মালফুযাত – প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ) – পর্ব ৭: ১২১–১৪০
প্রফেসর মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর বয়ান, পরামর্শ, আমল ও দাওয়াতি জীবনের মালফুযাত, ১২১ থেকে ১৪০ নম্বর। সম্পূর্ণ সূচিপত্র দেখুন।
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
এই পর্বে যা আছে
- ১২১. মনির ভাই (বরিশাল) বলেন একবার এক সফরে ট্রেনে যাবার…
- ১২২. স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ১৯৭৪ সালে, কিছুদিন পরে…
- ১২৩. হাফেজ শাহজুল ইসলাম সাহেব বলেন, মসজিদে একবার এক গার্ড…
- ১২৪. ভাই সোহেল বলেন, ২০০১/০২ সালের দিকে স্যারের সাথে আমার…
- ১২৫. হজরত মওলানা ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথা উল্লেখ করে স্যার…
- ১২৬. ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান ভাইয়ের জামাতে স্যার নূসরতে গিয়েছিলেন। মহল্লায়…
- ১২৭. টাংগাইল জেলার ঘাটাইল মার্কাজে একসময় কিছু সমস্যা চলছিল, কাজের…
- ১২৮. নাটোরে নতুন সূরার ফায়সালা হবার পর মাওলানা আবুল কালাম…
- ১২৯. একসময় স্যার হাসান হাবীব ভাইয়ের বাসায় গেলে উনি স্যারের…
- ১৩০. একবার স্যার বলেন, একে অন্যের উপর যে জুলুম করে…
- ১৩১. একবার স্যার বলেন, মানুষের সামনে মৃত্যু যে কতবড় বিভিষীকা…
- ১৩২. একবার রাজশাহী উপশহর মার্কাজ মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে হেঁটে…
- ১৩৩. ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথার উদৃতি দিয়ে একবার স্যার বলেন…
- ১৩৪. স্যার একবার সায়ীদ আবুবকর ভাইয়ের বাসায় (ঝিনাইদহ) গেলে উনি…
- ১৩৫. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, নামাজ আল্লাহর জন্য হলে সেটা…
- ১৩৬. একবার আশরাফ আলী থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এক মেছালের…
- ১৩৭. এক ভাইয়ের ব্যবসার চিন্তা ভাবনার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে…
- ১৩৮. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, হত দরিদ্র ব্যক্তি, বয়স্ক বৃদ্ধ…
- ১৩৯. মুজাদেদ্দে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথার উল্লেখ করে একবার…
- ১৪০. পাকিস্থানের রাইউন্ড মার্কাজ মসজিদে স্যার মুজা পড়ে ছিলেন, ভাই…
১২১. মনির ভাই (বরিশাল) বলেন একবার এক সফরে ট্রেনে যাবার…
মনির ভাই (বরিশাল) বলেন একবার এক সফরে ট্রেনে যাবার সময়ে হিলি স্টেশনের কাছাকাছি এসে ট্রেনের লাইনের কিছু সমস্যার কারণে লম্বা সময় ট্রেন দাড়িঁয়ে ছিল। স্যার তখন ট্রেন থেকে নেমে লাইনের পাশেরই এক মসজিদে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। সেখানকার দুএক লোক যারা ঐসময় মসজিদে ছিলেন। মসজিদে উপস্থিত এক ভাইয়ের সাথে স্যার কিছু কথা বলে তাকে সফরের জন্য (চিল্লার) তাসকিল করলেন। ঐ ভাই তার কিছু অসুস্থতার কথা বলে বলেন এসব সমস্যার জন্য ইচ্ছা থাকার পরও চিল্লায় যেতে পারি না, মেহনত করতে পারি না। ঐ ভাইয়ের অসুস্থতার বর্ণনার সময় বার বার বিভিন্ন কথায় স্যার উনাকে প্রতিবারই বলছিলেন বেশী বেশী সূরা ফাতিহা পড়।
১২২. স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ১৯৭৪ সালে, কিছুদিন পরে…
স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ১৯৭৪ সালে, কিছুদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহেব ও ৭৪ সালেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন। সেই ১৯৭৪ থেকে ২০১২, প্রায় ৩৮ বছর ইমাম সাহেব স্যারকে দেখে এসেছেন। চাকুরী জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই স্যারের রাজশাহীতে (বিশ্ববিদ্যালয়ে) নিজস্ব কোন বাড়ী, কোয়ার্টার বা থাকবার জায়গা ছিল না। কখনও কেন্দ্রীয় মসজিদের ভেতরে, কখনও মসজিদের বারান্দায়, কখনও মোয়াজ্জেম সাহেবের কামড়ায় (ওজু খানার পাশে পশ্চিম দক্ষিণ কোনার রুম), কখনও ইমাম সাহেবের বাসায় থেকেছেন। মোয়াজ্জেম সাহেব (হাফেজ শাহজুল ইসলাম সাহেব) বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন ১৯৮৫ সালে, সেই হিসেবে উনিও মোটামুটি স্যারকে পেয়েছেন প্রায় ২৭ বছর, লম্বা সময় স্যারকে দেখে এসেছেন। এই সময়কালের একটা বড় অংশ স্যার রাজশাহীতে থাকলে মসজিদেই থাকতেন, উনারা একসাথেই থেকেছেন। ইমাম সাহেব ও মোয়াজ্জেম সাহেব এই উভয় হজরতই স্যার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, মসজিদের কাজে মসজিদের খাদেম, নাইট গার্ড, মালি সবাই মসজিদে থাকতেন, এই ২৭/৩৮ বছরের জীবনে কখনও স্যার কোন খাদেম বা কোন মালি বা কোন প্রহড়ীকে একবারের জন্যও কাউকে কোন আদেশ করেননি যে সুইচটা অন করে দাও, বা সুইচটা অফ করে দাও, বা কার্পেটটা বিছিয়ে দাও, বা আমার ব্যাগটা এনে দাও, বা মসজিদের দরজাটা খুলে দাও। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এখানে মসজিদেই থেকেছেন কিন্তু কখনই কোন কর্মচারীকে কোন ব্যাপারে কোন ধরনের আদেশ করেননি।
১২৩. হাফেজ শাহজুল ইসলাম সাহেব বলেন, মসজিদে একবার এক গার্ড…
হাফেজ শাহজুল ইসলাম সাহেব বলেন, মসজিদে একবার এক গার্ড অসুস্থ হয়ে পড়লে স্যার আমাকে ১০,০০০ টাকা বের করে দিয়ে বলেন উনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করেন।
১২৪. ভাই সোহেল বলেন, ২০০১/০২ সালের দিকে স্যারের সাথে আমার…
ভাই সোহেল বলেন, ২০০১/০২ সালের দিকে স্যারের সাথে আমার পরিচয়ের প্রথম দিকে টাঙ্গাইলের একটা জেলার এস্তেমায় স্যারের সাথে সফর ছিল। বাসে একসাথে যাত্রাপথে “আল্লাহুম্মা আংতাস ছহিবু ফিস ছাফারি .. .. ..” একটু একটু করে সফরের এই দোয়াটা সম্পূর্ণটা আমাকে মুখস্ত করালেন। আবার এস্তেমার শেষে স্যারের কাছে বিদায় নেবার জন্য গেলে স্যার যে মুসাফাটা আমার সাথে করলেন, সম্পূর্ণ হাত দিয়ে আমার সম্পূর্ণ হাতটায় ধরে মুসাফাহ করলেন, ঐ মুসাফাহটা আমার কাছে এখনো মনে পড়ে, আমার কাছে মনে হচ্ছিল অনেক মায়া নিয়ে স্যার বিদায় দিচ্ছেন।
১২৫. হজরত মওলানা ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথা উল্লেখ করে স্যার…
হজরত মওলানা ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথা উল্লেখ করে স্যার এক মোজাকারায় বলেন, একসময় দেশের কোন এক পত্রিকায় তাবলীগের বিরুদ্ধে বড় এক আর্টিকেল কেউ একজন লিখেছে। ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি বাংলাদেশে আসলে কাকরাইলে তাবলীগের কেউ একজন উনাকে সেই আর্টিকেল দেখিয়ে আর্টিকেলের বিষয়বস্তু আলোচনা করছেন। উত্তরে উনি বলেন, যে লিখনেওয়ালা সে লিখেছে বসে বসে, যে পড়নেওয়ালা সে পড়বে শুয়ে শুয়ে, আর তোমরা তো হাঁটছো, এই হাটনেওয়ালাদের সাথে ওরা পারবে না।
১২৬. ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান ভাইয়ের জামাতে স্যার নূসরতে গিয়েছিলেন। মহল্লায়…
ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান ভাইয়ের জামাতে স্যার নূসরতে গিয়েছিলেন। মহল্লায় এক খুছুছি গাসতে উনি স্যারকে নিয়ে যান, গাসতে কথাবার্তার এক পর্যায়ে শামসুর রহমান ভাই বলেন, আপনার এসব (অমুক অমুক দুনিয়াবী যোগ্যতা) যদি দ্বীনের কাজে ব্যবহার হয় তাহলে দ্বীনেরও ফায়দা হবে, আপনার যোগ্যতারও সঠিক (দ্বীনি) ব্যবহার হলো, দ্বীনের কাজে ব্যবহার হলো। একজন সাধারণ মানুষ যার এসব যোগ্যতা নেই সেতো মানুষকে বুঝাতেও পারে না, আল্লাহ পাক আপনাকে এতো এতো যোগ্যতা দিয়েছেন সেগুলোকে একটু দ্বীনের কাজে ব্যবহার করেন। এর দুইদিন পর জামাত ফিরে আসার সময় মসজিদ থেকে বের হয়ে সাথীরা একজন একজন করে বাসে উঠছে, ঐ মুহুর্তে স্যার শামসুর রহমান ভাইকে ডেকে বললেন, তুমি যে দাওয়াত দিয়েছিলে ঐটা ও দুনিয়ারই দাওয়াত ছিল।
১২৭. টাংগাইল জেলার ঘাটাইল মার্কাজে একসময় কিছু সমস্যা চলছিল, কাজের…
টাংগাইল জেলার ঘাটাইল মার্কাজে একসময় কিছু সমস্যা চলছিল, কাজের তরতীব ইত্যাদি নিয়ে শুরার সাথীদের মাঝে সম্পর্কের দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে কাজের ক্ষতি হচ্ছিল। ২০০০ সালের জানুয়ারী মাস, ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান ভাই তখন ঘাটাইলে চিল্লার সফরে ছিলেন, মার্কাজের হালত সামনে আসায় তিনি সমাধানের উদ্যোগ নেন, স্যার উনার জামাতের নুসরাতে ঘাটাইল আসলে উনি স্যারকে উক্ত ফিকিরে যুক্ত করেন। স্যার স্থানীয় সাথীদের সাথে বসেছেন, আলোচনা মোজাকারা করেছেন, আল্লার মেহেরবানীতে কিছু দিনের মধ্যে সাথীদের মধ্যে দূরত্বও কমে আসে, কাজের অনুকূল পরিবেশও তৈরী হয়। সমস্যা সমাধানের এক পর্যায়ে কাজের তরতিবের লাইনে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, সাথীদের সাথে মোজাকারা ও আলোচনায় স্যার ছিফাতের লাইনে, কাজের লাইনে, আমলের লাইনে অনেক কথাবার্তা বলেছিলেন, কিন্তু স্যার কাজের তরতীবের লাইনে (যেখান থেকে সমস্যার উৎপত্তি হয়েছিল) কোন কথাবার্তা বলেননি। কি সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার তা সামনে স্পষ্ট থাকা সত্তেও স্যার নিজে সিদ্ধান্ত না দিয়ে সাথীদের মাধ্যমে তৎকালীন জেলা জিম্মাদার মাওলানা আব্দুল হাই সাহেবকে তাকাজা দিয়ে এনে, তার মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে ফয়সালা করান। ঘাটাইলের স্থানীয় সাথী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিল ভাই বলেন, এটা এভাবে করো এটা এভাবে করতে হবে, স্যার নিজে এসব ব্যাপারে একটি কথাও বলেননি।
১২৮. নাটোরে নতুন সূরার ফায়সালা হবার পর মাওলানা আবুল কালাম…
নাটোরে নতুন সূরার ফায়সালা হবার পর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সাহেব এবং মাওলানা মনিরুল কাইয়্যূম সাহেব সূরার সাথীদের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন তা স্যারকে জানানো হলে স্যার উনাদের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে উনাদের সাথে দেখা করার জন্য স্যার রাজশাহী থেকে জোহর নামাজের পর রওনা হয়ে আছর নামাজের পূর্বেই বনপাড়া উপজেলা মসজিদে পৌঁছে যান। নামাজের পর হজরত মাওলানাদ্বয়ের সাথে মসজিদের এক কোনে বসে কিছু কথা বলেন, কথার এক পর্যায়ে হজরত মাওলানা আবুল ফাত্তাহ সাহেবের কথা উল্লেখ করে স্যার বলেন মাওলানা সাহেবের আব্বা যিনি খুব আল্লাহ ওয়ালা ও হুশিয়ার মানুষ ছিলেন, উনার আব্বার এক কথা উনি স্যারকে শুনিয়েছিলেন। উনার আব্বা একসময় উনাকে বলেন, তোমাদের এই তাবলীগের কাজ এখন সারা দুনিয়ায় পৌঁছে গেছে, দুনিয়ার কোনায় কোনায় জামাত যাচ্ছে, দেশের কোনায় কোনায় থেকে সারা দুনিয়া থেকে জামাত আসছে, সাথী বাড়ছে, তোমরা পুরানা হয়ে যাচ্ছো, সাথীদের কাছে মুরব্বী হয়ে যাচ্ছো, সাথীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হালত নিয়ে তোমাদের কাছে আসবে, তোমাদের কাছে পরামর্শ চাইবে। সাধারণ সাথীদেরকে গুরুত্ব দিবে, তাদেরকে সময় দিবে, তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনবে, তাদের হালতকে সামনে রেখে দোয়া করবে। কিন্তু সাবধান, হুট করে সমাধান দিতে যাবে না, কারণ সমাধান দেবার যোগ্যতা তোমাদের নাই। সমাধান দিয়ে গিয়ে তোমরা সমস্যা বাড়িয়ে দিবে, তবলীগের এই মেহনতে এখন তোমরা পুরানা ঠিকই কিন্তু সাথীদের বিভিন্নমুখী হালতের সমাধান দেবার মতো ঐ তরবিয়ৎ তোমাদের হয়নি। সমাধান দেবার যোগ্যতা তাদের ছিল, একথা বলে উনার আব্বা হজরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহির এক ঘটনা বলেন। গঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহির এক খাদেমের নিকটস্থ এক মহিলার প্রতি খুব আসক্তি হয়ে উঠেছিল। নির্দিষ্ট দিনে খাদেম রাতে হজরতের ঘুমানোর পড় ঐ মহিলার সাথে দেখা করতে যায়। নির্দিষ্ট গোপন জায়গায় একত্রিত হবার পূর্ব মুহুর্তে বাইরে আকাশে খুব বিজলী ও গর্জনের আওয়াজ শুরু হলে খাদেমের মনে ভয় হয়ে যায় যে হজরত মাওলানা হয়তো ঘূম থেকে জেগে উঠবেন আর তাকে খুজবে, এই ভয়ে সে পরবর্তী দিনে দেখা করার কথা বলে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসে। এসে দেখে যে হজরত মাওলানা ঘুমাচ্ছেন, তো সে যাত্রায় তার ভয় দুচ্ছিন্তা কেটে যায়। পরিকল্পনা মতো দ্বিতীয়বার আবার সে মহিলার নিকট গেলে একই রকম ঘটনার সৃষ্টি হয়, আবারো খুব ভয় পেয়ে ফিরে গিয়ে দেখেন যে হজরত মাওলানা সেদিনও ঘুমাচ্ছেন। পরিকল্পনামতো তৃতীয় দফায় গেলে সেবার পূর্বের থেকে বেশী মেঘের গর্জন ও ঝড় শুরু হলে আবারও তার দ্বীলে ভয় হয়ে যায় যে হুজুর জেগে যাবে আর জেগে আমাকে কাছে পাবে না, তো তাড়াতাড়ি দৌড় দেয়, গিয়ে দেখে হুজুর বসে মোরাকাবায় ধ্যানে মগ্ন। পেছন থেকে হুজুরকে ঐসময় মোরাকাবায় দেখে তার দ্বীলে এমন এক অনুশোচনার সৃষ্টি হয় যে তার দ্বীল থেকে সেই আসক্তি একেবারে কেটে যায়, পরবর্তীতে সে বলে ঐ দিনের পর থেকে আর কোন সময় মেয়ে মানুষের প্রতি বিশেষ কোন আগ্রহ অনুভব করিনি। সমাধান দেবার যোগ্যতা উনাদের ছিল।
১২৯. একসময় স্যার হাসান হাবীব ভাইয়ের বাসায় গেলে উনি স্যারের…
একসময় স্যার হাসান হাবীব ভাইয়ের বাসায় গেলে উনি স্যারের কাছে বাসা পরিবর্তন করার পরামর্শ চাইলেন, বাসাটা অফিসের কাছে নেবার জন্য, উনার বাসা ছিল অফিস থেকে খানিকটা দূরে শহরতলীতে। স্যার জানতে চাইলেন কেন, উনি জানালেন অফিসটা শহরের মধ্যে, তোলারাম কলেজের পার্শ্বে, এলাকার নাম কলেজ রোড, সেখানে নিতে চাই, স্যার আবার জিজ্ঞেস করেন, কেনো। উনি উত্তর দিলেন, অফিসে যাওয়া আসায় অনেক সময় চলে যায়, বাসাটা অফিসের কাছে থাকলে এই যাওয়া আসার সময়টা বেঁচে যেতো, যা সাথীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ গাসত ফিকির ইত্যাদিতে ব্যবহার করতে পারতাম। স্যার খুব স্পষ্টভাবে বললেন দরকার নাই। উনি একটু পরে আবার বললেন, এখন যেখানে বাসা নিতে চাই সেটা মার্কাজের কাছে, পায়ে হেঁটে মার্কাজে যাওয়া যাবে, মার্কাজে কিছু সময় দেয়া, মার্কাজের তাকাজা পুরা করা সহজ হবে। স্যার বললেন দরকার নাই, এখানেই থাকো। উনি একটু পরে আবার বললেন এখানে তো গ্রাম এলাকা, অশিক্ষিত সাধারণ লোকজনের বাস, আমি যেখানে বাসা নিতে চাচ্ছি সেটা কলেজ পাড়া, সরকারী কলেজ, কলেজ পাড়া মসজিদ এলাকা, ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে মেহনত করা সুবিধা হবে। স্যার আবারও বললেন, দরকার নেই এখানেই থাকো। কিছুক্ষণ পর উনি আবার বললেন, অফিস থেকে বাসায় দিনে ২/৩ বার যাওয়া আসা করতে হয়, দূরে হবার কারণে বেশ রিক্সাভাড়া খরচ হয়, বাসাটা ওখানে নিলে এই রিক্সাভাড়াটা লাগতো না, বেচে যেতো। স্যার তখন জিজ্ঞেস করেন, তুমি যদি বাসা পরিবর্তন করো, তাহলে কতো টাকা সেভ হবে। উনি উত্তর করলেন, কমপক্ষে ৬০ টাকাতো বাঁচবে (২০০৩/২০০৪ সালের কথা)। স্যার এবার বললেন, তাহলে বাসা পরিবর্তন করে ফেলো। উনি একটু আগ্রহের সাথে স্যারকে তখন জিজ্ঞেস করলেন, রিক্সাভাড়া বাচানোর জন্য বাসা পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু দ্বীনের মেহনতের এতোগুলি ফায়দার কথা বললাম আপনি বাসা পরিবর্তন করতে রাজী হলেন না! স্যার তখন বললেন, যে দ্বায়ী, যে মেহনত করনেওয়ালা, তার জায়গা পরিবর্তন হলে তাবলীগের কাজ বাড়বে কমবে এরকম না, যেখানে থাকবে ও ওখানেই করবে, ওখান থেকেই সব কাম করবে, আর যদি করতে পারে তাহলেই সে দ্বায়ী। এসমস্ত পরিবর্তন করে সে মনে করে অনেক তবলীগ করবো কিন্তু বাস্তবে সে আর তবলীগ করতে পারে না। দ্বায়ী যেখানে থাকবে ও সেখানেই কাজ করবে, কাজের মেজাজ এরকম যে ও যেখানেই থাকবে সেখানেই তার মেজাজ তাকে কাজ করাবে। তোমার টাকা বাচবে, হ্যাঁ এজন্য বাসা পরিবর্তন করতে পারো, কিন্তু মেহনতের কোন লাভ ক্ষতির চিন্তা করে বাসা পরিবর্তন করে তুমি বেশী তবলীগ করবে, বাস্তবে তা হয়না।
১৩০. একবার স্যার বলেন, একে অন্যের উপর যে জুলুম করে…
একবার স্যার বলেন, একে অন্যের উপর যে জুলুম করে এব্যাপারেতো মানুষ কিছু না কিছু হলেও জানে, কখনও কখনও মনে করে যে আমি জুলুম করছি বা করেছি কিন্তু নিজের উপর যে নিজে জুলুম করে এ ব্যাপারে তার কোন কনসেপ্টই (ধারণা) নাই। সাধারণত বয়ানে মোজাকারায় কথাবার্তায় স্যার ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করতেন না, বলা যায় এরূপ ব্যবহার স্যারের মেজাজের খেলাফ ছিল। কিন্ত এক্ষেত্রে কথায় একটু ভাড় দিয়ে স্যার ‘কনসেপ্ট’ শব্দটা দুই বা তিনবার ব্যবহার করেন। ‘তার কোন কনসেপ্টই নাই।’ মানুষ কি গভীরভাবে অন্যের দোষত্রুটি নিয়ে চিন্তা করে, চর্চা করে অথচ নিজেকে ভুলে যায়। নিজের ইচ্ছায় নিজেকে মনমতো চালাচ্ছে। নিজের জুলুমটাই যে সবচেয়ে বেশী, নিজের ইচ্ছা, নিজের অহংকার, নিজের পরিচিতির মোহ, লোভ, কতৃত্বপরায়ণতা ইত্যাদি এইসব নিজের উপর জুলুমের কারণেই সে দুনিয়া আখেরাতে মসিবতের মধ্যে পড়ে, তার জীবন অশান্তিময় হয়, কিন্তু নিজেকে কখনো সে দোষ দেয় না।
১৩১. একবার স্যার বলেন, মানুষের সামনে মৃত্যু যে কতবড় বিভিষীকা…
একবার স্যার বলেন, মানুষের সামনে মৃত্যু যে কতবড় বিভিষীকা একজন কাফের সে কখনো কল্পনাই করতে পারে না। মুমিনের সামনে তা নয়, মৃত্যুতো তার জন্য আনন্দ। একজন কাফের কিছুই ভাবতে পারছে না, কি হবে, কোথায় যাবে, কতবড় অন্ধকার, কিছুই সে কল্পনা করতে পারে না, তার কল্পনা পর্যন্ত আসেই না, মৃত্যু কি, কিছুই তার সামনে নাই। তোমার কলিগকে জিজ্ঞাসা করো, ও এড়িয়ে যাবে যে ভাই ওসব বাদ দে আয় চা খাই। কিন্তু একজন মুমিনের সামনে এরকম না।
১৩২. একবার রাজশাহী উপশহর মার্কাজ মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে হেঁটে…
একবার রাজশাহী উপশহর মার্কাজ মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে হেঁটে আসার পথে স্যার কথাপ্রসঙ্গে বলেন, সুন্দর বক্তৃতা, সুন্দর কথা, সুন্দর উপস্থাপনা এগুলো একটা চিত্রকর্ম বা একটা সুন্দর সঙ্গিত বা একটা শিল্পকর্ম ছাড়া আর কিছু না, এর বিশেষ কোন মূল্য নাই, যদি না এর ভিতরে ঐ রূহানিয়াত না থাকে। লিওনার্দো দ্যা ভিনচির চিত্রকর্ম মোনালিসা বা রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা ধরো সোনার তরী কবিতা, বা কোন শিল্পীর আকা একটা ছবি, এগুলোর যেমন একটা মূল্য আছে একটা সাহিত্যিক মূল্য, চিত্রকর্মের, সৌন্দর্যের একটা দুনিয়াবী মূল্য। স্যার বলেন এই যে বক্তৃতা দিলাম মার্কাজে, মনে করো সুন্দর উপস্থাপনা, সুন্দর কথা, সুন্দর উপমা, সুন্দর দর্শনতত্ত্ব, এটার মধ্যে যদি এখলাস, রূহানিয়াত, দাওয়াতের ফিকির না থাকে, তাহলে রবীন্দ্রনাথের ঐ কবিতার মতো দুনিয়াবী শৈল্পিক মূল্য ছাড়া এটার আর কোন মূল্য নাই।
১৩৩. ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথার উদৃতি দিয়ে একবার স্যার বলেন…
ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহির কথার উদৃতি দিয়ে একবার স্যার বলেন, সবচেয়ে মিথ্যুক হলো মানুষের চোখ। ও আসলটা দেখায় না। আগে কি, পড়ে কি, হক্বীকত কি দেখায় না, সবচেয়ে মিথ্যাবাদী হলো মানুষের চোখ। একজন যুবক এই মুহূর্তে তাকে সুঠাম দেহে আমরা দেখছি, বিশ বছর পরে সে কি বৃদ্ধ হবে, না ক্যানসার হবে, না মরে যাবে তা আমরা দেখছি না। ধন সম্পদ, রাজত্ব, বিলাসিতা, কর্তৃত্ব এর চমকটা সে দেখায়, কিন্তু এর হাক্বিকত টা সে দেখায় না, আগের পরের টা সে দেখায় না। সকালের রাজা বিকালের ফকির, এখনকার দাপটি কিছুক্ষণ পরের লাশ, বর্তমানের বিলাসিতার আসবাব কিছুদিন পরের অশান্তি, এগুলো সে দেখায় না। পরের কি অবস্থা, পরিণতি কি, এইটা তাকে দেখতে দেয় না।পাহাড় সমুদ্র ইত্যাদি সারা দুনিয়াকে চোখ দেখে কিন্তু নিজের চেহারাকে দেখতে পারে না, নিজেকে দেখতে ওর আয়না লাগে।
১৩৪. স্যার একবার সায়ীদ আবুবকর ভাইয়ের বাসায় (ঝিনাইদহ) গেলে উনি…
স্যার একবার সায়ীদ আবুবকর ভাইয়ের বাসায় (ঝিনাইদহ) গেলে উনি স্যারের সাথে কথার মাঝে উনার ছেলেকে হাফেজ বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। স্যার হিফস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শেক সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহির কথার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, কোরআন শরীফ হিফস রাখাটা মরুভূমিতে উটের মতো, উটকে যদি আবদ্ধ বা রশি দিয়ে বেঁধে না রাখা হয় তাহলে মরুভূমিতে উট হারিয়ে যায়। কোরআন শরীফ ও যদি নিয়মিত তেলাওয়াত না করা হয় তাহলে হাফেজের নিকট থেকে কোরআন শরীফ হারিয়ে যায়। একমাস পড়লাম আরেকমাস পড়লাম না, একবছর খুব ভালো পড়লাম, আরেক বছর অন্য ব্যস্ততায় পড়া হলো না, তো হিফজ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, নিয়মিত তেলাওয়াত করতে হয়।
১৩৫. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, নামাজ আল্লাহর জন্য হলে সেটা…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন, নামাজ আল্লাহর জন্য হলে সেটা নামাজ হবে, কুরবানী আল্লার জন্য হলে সেটা কুরবানী হবে। আল্লাহ পাকের জন্যই যদি আমল না হয় তাহলে অনেক বড় আমল আর আমল থাকে না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে অবস্থান, সফর, জেহাদ ইত্যাদি থাকার পরও মোনাফেকদের সাহাবী বলা যাবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মোনাফেকেরা নামাজ পড়েছেন, একসাথে থেকেছেন, জেহাদে গেছেন তাদের এই অংশগ্রহনকে আমল বলা যাবে না। তাদের নামাজ নামাজ ছিল না, তাদের জেহাদ জেহাদ ছিল না। ইবলিসের এবাদতের কমি ছিল না, হাজারো লাখো বছরের এবাদত তাকে ফেরেশতাদের উপরে উঠিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার এবাদতকে এবাদত বলা যাবে না। ও তো আল্লাহর সামনেই আল্লাহ পাকের এবাদত করেছে কিন্তু তার নাপাক জজবা তাকে আবেদ থেকে অহংকারী বানিয়েছে, ইবলিস বানিয়েছে, ওর এবাদত এবাদত ছিল না, এবাদত বলা যাবে না।
১৩৬. একবার আশরাফ আলী থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এক মেছালের…
একবার আশরাফ আলী থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এক মেছালের উদৃতি দিয়ে স্যার বলেন, একব্যাক্তির ছাপা খানার ব্যবসা, নিজেকে কিছু বিশেষ জ্ঞান সম্পন্ন মনে করে, প্রায়ই ছাপাখানায় প্রকাশনার কাজে নিজে থেকেই কিছু সংশোধন করে দেয়। একবার এক ব্যাক্তি তাকে কোরআন শরীফ ছাপাতে দেয়, কোরআন শরীফ, আল্লাহর কালাম, এখানেতো আর কোন সংশোধন করবে না, যেভাবে আছে এভাবেই ছাপিয়ে দিবে তার বিশ্বাস। ডেলিভারীর দিন ছাপানো কোরআন শরীফ নিতে গিয়েছে, যদিও তার বিশ্বাস কোরআন শরীফে নিজে থেকে কোন পরিবর্তন করবেন না, তারপরেও তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কিছু আবার সংশোধন করেননি তো? উনি বললেন, ভাই কালামে পাকের মধ্যে ইহুদী, খীষ্ট্রান, ইসলামের শত্রুরা ফেরাউনের নাম, কারুনের নাম, আবু লাহাবের নাম এরকম বড় বড় কাফেরদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে, পাক কালামের মধ্যে এসব কাফেরের নাম, ওগুলো আমি একটু সংশোধন করে দিয়েছি। ভাই তো কি সংশোধন করলেন? কালামের পাকের মধ্যে থেকে ওই কাফেরদের নামগুলো বাদ দিয়ে তোমার নাম আর আমার নাম লিখে দিয়েছি। আমরা কাফেরতো না বরং ঈমানী আমালের সাথে থাকি, মুসলমান হিসেবে দাবী রাখি। যেকোন কিছুকে ও একটু সংশোধন করতে চায়, কিছু পন্ডিতি করে দেয়। এরকমের কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের কিছু বিশেষ মর্যাদার মনে করে এবং সবক্ষেত্রে নিজের কিছু কৃতিত্ত্ব দেখাতেও পছন্দ করে। সবক্ষেত্রেই কিছু কমি আছে তার নজরে সে দেখে, কিছু ভূল তার নজরে পড়ে, যেহেতু ও সবকিছু একটু ফ্রেস চায়, নিজের কিছু দর্শন না ঢাললে তো আর ফ্রেস পাচ্ছে না, যেকোন কিছুতে একটু সংশোধন চায়, নিজের কিছু চিন্তা ভাবনা, নিজের কিছু দর্শন, কিছু পন্ডিতি ও রাখতে চায়।
১৩৭. এক ভাইয়ের ব্যবসার চিন্তা ভাবনার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে…
এক ভাইয়ের ব্যবসার চিন্তা ভাবনার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্যার একবার বলেন, একজন বিড়ালের চামড়া রপ্তানি করতে চায়, লাভজনক ব্যবসা, বিরাট রপ্তানির খাত, বিড়ালের ফার্ম দিবে, বিড়ালের বিশাল ফার্ম, বিড়াল খাবে কি, সুন্দর আইডিয়াও ঠিক করে নেয়, ও ইঁদুরের ফার্ম দিবে, তো ইঁদুর খাবে কি, তার জন্য তো বিশেষ ব্যবস্থার আর দরকার পড়বে না, বিড়ালের চামড়া বের করতে গিয়ে ইদুঁরের যে গোসত রক্ত থাকবে সেগুলো ইদুঁর খাবে। বিড়াল ইদুঁর খাবে, ইদুঁর বিড়াল খাবে, মাঝখানে আমার বিশাল প্রফিট। কি আজিব ব্যবসার আইডিয়া, কি সহজ ও কি সুন্দর ব্যবসা! বড় বড় ব্যবসার চিন্তা ভাবনা করা সহজ, প্ল্যান করা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। প্রাসঙ্গিক কথায় স্যার আরো বলেন, মার্কেটিং কি, মার্কেটিং হলো সাহারা মরুভূমির মধ্যে প্রচন্ড গড়মের দিনে কম্বল বিক্রি করা। প্রচন্ড গড়মের দিন, জায়গা হলো মরুভূমি, বিক্রি করছে কম্বল, বিক্রিও বেশ হচ্ছে, ও মার্কেটিং করছে।
১৩৮. এক মোজাকারায় স্যার বলেন, হত দরিদ্র ব্যক্তি, বয়স্ক বৃদ্ধ…
এক মোজাকারায় স্যার বলেন, হত দরিদ্র ব্যক্তি, বয়স্ক বৃদ্ধ, আবার দ্বীনি যোগ্যতা এরকম যে কালেমাটাও ঠিকমতো বলতে পারে না, এরকম ব্যাক্তিকে লক্ষ্য করে মাওলানা মনজুর নোমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি কে প্রশ্ন করলেন, এদেরকে দিয়ে আপনি কি করবেন, এরা আপনার কি কাজে লাগবে, এরা আপনার মেহনতে কিভাবে সহায়তা করবে, কালেমা ই জানে না, ও কি তবলিগ করবে। হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন আমি তো এদেরকেই চাই। সে আল্লাহ পাকের রাস্তায় চলতে থাকবে, হোচঁট খাবে, আহ বলে উঠবে, কোন আহ যে আল্লাহ কবুল করবেন। ঐ কোন আহ কে কবুল করে আল্লাহ পাক হেদায়েতের দরজা খুলে দেবেন। বয়ানের মধ্যে কাঁন্না করা স্যারের স্বভাব বিরূদ্ধ ছিল, সাধারণত স্যার বয়ান বা কথাবার্তার মধ্যে কাদঁতেন না, কিন্তু এই কথা বলার সময় “কোন আহ যে আল্লাহ কবুল করবেন” স্যার কান্না সংবরণ করতে পারেন নাই, স্যারের চোখে পানি চলে আসে। স্যার বলেন, মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দৃষ্টি, একজন মানুষ যখন খুজঁতে থাকে তখন তার দৃষ্টি কেমন হয়, আমরা একজন কামলা লোক, ফকির লোক, অসুস্থ লোক, বৃদ্ধ লোক, মূর্খ লোক, তার ভেতর কিছুই হয়তো দেখতে পাব না, কিন্তু মাওলানা ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি তার মধ্যে কতবড় সম্পদ দেখছেন। চলতে ফিরতে এদের কোন আহ যদি আল্লাহ পাকের দরবারে কবুল হয়, তো আল্লাহ উম্মতের হেদায়েতের ফায়সালা করবেন। এই যে দৃষ্টিভঙ্গি, এই দৃষ্টি, সহজ ও স্বাভাবিক জিনিষ না।
১৩৯. মুজাদেদ্দে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথার উল্লেখ করে একবার…
মুজাদেদ্দে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথার উল্লেখ করে একবার মাহফুজুর রহমান ভাই বলেন যে আল্লাহ পাক আমাকে সমস্ত জাহেরী এলম দান করলেন, তারপর সমস্ত বাতেনী এলেম দান করলেন, তারপর হাকীক্বতের মাকামে আল্লাহ আমাকে উঠালেন, তারপরও আল্লাহ পাক আমাকে তরক্বী দান করলেন যা প্রকাশ্যে বলা যাবে না। এরপরও আমি তিনটা দোয়া করি, আয় আল্লাহ আমাকে সুন্নতের অনুসরণের তওফীক দাও, আমাকে সুন্নতের জীবন দাও, সুন্নতের উপর মৃত্যু দাও । একথা বলে উনি স্যারকে জিজ্ঞেস করলেন, একজন মানুষের পক্ষে সমস্ত জাহেরী এলেম অর্জন করা কিভাবে সম্ভব, দেওবন্দেই আছে চার লাখ কিতাব, এতো তফসীর, এতো হাদীস, এতো কিতাব, এতো এতো জাহেরী এলম অর্জন একজন মানুষের পক্ষে কিভাবে সম্ভব, ফাতহুল বারী ৫২ খন্ড, কানজুল উম্মাল ৮ খন্ড, মুসনদে আহমাদ ৪০ খন্ড, এই ৪০ খন্ড পড়তেইতো ৪০ বছর কেটে যাবার কথা, জাহেরী সব এলেম উনি হাসিল করলেন কিভাবে। মাহফুজ ভাইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই স্যার উত্তর দিলেন, একজন মানুষের পক্ষে অর্জন করা, অর্জন করে ফেলা তো সম্ভব নয়, কিন্তু আল্লাহ পাক যদি দান করেন তাহলেতো সম্ভব, আল্লাহ কাউকে দান করলে তারজন্য পাওয়া সম্ভব।
১৪০. পাকিস্থানের রাইউন্ড মার্কাজ মসজিদে স্যার মুজা পড়ে ছিলেন, ভাই…
পাকিস্থানের রাইউন্ড মার্কাজ মসজিদে স্যার মুজা পড়ে ছিলেন, ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাব দেখে স্যারকে একটু ধমকের সূরে বললেন, তুমি বুড়া হয়ে গেছো যে মুজা পড়েছো। তারপর থেকে স্যার পারতপক্ষে আর মুজা পড়তেন না। একথা যখন স্যার শুনাচ্ছিলেন, তখন মাহফুজুর রহমান ভাই বললেন, স্যার আপনি এখনতো বুড়া হয়ে গেছেন, এখন মুজা পড়তে পারেন। স্যার বললেন মুজা একধরনের বিলাসিতা। মাহফুজুর রহমান ভাই বললেন, মুজা বিলাসিতা না স্যার, আমার বোনারপাড়া বাজারে ১০ টাকায় ২ জোড়া মুজা পাওয়া যায়, রিক্সাওয়ালারাও মুজা পড়ে, মুজা বিলাসিতা না। স্যার বললেন, তুমি যতই যাই বলো- মুজা বিলাসিতা। স্যারের চামড়ার একজোড়া মুজা ছিল, কিন্তু কঠিন শীতের মধ্যেও স্যারকে মুজা পড়া দেখা যেতো না, কনকনে শীতের মধ্যে সফরে, চিল্লার সফরে একদিনের জন্যেও স্যারকে মুজা পড়া দেখা যায় নাই। তবে স্যার ফ্রান্সে ও আমেরিকায় যাবার পূর্বে ব্যাগে চামড়ার মুজা জোড়া নিতে দেখেছি, সম্ভবত লম্বা প্লেনের যাত্রায় ওজুর সুবিধার জন্য যাত্রাকালীন সময়ে মুজা পড়তেন।
← আগের পর্ব (১০১–১২০) | সূচিপত্র | পরের পর্ব (১৪১–১৬০) →
সংগ্রহ ও সংকলন: মুশফিক আহমদ (রহঃ)-এর মালফুযাত সংকলন।
