন্ধু হতে পারে না, দ্বীনের মধ্যে তালমিলিয়ে চলার অবস্থান নেই।
১১২. একবার স্যার বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তম মেহমানদারী হলো…
একবার স্যার বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তম মেহমানদারী হলো এক মুচীর (জুতা সেলাই করনেওয়ালা) মেহমানদারী। একসময় পাকিস্থানে ইফতারীর পূর্ব মূহুর্তে বাজারে গেলাম কিছু ইফতারী কিনতে, সুবিধামতো খাবারের দোকান পাচ্ছি না, রাস্তার পাশের এক মুচির নিকট খাবারের দোকানের খোঁজ করছিলাম। এরই মধ্যে ইফতারীর সময়ও হয়ে গেছে। উনি আমাকে বললেন বসো, জুতা ঠিক করার জিনিষ পত্রের বাক্স থেকে একটি পুটলি বের করে আমাকে বাক্সের উপর বসতে দিলেন। উনি পুটলি থেকে একটা শুকনা রুটি বের করলেন, রুটিটা দুই ভাগ করে অর্ধেক আমাকে দিলেন আর অর্ধেক উনি খেলেন, উনিও রোজা ছিলেন। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে উত্তম মেহমানদারী।
১১৩. একবার এক ভাই তার বিবির কথা উল্লেখ করে স্যারকে…
একবার এক ভাই তার বিবির কথা উল্লেখ করে স্যারকে জিজ্ঞাসা করেন, প্রসবকাল ঘনিয়ে এসছে, কি আমল করবো, আল্লাহ পাক সামগ্রিক সহজ করেন, কি আমল করা যায়। স্যার বলেন, তোমার বিবিকে- ربي يسر ولا تعسر وتمم علينا بالخير. এটা বেশী বেশী পড়তে বলবে, এবং যখন একেবারে সময় উপস্থিত হয়, তখন ও এই দোয়া যেনো বার বার পড়তে থাকে। ওই ভাই বলেন, আমার বিবি পরে বলছিলো যে ব্যাথার সময় আমি এই দোয়া ১০ বার পড়া শেষ করার আগেই বাচ্চা খালাশ হয়ে যায়।
১১৪. আমাদের এক সাথী তার এক আত্মীয়ের কথা স্যারকে বলছিলেন…
আমাদের এক সাথী তার এক আত্মীয়ের কথা স্যারকে বলছিলেন, ঐ আত্মীয় হজ্জ্বের সফরে জেদ্দায় নেমেই অসুস্থ হয়ে যায়। পাশেই হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য এরই মধ্যে ৯/১০ জিলহজ্জ্ব পার হয়ে যায়, তার আরাফাতে যাওয়া হয় না। হজ্জ্বের পর ঐ সাথী জেদ্দায় ঐ আত্মীয়ের খোঁজ নিতে এসে দেখেন উনি হাসপাতালেই আছেন, তার হজ্জ্ব আর হয় না, পরে সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। এই কথা শুনে স্যার বলেন, হয়তো তার মর্যাদা আল্লাহ পাকের কাছে অনেক বেশী, আল্লাহ পাক এর উসিলায় তাকে আরো তরক্কী দান করবেন, অথবা এর বিপরীত, আল্লাহ পাকের কাছে আরাফার দিনে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবার যোগ্য হয়তো সে না।
১১৫. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, সময় উপার্জন করার জিনিষ, সময়…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন, সময় উপার্জন করার জিনিষ, সময় উপার্জন করতে হবে। আমরা যেমন অর্থ সম্পদ উপার্জন করি, তেমনি সময়টাও উপার্জন করতে হবে। আব্দুল আজিজ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি আছর মাগরীবের মাঝখানে এক খতম কোরআন শরীফ পড়তেন, এটা তার উপার্জন করা সময় বা সময়ের বরকত, উনি এটা আল্লাহ পাকের নিকট থেকে চেয়ে নিয়েছেন। ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি রমজানে ৬১ খতম কোরআন শরীফ পড়েছেন, দিনে এক খতম, রাতে এক খতম, এবং তারাবীতে এক খতম, এভাবে ৩০ দিনে ৬১ খতম পড়তেন। ওসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাতে এক খতম করতেন। আল্লাহ ওয়ালারা অল্প সময়ে অসংখ্য কাজ করতেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহমতুল্লাহি সম্পর্কে উনার ছাত্র হাফেজ ইবনুল কাইয়ূম রহমতুল্লাহি বলেন, আমাদের ওস্তাদ একরাতে যেটা লিখতেন, আমরা ৭ দিনে সেটার কপি লিখে শেষ করতে পারতাম না। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একা যে কাজ করেছেন, আমাদের ১০টা মন্ত্রণালয় সেই কাজের আন্জাম দিতে হিমশিম খেয়ে যাবে, কিভাবে সম্ভব, কিভাবে পারলেন, তাদের সময় ছিল উপার্জন করা সময়।
১১৬. ভাই আমানুল্লাহ বলেন, একবার স্যারের সাথে আমরা ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)…
ভাই আমানুল্লাহ বলেন, একবার স্যারের সাথে আমরা ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) গিয়েছিলাম (১৯৯৩/৯৪), স্যারের এক ছাত্র উনার বাসায় আমাদেরকে দাওয়াত দেন, উনার বাসায় খানা খাওয়ার জন্য। উনার বাসায় যাবার আগে স্যার আমার হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে বললেন, কিছু মিষ্টি নিয়ে নিয়ো। জোহরের নামাজের পর সবাই খানা খাওয়ার জন্য উনার বাসায় গেলাম। মেজবান যে ভাই, যার বাসায় গিয়েছি, তার এক ছেলে জন্ম থেকে ২০ বছর, বিছানায় পরে আছে অসুস্থ অবস্থায়, বিছানায় পেশাব পায়খানা করে, উঠা চলাফেরা কিছু করতে পারে না, তার কোন শক্তিই নাই। এই দীর্ঘদিন যাবত তার মা বাবাই সমস্ত খেদমত করে আসছে, একথা বলতে বলতে সেই ভাই কাঁদতে লাগলো, জন্ম থেকেই ছেলে এরকম, কোন চলাফেরা করতে পারে না, এই ছেলের খেদমতের কারণে তারা কোথায়ও যেতেও পারে না। ওই ভাইয়ের কথা শুনে স্যারের চোখে পানি ছল ছল করছিলো, স্যার তখন খালি একটা কথা বললেন, তোমাদের এই সন্তানের কারণে তোমাদের, বাপ-মা এর মর্যাদাকে আল্লাহ পাক বাড়িয়ে দিবেন।
১১৭. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, এবং…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন, ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, এবং উনার পীর যিনি বালাকোটের ময়দানে উনার আমীর ছিলেন, সৈয়দ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, এই দুইজনের মধ্যে ময়দানে কোন একটা শরয়ী ব্যাপারে মতের এখতেলাফ (মতপার্থক্য) হয়েছিলো। পরে সৈয়দ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহির রায় টাই সঠিক প্রমাণিত হলে ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর সৈয়দ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বলেন, আজকের পর থেকে আমি আর কোন ব্যাপারে আপনার বিরোধীতা করবো না। মুরিদের এই কথা শুনে সৈয়দ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, এটা হলো – الشرك في النبوه. এটা জায়েজ নেই। বিরোধীতা যদি শরাআন করতে হয় তাহলে করতেই হবে, কোন ব্যাক্তিকে নবীর জায়গায় স্থান দেওয়া যাবে না। আপনার বিরোধীতা করবো না মানে আপনার ভূল হতে পারে না, পীর সাহেব বা আমীরের ব্যাপারে এই আক্বীদা রাখা যাবে না। এই মর্যাদা শুধু নবীর, সাধারণ মানুষের ব্যাপারে এই আক্বীদা রাখা যাবে না।
১১৮. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, চোখের উপর যেমন শরীয়তের আহকাম…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন, চোখের উপর যেমন শরীয়তের আহকাম আছে যে এটা দেখা যাবে এটা দেখা যাবে না, যবানের উপর শরীয়তের আহকাম আছে এটা বলা যাবে এটা বলা যাবে না, সত্য কথা বলো, মিথ্যা বলো না, গীবত করো না, কানের উপর যেমন আহকাম আছে, তেমনি চিন্তার উপরও শরীয়তের আহকাম আছে যে এ বিষয়ে চিন্তা করা যাবে এ বিষয়ে চিন্তা করা যাবে না। تَفَكَّرُوا فِي الْمَخْلُوقِ، وَلَا تَفَكَّرُوا فِي الْخَالِقِ আল্লাহ পাকের সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করো, আল্লাহর ব্যাপারে চিন্তা করো না।
১১৯. এক ভাইয়ের হতাশামূলক কিছু কথার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কিছু তরগীবি…
এক ভাইয়ের হতাশামূলক কিছু কথার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কিছু তরগীবি কথা বলতে গিয়ে স্যার বলেন, দাওয়াতের কাজের একটা বড় ফজিলত হলো এই কাজের মাধ্যেমে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে মানুষের আক্রমন থেকে, মানুষের ক্ষতি থেকে হেফাজত করবেন। মানুষের আক্রমনের একটা আক্রমন হলো শারীরিক আক্রমন, তাকে আঘাত করলো, গুলি করলো, মেরে ফেললো ইত্যাদি। প্রধান আক্রমন হলো, তার চিন্তার উপর আক্রমন, তার চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে দিবে। বিদয়াতী বাতিল আক্বীদা তার চিন্তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া, গোমরাহী চিন্তা, যা তার নাগালের মধ্যে না এমন চিন্তা, অনর্থক চিন্তা, যে চিন্তা তার করনীয় না এমন চিন্তার মধ্যে লিপ্ত করে দেওয়া ইত্যাদি। এই চিন্তা থেকেই খারেজী, রাফেজী, মুতাজিলা এরকম বাহাত্তর ফেরকা পয়দা হয়েছে। এই চিন্তার আক্রমণ সবচেয়ে বড় আক্রমন, শারীরিক আক্রমন করে মেরে ফেললো, তো সে শহীদ হয়ে যাবে, কিন্তু যদি চিন্তার উপর আক্রমণ করে, তার চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে তাকে গোমরাহ বানাবে, তাকে আমল থেকে সরাবে, তাকে তবলীগ থেকে সরাবে, তাকে ঈমান থেকে সরাবে, তাকে মুরতাদ বানাবে। বিভিন্ন জামানায় আল্লাহ ওয়ালারা মানুষকে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। দাওয়াতের মেহনত যে করবে আল্লাহ তায়ালা মানুষের এই চিন্তার আক্রমন থেকেও তাকে রক্ষা করবেন। یٰۤاَیُّهَا الرَّسُوۡلُ بَلِّغۡ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ؕ وَ اِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ হে রাসূল, আপনার উপর যা কিছু নাজিল হয়েছে তার তাবলীগ করেন। আপনি যদি না করেন তাহলে রেসালতের দায়িত্ব আদায় করলেন না, আর মানুষের আক্রমন থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করবেন। এই দাওয়াতের মেহনতের বড় ফজিলত, এই মেহনত তাকে মানুষের আক্রমন থেকে, শারীরিক আক্রমন থেকে, চিন্তার আক্রমন থেকে রক্ষা করবে।
১২০. স্যারের একটা পারিবারিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন…
স্যারের একটা পারিবারিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন, আমি যখন বাসা থেকে বাইরে বের হবার জন্য তৈরী হতাম তখন আমার মেয়েরা (৫/৭ বছর) চেয়ারের উপর টুল, টুলের উপর পিঁড়ি, এইসব দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতো, যেতে দিবে না, বাইরে বের হতে দিবে না। এই কথা বলতেই স্যারের চোখে পানি চলে আসে। ওদেরকে ওই সময় পেছনে রেখেই জোর করে দরজা খুলে বেরিয়ে যেতাম। স্যার বলেন ওদেরকে একেবারেই সময় দেওয়া হয়নি, ওদের হক্ক ঐভাবে আদায় করা হয়নি।
← আগের পর্ব (৮১–১০০) | সূচিপত্র | পরের পর্ব (১২১–১৪০) →
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
